একুশের চেতনাকে ধারণ করে প্রতিবছর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় প্রাণের বইমেলা। প্রতিদিনই প্রকাশিত হচ্ছে শতাধিক বই। কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও ছোটগল্পের বইগুলোর মধ্যে বিশাল একটা অংশই ইতিহাসের ওপর। এ বছর ৬ দিনে মোট ৪৬৮টি বই প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে উপন্যাস ৩১টি এবং কবিতার ৭০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। তবে অমর একুশকে কেন্দ্র করে বইমেলা অনুষ্ঠিত হলেও ভাষা আন্দোলনের ওপর বইয়ের সংখ্যা একেবারেই হাতেগোনা।
গতকাল মেলাপ্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে , প্রতিবছরের মতোই এবারও বইমেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়েছে শত শত বিভিন্ন বই। আছে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি, রম্য ও ধাঁধা, সায়েন্স ফিকশন, ধর্মীয় গ্রন্থের পাশাপাশি বিদেশি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় রূপান্তরিত বা অনূদিত বই। বইমেলায় দেশের বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার কয়েকশ স্টল ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে গল্প, কবিতা, উপন্যাসের ছড়াছড়ি থাকলেও একুশ ও ভাষা নিয়ে প্রকাশিত মাত্র ছয়টি নতুন বই পাওয়া গেছে! প্রকাশকদের দাবি, ভাষা আন্দোলন নিয়ে পাণ্ডুলিপি না পাওয়া, লেখক না থাকা, বাজার চাহিদার কারণেই বই প্রকাশ হয় না।
অবসর প্রকাশনীর নুর-ই-মুনতাকিম আলমগীর বলেন, ভাষা আন্দোলন নিয়ে মেলায় বই প্রকাশ করা প্রকাশনীদের নিজেদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। পাঠকদের পড়ার চাহিদা, বাজার চাহিদা সবকিছু মিলিয়ে প্রকাশনীগুলো বই প্রকাশ করে থাকে। তবুও প্রতিবছর মেলায় ভাষা আন্দোলন নিয়ে বা ভাষা নিয়ে কিছু কিছু বই প্রকাশ করা হয়। তবে আমাদের প্রকাশনায় এবার হয়নি।
নালন্দা প্রকাশনীর প্রকাশক রেদওয়ানুর রহমান জুয়েল বলেন, ভাষা আন্দোলন নিয়ে লিখতেন মূলত ভাষা সৈনিকরা, যাদের বেশিরভাগই এখন মৃত। এ ছাড়া বাজার চাহিদা, প্রকাশকদের ইচ্ছা, সে রকম পাণ্ডুলিপি না পাওয়া ইত্যাদি কারণে মূলত ভাষা বা ভাষা আন্দোলন নিয়ে বই প্রকাশ হয় না তেমন। এদিকে টানা দু’দিনের জমজমাট বেচাকেনার পর গতকাল রোববার বইমেলায় ছিল স্থবিরতা। বেরসিক বৃষ্টিতে কেটেছে পাঠকহীন সন্ধ্যা।
দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা হলে পাঠকদের আনাগোনায় মুখরিত হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমির মেলাপ্রাঙ্গণ। শিশুচত্বর ঘিরে দেখা মেলে শিশুপাঠকদের হৈ-হুল্লোড়। তবে গতকাল মেলায় হঠাৎ বৃষ্টিতে ব্যত্যয় ঘটে। সন্ধ্যার চিরচেনা রূপ হয়ে ওঠে অচেনা। মুহূর্তেই মেলাপ্রাঙ্গণ হয়ে যায় জনশূন্য। পাঠকরা আশ্রয় নিতে থাকে বড় বড় স্টল কিংবা ছাউনিতে।
এদিন মেলা শুরুর আগে থেকেই আবহাওয়া ছিল মন্দা। গুমট আবহাওয়া দেখে শুরু থেকেই মাইকে ঘোষণা করা হচ্ছিল, ‘আজ যে কোনো সময় বৃষ্টি আসতে পারে। তাই সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান করা হচ্ছে।’
বইমেলার ষষ্ঠ দিনে রোববার মেলা চলে দুপুর ২টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। গতকাল বইমেলায় নতুন বই এসেছে ৮৯টি। আজ মেলা শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।
গতকাল বিকাল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : বিশ^শান্তি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জিয়া রহমান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জালাল ফিরোজ এবং খান মাহবুব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্যামসুন্দর সিকদার।
/আরএ