দুশ্চিন্তা ও হতাশা এখন প্রত্যেক মানুষের জীবনের একটি অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু কিছু সহজ উপায় আছে, যেগুলো অনুসরণ করলে আপনার দুশ্চিন্তা ও হতাশা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
প্রথমত হাঁটা, নাচ, রক ক্লাইম্বিং বা যোগব্যায়াম করার রুটিন বা কার্যকলাপে লেগে থাকার চেষ্টা করতে হবে- যা মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ দূর করতে সাহায্য করবে। নিয়মিত ব্যায়াম স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমায় এবং এন্ডোরফিন নিঃসরণে সাহায্য করে, যা মন-মেজাজ ভালো রাখে এবং
প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত ব্যায়াম আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও কাজ করে, যার ফলস্বরূপ মানসিকভাবে সুস্থ থাকা যায়।
উদ্বেগ কমাতে ধ্যানের (মেডিটেশন) চর্চা করা হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। বলা হয়ে থাকে মাত্র ৩০ মিনিটের ধ্যান মানসিক চাপ প্রশমনে ওষুধ সেবনের চেয়েও বেশি উপকারী। নিয়মিত ধ্যান মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অস্থিরতা প্রশমনে ও ভালো ঘুমে সহায়ক।
দুশ্চিন্তাকে মাথা থেকে দূরে রাখতে হলে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। আপনার মস্তিষ্ক এবং হাত ব্যস্ত থাকে এমন কোনো কাজ করুন। যেমন গেম খেলুন বা কোনো হস্তশিল্প তৈরি করুন। বলা হয়ে থাকে, ‘অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা’। এটি কিন্তু বাস্তবিকই সত্য। আপনি কোনো কাজ না করে অলসভাবে শুয়ে বসে থাকলে হতাশা আর দুশ্চিন্তা আপনাকে ঘিরে ধরবে, এটাই স্বাভাবিক। তাই যেকোনো প্রোডাক্টিভ কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।
জীবন অনেক বড়, তাই নিজেকে গুটিয়ে রাখবেন না। আপনি যত বেশি মানুষের সঙ্গে মিশবেন আপনার মন তত বড় হবে। মানুষের সঙ্গে মিশলে আপনার অভিজ্ঞতা বাড়বে এবং আপনার যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো ক্ষমতা তৈরি হবে।
ক্যাফেইন খুব দ্রুত আপনার ইন্দ্রিয়কে সজাগ করে তোলে এবং মানসিক চাপবর্ধক হরমোনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। এটা তখনই ভালো যদি আপনি কোনো হিংস্র বাঘের মুখে পড়েন। তাই ঘন ঘন চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস ছাড়ুন। কেননা এসবে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন থাকে। এমনকি জিরো-ক্যালরি বা চিনিহীন বলে বাজারজাত করা কোমল পানীয় থেকেও নিজেকে দূরে রাখুন।
আরএস/