ভোলায় পুলিশের বর্বরোচিত হামলায় দলের অঙ্গ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রহিমের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এর প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
কর্মসূচি হচ্ছে, সোমবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেসহ সারাদেশে মহানগর এবং জেলা সদরে কালো ব্যাচ ধারণ ও গায়েবী জানাযা।
মঙ্গলবার (২ আগস্ট) ঢাকাসহ সারাদেশে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিম হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ।
রোববার (৩১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানান দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
অপর এক বিবৃতিতে স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, সারাদেশে নজীরবিহীন লোডশেডিং ও জ্বালানিখাতে অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আজ দেশব্যাপী জেলায় জেলায় বিএনপি’র কেন্দ্র ঘোষিত প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশের অংশ হিসেবে ভোলা জেলায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশ বেপরোয়া হামলা চালায়।
এতে পুলিশের গুলিতে দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব প্রার্থী আব্দুর রহিম নিহত হয়। এছাড়া পুলিশের গুলিবর্ষণে গুরুতর আহত হয়েছে-ভোলা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আমিন (গুলিতে মাথা ও শরীরে আঘাতপ্রাপ্ত), পূর্ব ইলিশ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক প্রার্থী আঃ রহমান, সদস্য সচিব প্রার্থী হারুন জমাদার, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ঈমন, নাঈম, কাশেম, সুমন, রায়হান, কাচিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস, পশ্চিম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাবিব, ইসমাইল, দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইউছুফ, উত্তর দিঘলদী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাকিব, যুগ্ম আহবায়ক প্রার্থী জসিম, ভেলুমিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাকিব, রিয়াজ, রফিক মেস্তুবা সহ শতাধিক নেতাকর্মী। এদের মধ্যে ৪/৫ জনের অবস্থা আশংকাজনক। এছাড়া একই কর্মসূচি পালনকালে কুষ্টিয়া শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সোহানুর রহমান লিংকনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের এধরণের ন্যাক্কারজনক ও অমানবিক কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তারা।
নেতৃদ্বয় বলেন, আজ বিএনপি’র কেন্দ্র ঘোষিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ভোলা, ঝালকাঠি ও কুষ্টিয়ায় পুলিশের ন্যাক্কারজনক হামলা এবং গুলি চালিয়ে ভোলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা ও শতাধিক নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করার ঘটনা সরকারের সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনারই প্ররিণতি। সরকারের অপকর্মের বোঝা এতই ভারী হয়ে গেছে যে, তারা মিথ্যাচার ও সন্ত্রাসকেই এখন আদর্শিক কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করেছে। কিন্তু কোন নীলনকশাই সফল হবে না। বরং এসমস্ত রক্তাক্ত পথ অবলম্বন করে আওয়ামী সরকার জনগণের মন থেকে চিরতরে মুছে যাচ্ছে। আওয়ামী সরকারের পতন খুবই সন্নিকটে।
নেতৃদ্বয় বিবৃতিতে পুলিশের গুলিতে ভোলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রহিমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকার্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী সহ আহত নেতাকর্মীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
/ডিএফ