গাজা ও ইসরাইলের সংঘাত ব্যাপক মানবিক দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলেও এর প্রভাব পড়ছে। এই সংঘাত এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে যখন এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ইতিমধ্যেই মন্থর হতে শুরু করেছিল, যা ২০২২ সালের ৫.৬ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ২ শতাংশে নেমে আসে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বৃহৎ আকারের সংঘাত শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, অন্যান্য দেশের জন্যও একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এটি তেল, গ্যাস, খাদ্যশস্য সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসহ মৌলিক পণ্যগুলোর সমগ্র সরবরাহ চেইনকে ব্যাহত করবে। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (আইসিসিবি) ত্রৈমাসিক বুলেটিনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রোববার প্রকাশ করা হয় এই বুলেটিন।
এতে বলা হয়, ২০০৬ সাল থেকে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী জঙ্গি ইসলামি গোষ্ঠী হামাস এবং ইসরাইলের মধ্যে প্রায় তিন মাস ধরে যুদ্ধ চলছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্বরোচিত গণহত্যা, বিশেষ করে নবজাত শিশু, শিশু, নারী ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বর্বর হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ২১ হাজার ৮২২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫৬ হাজার ৪৫১ জন আহত হয়েছে। বিমান ও স্থল আক্রমণে হাসপাতাল, স্কুল, যুদ্ধের আশ্রয়কেন্দ্রসহ আবাসিক বাড়ি এবং প্রায় প্রতিটি অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। সর্বশেষ এক বিবৃতিতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে ২০২৪ সালেও যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।
২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া স্থল আক্রমণের আগে ইসরাইল উত্তর গাজার এক মিলিয়নেরও বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিককে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ইসরাইলি বাহিনী গাজা শহর ঘেরাও করেছে, এটি দক্ষিণ গাজা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং হামাসকে চেপে ধরেছে। ইসরাইল মানবিক বিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং প্রবেশ করতে পারে এমন সাহায্যের পরিমাণ সীমিত করেছে বলে এই অঞ্চলটিতে পানি এবং জ্বালানি সরবরাহ কমে গেছে।
আইসিসিসিবর বুলেটিনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামরিক শক্তি বাড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে কূটনৈতিক ও আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। আনন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ প্রয়োগ করছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরাইলকে ৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সামরিক সহায়তা প্রদান করছে এবং মার্কিন সরকার প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং তার মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে চলেছে। ইসরাইলকে অবশ্যই তার অধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি করতে হবে এবং পরাশক্তিকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক নীতির ক্ষেত্রে ন্যূনতম ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সনদের ৯৯ অনুচ্ছেদ আহ্বান করেছেন, মহাসচিব বিশ্বাস করে যে, বিষয়গুলো ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা’ হুমকির জন্য নিরাপত্তা পরিষদে বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। গুতেরেস বলেছেন, গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি ‘মানবিক ব্যবস্থার পতনের গুরুতর ঝুঁকি’ সৃষ্টি করেছে। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পোস্ট করেছেন যে, গুতেরেসের পদক্ষেপ ‘হামাস সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থন করে’। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর জন্য জাতিসংঘ সনদের ৯৯ অনুচ্ছেদের আহ্বান ইসরাইলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি।
সময়ের আলো/আরএস/