এডিস মশার কারণে হয় ডেঙ্গু জ্বর। এডিস মশা কোনো ব্যক্তিকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এভাবে একজন থেকে অন্যজনে ডেঙ্গু ছড়িয়ে যায়। ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দিলে অতি দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। সেইসঙ্গে আপনাকে খাবারের প্রতিও বিশেষভাবে মনোযোগী হতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে জেনে নিন, কোন খাবারগুলো খাবেন আর কোন খাবারগুলো এড়িয়ে যাবেন-
যে খাবারগুলো বেশি করে খাবেন
ডাবের পানি : ডেঙ্গুর জ্বর হলে শরীরে তরল পদার্থের শূন্যতা সৃষ্টি হয়। সৃষ্টি হয় ডিহাইড্রেশন। এ সময় বেশি বেশি করে ডাবের পানি পান করলে উপকার পাওয়া যাবে। কেননা ডাবে রয়েছে ইলেকট্রোলাইটসের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি।
কমলা : কমলা ও কমলার রস ডেঙ্গু জ্বরে ভালো কাজে আসতে পারে। কারণ এটিতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আর এই দুটি উপাদান ডেঙ্গু জ্বর নিয়ন্ত্রণে ভালো কাজ করে।
ডালিম : ডালিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন। সেইসঙ্গে এতে রয়েছে পরিমাণ মতো মিনারেল। যদি আপনি নিয়ম করে ডালিম খান তা হলে বেড়ে যাবে প্লাটিলেটের সংখ্যা। এই উপকারী ফলটি খেলে ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভূতিও দূর হবে। প্রাচীনকাল থেকে এই ফলটি রোগ নিরাময়ের পথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পেঁপে পাতার জুস : ডেঙ্গু জ্বর হলে রোগীর শরীরে কমে যেতে পারে প্লেটলেট। তাই এ সময় আপনার উপকার করতে পারে পেঁপে পাতা। পেঁপে পাতা পাপাইন এবং কিমোপেইনের মতো এনজাইম সমৃদ্ধ যা হজমে সহায়তা করে। সেইসঙ্গে বৃদ্ধি করেতে পারে প্লাটিলেটের পরিমাণও। সে জন্য আপনাকে প্রতিদিন নিয়ম করে ৩০ এমএল পেঁপে পাতার তৈরি জুস খেতে হবে। আপনি ঘরে বসেই তৈরি করতে পারবেন এ জুস।
হলুদ : ডেঙ্গু জ্বরে কাজে আসতে পারে হলুদও। এর জন্য আপনাকে এক গ্লাস দুধের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে পান করতে হবে। এটি আপনাকে অতি দ্রুত সুস্থ করে তুলবে।
পালংশাক : পালংশাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং ওমেগো-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এটি আবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। এই শাকটি বেশি করে গ্রহণ করলে অতি দ্রুত প্লাটিলেট বৃদ্ধি পায়।
মেথি : ডেঙ্গু জ্বর হলে কাজে আসবে মেথি। এটি আপনাকে অতি সহজে ঘুমিয়ে যেতে সহায়তা করেবে। সেইসঙ্গে সহয়তা করবে অতিরিক্ত মাত্রার জ্বর কমিয়ে আনতে। তবে মেথি গ্রহণ করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরমার্শ করে নিতে হবে।
ব্রুকলি : ব্রুকলি হলো ভিটামিন কে’র একটি ভালো উৎস। অন্যদিকে ভিটামিন কে রক্তের প্লাটিলেট বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খনিজসমৃদ্ধ। যদি কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন, তা হলে অবশ্যই বেশি করে ব্রুকলি খাবেন।
কিউইফল : কিউইফলটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন পাওয়া যায়। সেইসঙ্গে এটিতে পটাশিয়ামও রয়েছে। এই ফলটি বেশি খাওয়ার ফলে ইলেকট্রোলাইট স্তর এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ ফলটি খেলে লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
ডেঙ্গু জ্বরের সময় যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত
তৈলাক্ত ও ভাজা খাবার : ডেঙ্গুতে জ্বর হলে অবশ্যই তৈলাক্ত ও ভাজা খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। এই খাবারগুলো খেলে উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
মসলাযুক্ত খাবার : ডেঙ্গু রোগীকে অবশ্যই মসলাযুক্ত খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। এই ধরনের খাবার বেশি করে খেলে পাকস্থলীর দেয়াল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ক্যাফিনযুক্ত পানীয় : ডেঙ্গু হলে তরল খাবার বেশি করে খেতে হবে। সেইসঙ্গে ক্যাফিনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। এই খাবারগুলো হার্ট রেট বাড়িয়ে দিতে পারে। সেইসঙ্গে ক্লান্তি নিয়ে আসতে পারে।