ছুটির দিনে গতকাল শুক্রবার মেলায় ছিল শিশুদের উপচে পড়া ভিড়। শিশুপ্রহর উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক শিশু অভিভাবকদের হাত ধরে এসেছিল মেলায়। ছুটির দিনে শিশুদের কলতানে মুখরিত ছিল মেলা।
গতকাল মেলা শুরু হয় বেলা ১১টা থেকে। মেলা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এদিন ছিল পূর্বনির্ধারিত শিশুপ্রহর। এতে ছিল শিশুদের প্রিয় সিসিমপুরও। সিসিমপুর ছিল বেলা ১১টায়, বেলা ৩টায় ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শিশুপ্রহরে। শিশুচত্বরে বইপ্রেমী খুদে পাঠকদের ভিড় লেগেই ছিল। শিশুদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে ছিল রূপকথা বিষয়ক বই।
একটা সময় ছিল যখন দাদি, ফুফু ও খালামণিদের মুখে রাজা-রানীর রূপকথার গল্প শুনে ঘুমের কোলে ঢলে পড়ত শিশুরা। যুবরাজ আর মাৎস্যকন্যারা বিচরণ করত তাদের স্বপ্নের রাজ্যে। ডাইনি বুড়িদের প্রতি থাকত এক অজানা ভীতি। না খেতে চাইলে বা ঘুম না এলে শুনতে হতো রাক্ষসের ভয়ঙ্কর মুখশ্রীর বর্ণনা। তবে আধুনিক সময়ে এ চিত্র দেখা না গেলেও এসব রূপকথার গল্পের প্রতি একেবারেই আগ্রহ হারিয়ে যায়নি শিশুদের।
গতকাল সরেজমিন মেলা প্রাঙ্গণের শিশুচত্বর ঘুরে দেখা গেছে শিশুরা রূপকথা বিষয়ক বই কিনছে বেশি।
রূপকথার গল্পগুলো এখন টিভিতেও ব্যাপকভাবে প্রচার হয়। তাই টিভিতে দেখা সেসব ভৌতিক গল্পের বই দেখলেই তারা ছুটে চলে সেদিকে। বাধ্য হয়েই এসব বই কিনে দিতে হচ্ছে শিশুদের।
অন্যদিকে গতকাল অমর একুশে বইমেলার ২৫তম দিনে নতুন বই এসেছে ৩১২টি। বিকাল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘নান্দনিক সমাজ গঠনে আবৃত্তির ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিমাই মণ্ডল। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন লায়লা আফরোজ এবং শাহাদাৎ হোসেন নিপু। সভাপতিত্ব করেন কবি জাহিদুল হক।
প্রাবন্ধিক বলেন, শুভ বোধসম্পন্ন যা আমাদের নন্দিত করে অর্থাৎ আনন্দ দেয় তাই নান্দনিক। শুভ চেতনা, সুন্দর চেতনা যখন মঙ্গলময় সমাজ নির্মাণ করে তখন সেটিই হয় নান্দনিক সমাজ। যেকোনো শিল্পই শুভ-সুন্দর চেতনা দিয়ে নান্দনিক সমাজ গঠনে সহায়ক। আবৃত্তি একটি শিল্প বিধায় আবৃত্তিও নান্দনিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। আবৃত্তি মনকে পরিশুদ্ধ করে, চেতনাকে জাগ্রত করে। কবিতার বিষয় এবং পঙ্ক্তিগুলো যদি যথাযথ আবৃত্তির মাধ্যমে অর্থসহ শ্রোতার কাছে পৌঁছানো যায়, তা হলে সেটা মানুষের নান্দনিক চিন্তা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
আলোচকরা বলেন, ইতিহাসের ধারাবাহিকতার দিকে তাকালে দেখা যায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত নানা আন্দোলন-সংগ্রামে কবিতার ভাষা আবৃত্তির মাধ্যমে গণমানুষের প্রতিবাদের ভাষায় রূপান্তরিত হয়েছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে আবৃত্তিচর্চা আরও জোরদার হয়েছে। বৈষম্যহীন, মানবিক ও নান্দনিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আবৃত্তিচর্চার পরিসর ও নতুন নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জাহিদুল হক বলেন, আবৃত্তি এমন এক নান্দনিক শিল্প যা মানুষকে মানবিক ও পরিশুদ্ধ করে তোলে। আবৃত্তি শিল্প অভিনয় শিল্পেরই অংশ। মহৎ কবিদের কবিতায় যে বাণী থাকে তা আবৃত্তিশিল্পী তার অভিনয়-দক্ষতায় মানুষের অন্তরে পৌঁছে দেন এবং মানুষের মধ্যে মানবপ্রেম, প্রকৃতিপ্রেম ও দেশপ্রেমকে জাগ্রত করেন। তখনই সমাজ নান্দনিকতাপূর্ণ হয়ে ওঠে।