দেশের বাজারে পেঁয়াজের ঝাঁজ আরও বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি ১৫ টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। এছাড়া বাজারে নতুন করে দাম বেড়েছে আলু এবং ডিমের, সবজির বাজারও বেশ চড়া।
শুক্রবার (৭ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
দ্রব্যমূল্যের এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তবে বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। যে কারণে বাজারেও বাজেটের কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি।
গতকাল বাজারে দেখা যায়, প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা। হালি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। আর একটি ডিমের দাম নেওয়া হচ্ছে ১৪ টাকা। এ দাম প্রায় বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ।
বাজারের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সবজি আলু। গত বছর থেকে আলুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি। এখন বাজারে প্রতি কেজি আলু ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগেও ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ছিল।
আলু বিক্রেতারা বলেন, এ বছর আর আলুর দাম কমবে না, বরং দিন দিন আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। কারণ কোল্ড স্টোরেজ থেকেই আলু প্রায় ৫০ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে, যা পাইকারি বাজারে ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কোল্ড স্টোরেজেও এবার খুব বেশি আলু নেই। যদি ভারত থেকে আমদানি না হয় তাহলে মৌসুম শেষে দাম আরও বাড়বে। তবে আমদানি হলে দাম কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে ভারত থেকে আমদানির সুযোগ থাকলেও দেশে প্রতিদিন বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। গত এক সপ্তাহে কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮৫ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা ছিল।
পেঁয়াজ বিক্রেতারা বলেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বাজারে পেঁয়াজের বাড়তি চাহিদা রয়েছে। যে কারণে হু হু করে দাম বাড়ছে। ঈদের আগে দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে সেটা বলা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ থাকলেও ওই দেশ ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য ৫৫০ ডলার নির্ধারণ করে দিয়েছে। শুল্ক-করসহ এ পেঁয়াজ দেশে আনতে ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা খরচ হয়। যে কারণে কেউ পেঁয়াজ আমদানি করছে না। এতে বাজার শুধু দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করেই চলছে।
এদিকে পেঁয়াজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তি আদা-রসুনের দামও। প্রতি কেজি আদা ও রসুন ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বাজারে বিভিন্ন সবজিসহ তেল, চিনি ও আটার মতো অন্যান্য নিত্যপণ্য চড়া দামে আটকে রয়েছে।
অন্যদিকে বাজারে পণ্যের দামে বাজেটের কোনো প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। বাজেটের প্রভাব নিয়ে বিক্রেতারা বলেছেন, বাজাটে নিত্যপণ্য নিয়ে তেমন বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেই। যে কারণে এখনো কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে পণ্যের দাম কমাতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
সময়ের আলো/এম