দেশে বিদ্যুতের কাজ নজরদারিতে আনতে, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং দুর্ঘটনা রোধে নতুন বিধিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই বিধিমালার অধীনে বিদ্যুৎ স্থাপনার কাজ তদারকির জন্য ইঞ্জিনিয়ার, ইলেকট্রিশিয়ান ও ঠিকাদার হিসেবে কাজ করার জন্য লাইসেন্স নিতে হবে।
‘প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দফতরে বিদ্যুৎ লাইসেন্সিং বোর্ড বিধিমালা, ২০২১’ নামে এ বিধিমালার খসড়াটি আজ বৃহস্পতিবার আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় চূড়ান্ত করা হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব বি. এম রুহুল আমিন রিমন স্বাক্ষরিত নোটিশ থেকে জানা যায়, এই বিধিমালা বাস্তবায়নের জন্য ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি বোর্ড গঠন করা হবে। প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শক পদাধিকার বলে এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন।
বিধিমালা অনুযায়ী, ইলেকট্রিশিয়ান, বৈদ্যুতিক সুপারভাইজার ও বৈদ্যুতিক ঠিকাদার লাইসেন্স হবে ৩ ধরনের। সর্বনিম্ন চাপের জন্য সি-শ্রেণি, মধ্যম চাপের জন্য বি-শ্রেণি এবং উচ্চ ও অতি উচ্চ চাপের জন্য এ-শ্রেণি। বি-শ্রেণির লাইসেন্স নিতে হলে সি- শ্রেণি এবং এ-শ্রেণির লাইসেন্স নিতে হলে ‘বিসি’ শ্রেণির লাইসেন্স থাকতে হবে। নির্ধারিত ফি এবং নির্দেশিত কাগজপত্র জমা দিয়ে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। এরপর বোর্ড প্রার্থীর তাত্ত্বিক/ব্যবহারিক জ্ঞান, যোগ্যতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা যাচাই এবং ঠিকাদারের যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করার জন্য লিখিত/তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা নেবেন।
লাইসেন্সপ্রাপ্ত কেউ দায়িত্বে অবহেলা, অযোগ্যতা, বিদ্যুৎ আইন, বিদ্যুৎ বিধিমালা বা লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধ করলে বোর্ড তার লাইসেন্স সাসপেন্ড বা বাতিল এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে।
প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শক দফতরের সচিব আতোয়ার রহমান মোল্লা সময়ের আলোকে বলেন, স্বাধীনতার আগে ১৯৩৭ সালে করা আইনটি রহিত করে বিদ্যুৎ বিধিমালা-২০২০ করা হয়। এর আগে ১৯৬১ সালের রেগুলেশনের ভিত্তিতে (যা ইংরেজিতে করা) লাইসেন্স দেওয়া হতো। আগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে লাইসেন্স দেওয়া হতো। ফলে ১৯৬১ সালের রেগুলেশনটিও রহিত হয়ে যায়। এ জন্যই লাইসেন্সের নতুন বিধিমালা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
তিনি বলেন, এখন অনলাইনে লাইসেন্স দেওয়া হয়। অনলাইনে আবেদন করতে হয়। এখন যে বিধিমালা করা হচ্ছে সেটা বাংলায় করা হয়েছে। তখনকার প্রেক্ষাপট আর এখনকার প্রেক্ষাপট এক নয়। তাই নতুন বিধিমালার প্রয়োজন রয়েছে। আগের চেয়ে লাইসেন্স ফি কিছুটা বেড়েছে।
তিনি বলেন, ওই সময়ে যে রেগুলেশনে অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। এখন যে বিধিমালা করা হচ্ছে সেটি সময়োপযোগী ও আধুনিক। এতে ইলেকট্রিশিয়ানদের শিক্ষাগতযোগ্যতাসহ নতুন কিছু শর্ত যোগ করা হয়েছে। বর্তমানে ৭০ হাজার ইলেকট্রিশিয়ান, ২০ হাজার ঠিকাদার এবং ২৫ হাজার ইঞ্জিনিয়ার লাইসেন্সধারী রয়েছেন। এটা করা হলে সারা দেশের বিদ্যুতের কাজ নজরদারির আওতায় আসবে এবং এই সেক্টরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাবে।
/জেডও/