কয়েকটির দাম না কমে উল্টো বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

সরকার ২৯ কৃষি পণ্যের দাম বেঁধে দিয়েছিল গত শুক্রবার (১৫ মার্চ)। এরপর এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও দু’একটি ছাড়া আর কোনো

2024-03-20T22:14:51+00:00
2024-03-20T22:14:51+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
*আলুর সরকারি মূল্য ২৮.৫৫ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায় *বেঁধে দেওয়া অধিকাংশ পণ্যই বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে *ডিমের হালি কমে হয়েছে ৪০ টাকা
কয়েকটির দাম না কমে উল্টো বাড়ছে
মূল্য বেঁধে দেওয়া ২৯ পণ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মার্চ, ২০২৪, ১০:১৪ পিএম 
কয়েকটির দাম না কমে উল্টো বাড়ছে
সরকার ২৯ কৃষি পণ্যের দাম বেঁধে দিয়েছিল গত শুক্রবার (১৫ মার্চ)। এরপর এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও দু’একটি ছাড়া আর কোনো পণ্যের দাম কমেনি। উল্টো আলুর দাম আরো বেড়েছে। সরকারি মূল্য অনুযায়ী খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি করার হবার কথা ২৮ টাকা ৫৫ পয়সাতে, অথচ দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। বাকি পণ্যের মধ্যে ডিম, পেঁয়াজ এবং বেগুনের দাম ক্রেতার নাগালে আসলেও অন্য পণ্যগুলো বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে। বুধবার (২০ মার্চ) রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

কৃষি বিপণন অধিদফতর থেকে ২৯ পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা হয় গত শুক্রবার । তবে বিক্রেতারা ওই নির্দেশনা আমলে না নিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো পণ্য বিক্রি করছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭৫.৩০ টাকা নির্ধারণ হলেও বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা, গরুর মাংসের কেজি ৬৬৪.৩৯ টাকার জায়গায় ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি রসুন ১২০.৮১ টাকার বদলে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা, আমদানি করা আদা ১৮০.২০ টাকার স্থলে ২২০ টাকা, শুকনো মরিচ ৩২৭.৩৪ টাকার জায়গায় ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে ৪৯.৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বেগুনের দাম। বেগুন বাজারে এখন বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। ভ্যানে করে যারা বিক্রি করছেন তারা বেগুনের কেজি রাখছেন ২৫-৩০ টাকা। সাদা গোল বেগুনের কেজি রাখা হচ্ছে ৪০ টাকা, আব সবচেয়ে ভালো মানের লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়।

এছাড়া ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ার কথা চিড়া। তবে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৮০ টাকা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মুরগির দোকানগুলোতে টানানো মূল্য তালিকা অনুযায়ী এক কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। অথচ কৃষি বিপণন অধিদফতর খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করেছে ১৭৫ টাকা। সোনালি মুরগির দাম নির্ধারণ করেছে ২৬২ টাকা। রাজধানীর সবচেয়ে সস্তা বাজারখ্যাত কারওয়ান বাজারেই তা বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায়।

পেঁয়াজের বাজার গত এক সপ্তাহ ধরে নিম্নমুখী। রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। একই পেঁয়াজের দাম এখন কমে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। তবে বিপরীত চিত্র রয়েছে আলুর বাজারে। সপ্তাহ খানেকের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকার মতো। তবে এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে আরও বেশি; ১২ থেকে ১৫ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতি মুনাফার আশায় অনেকেই পেঁয়াজ মজুত করেছিল। কিন্তু ভারত থেকে পেঁয়াজ আসবে-এমন খবর বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। আবার ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের অনেকেই ক্ষেত থেকে অপরিণত পেঁয়াজ তুলে বাজারে জড়ো করছেন। এসব কারণে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, যা দাম কমানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।

বুধবার ঢাকার বেশ কয়েকটি বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। যদিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পেঁয়াজের দাম এখনও বেশি। গত বছরের এ সময় পেঁয়াজের কেজি ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

এদিকে মাস খানেক আগে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল আলুর দর। প্রতি কেজি নেমেছিল ২৮ থেকে ৩০ টাকায়। কিন্তু কিছুটা বেড়ে গত সপ্তাহে আলু বিক্রি হয়েছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। আজ দাম আরও বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা আর মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ১২ থেকে ১৫ টাকা।

অবশ্য কারওয়ান বাজার ও যাত্রাবাড়ীর মতো বড় বাজারগুলো থেকে দরদাম করে কিনলে ৪০ টাকা বা তার কিছুটা কমেও পাওয়া যায়। এক বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এখনও দ্বিগুণের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে আলু। গত বছরের এ সময় প্রতি কেজি আলুর দর ছিল ১৬ থেকে ২০ টাকা। টিসিবির তথ্য বলছে, এক বছরে আলুর দর বেড়েছে ১৩৬ শতাংশ।

ডিমের হালি ৪০ টাকায় নামলো : রমজানে ডিমের চাহিদা কমে যায়। যে কারণে ঢাকার বাজারে দ্রুত কমতে শুরু করেছে ডিমের দাম। গত তিনদিনের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমেছে। কোনো কোনো বাজারে এর চেয়েও বেশি কমেছে। ফলে বড় বাজারে প্রতি ডজন ডিমের দাম নেমেছে ১২০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।

এদিকে পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা দরে। ফলে ডিম অনেক জায়গায় সরকার নির্ধারিত ১৪৪ টাকার নিচে নেমে এসেছে। চাহিদা কমায় ৪০ টাকায় নেমেছে ডিমের হালি।

ডিমের বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারি বাজারে ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজনপ্রতি ১১৫-১১৬ টাকায়। অথচ গত রোববারেও ঢাকায় প্রতি ডজন বাদামি ডিম বিক্রি হয়েছে ১২২ থেকে ১২৫ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দাম আরও কিছুটা কমার সম্ভাবনা আছে। কারণ রমজানে ডিমের চাহিদা একদম কম থাকে।

এদিকে, মুরগির সাদা রঙের ডিমের ডজন এরই মধ্যে কমে ১১০ টাকায় নেমে এসেছে। তেজগাঁও ডিমের আড়তের ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন ডিম বিক্রি করে লোকসান হচ্ছে খামারিদের।

সময়ের আলো/জেডআই


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: