আগামী ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যআয়ের দেশে উত্তীর্ণ হতে যাচ্ছে। এটি অনেক আগে থেকে নির্ধারিত হয়ে থাকলেও, সরকারের পক্ষ উত্তরণের কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন তার কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি কাজ করছে।
আবার কাজের সুবিধার জন্য বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করা হয়েছে, যা এখনও চলমান। এর পরও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের পরিকল্পনায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার এক কর্মশালা হতে যাচ্ছে। এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের মতামতের ওপর ভিত্তি করে একটি চূড়ান্ত কৌশলপত্র তৈরি করা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামীকালের কর্মশালা থেকে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের মতামতের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। যেখানে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। আর সেই চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কোটামুক্ত সুবিধা ও শুল্কমুক্ত সুবিধা। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার চুক্তি অনুযায়ী মেধাস্বত্ব অধিকারসহ আরও অন্যান্য বিষয়। এ ছাড়া ওষুধ শিল্পে ও পোশাক শিল্পে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে তার ওপর বিশদ বিশ্লেষণ করা হবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ। এ ছাড়া অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসেকা আয়েশা খান, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু উপস্থিত থাকবেন। এই কর্মশালার জন্য একটি ধারণাপত্র মন্ত্রিপরিষদ সচিব থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। ধারণাপত্রের ওপর মতামত চাওয়া হয়েছে উন্নয়ন সহযোগীর, বিভিন্ন ব্যবসায়ী চেম্বার, বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সবাই বক্তব্যের সুযোগ না পেলেও নির্ধারিত বেশ কয়েকজনকে আলোচক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-ইউএনআরসির প্রতিনিধি ড. এম মাসরুর রিয়াজ, সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর ও সাবেক বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ। বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে অর্থ বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মজুমদার, এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএ প্রেসিডেন্টকে।
কর্মশালায় একটি কৌশলপত্র উপস্থাপন করবেন জাতীয় কনস্টালটেন্ট ড. এম এ রাজ্জাক ও আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা চুং মিন নেওগুন। এ ছাড়া জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ তাফ্রি টেসফাওচি। মুক্ত আলোচনার সযোগ রাখা হবে কৌশলপত্রের ওপর মতামতের জন্য। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকবেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের মতামতের ওপর ভিত্তি করে একটি চূড়ান্ত কৌশলপত্র তৈরি করা। যেখানে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কী কী নতুন সুবিধা পেতে পারে। আর কী কী সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তবে এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে, যেন কোনোভাবে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ ছাড়া কোটামুক্ত ও শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো যায় কি না সে ব্যাপারে কী ধরনের এখন থেকে পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায় তা বিশদ মতামত গ্রহণ করা হবে। এর পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আগামীতে সংলাপের মাধ্যমে বাংলাদেশ সুবিধা আদায় করতে পারে তার একটি রূপরেখা তুলে ধরা হবে। তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে বাংলাদেশের সুযোগ আরও কী বাড়ানো যায় তা ধারণা দেওয়া হতে পারে।
জানা গেছে, আগামীতে বাংলাদেশ কোন কোন দেশ থেকে কী ধরনের কারিগরি সুবিধা পেতে পারে তা এখন থেকে তার একটি রূপরেখা তৈরি করা। আর এখন থেকে তার কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া। তবে কর্মশালার ভিত্তি হবে বেশ কয়েকটি ধারণাকে কেন্দ্র করে, যা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মসৃণভাবে উত্তীর্ণ হতে পারে।
আগামীকালের কর্মশালায় যারা আমন্ত্রিত হচ্ছেন তারা হলেন-মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান, বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই মহাপরিচালক, ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক, আমদানি-রফতানি নিয়ন্ত্রণ অফিসের প্রধান নিয়ন্ত্রক, রেজিস্ট্রার কপিরাইট, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএমই ফাউন্ডেশন, ঢাকা চেম্বারের প্রেসিডেন্ট, আইসিসি চেম্বারের প্রেসিডেন্ট, প্রেসিডেন্ট মেট্রোপলিটন চেম্বার, ওমেন চেম্বার প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন দেশের ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রধান।
সময়ের আলো/আরএস/