বাজারে স্বস্তি মিলবে কবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে সব ধরণের ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছিল অস্বাভাবিক। যার ফলে দেশের সাধারণ মানুষের

2024-08-23T22:12:21+00:00
2024-08-23T22:12:21+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
*চালের দাম ফের বেড়েছে কেজিতে ২-৩ টাকা *আলুর কেজি এখনো ৫৫-৬০ *পেঁয়াজের দামও ১২০ টাকা *গরুর মাংসের দামও কমেনি *সবজির দাম কিছুটা কমলেও বন্যার প্রভাবে আবার বাড়ছে *মুরগি ডিমের দাম কমেছে
বাজারে স্বস্তি মিলবে কবে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৪, ১০:১২ পিএম 
বাজারে স্বস্তি মিলবে কবে
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে সব ধরণের ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছিল অস্বাভাবিক। যার ফলে দেশের সাধারণ মানুষের কষ্টের সীমা ছিল না। উচ্চ পণ্যমূল্যের কষাঘাত থেকে নিস্তার চাইছিলেন ক্রেতা-ভোক্তারা। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আওয়ামী সরকারের বিদায় ঘটার পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল এবার কমে আসবে পণ্যমূল্য। নতুন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেবার পর প্রথম কয়েকদিন তার আভাসও মিলেছিল বাজারে।

সবজি, মাছ-মুরগি-ডিমের মতো বেশ কিছু পণ্যের দাম কমে এসেছিল। তবে চাল, আলু, পেঁয়াজ, গরুর মাংস-সহ আরো কিছু ভোগ্যপণ্যের দাম এখনো অনেক চড়া। এ জন্য সরকারের বদলের পর নিত্যপণ্যের বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি এখনো মেলেনি। বাজারের সাধারণ ক্রেতা ও বাজার বিশ্লেষকরা তাই বলছেন- ভোগ্যপণ্যের বাজারে কবে মিলবে স্বস্তি।

অবশ্য ক্রেতা-সাধারণ ও বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ এখনো এক মাস পূর্ণ হয়নি। তাই বাজারের দিকে নজর দিতে হয়তো সরকারের আরো কিছুটা সময় দিতে হবে।

এ বিষয়ে বাজার বিশ্লেষক ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান সময়ের আলোকে বলেন, ‘বিদায়ী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে অস্বাভাবিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে দেশের সাধারণ মানুষকে নিদারুন কষ্ট সইতে হয়েছে। তাই তারা বড় আশা করে আছে নতুন সরকার পণ্যমূল্য কমানোর বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দেবে এবং দাম কামতে কার্যকর পদক্ষেপ নিবে। যদিও এই সরকারের দায়িত্ব নেওয়া এখনো এক মাস পূর্ণ হয়নি-তাই হয়তো বাজারের দিকে সরকারি নজরদারি বাড়াতে সরকারের আরেকটু সময় লাগবে। আসলে দায়িত্ব নেবার শুরু থেকে এখনো অবধি সরকারকে সবার আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়টিকে সবচেয়ে প্রধান্য দিতে হয়েছে। তাই বাজারের দিকে সরকার এখনো পুরোপুরি নজর দিতে পারেনি, সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বাজারের দিকে নজর দিলে পণ্যমূল্য কমে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

বিদায়ী সরকারের আমলে দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য পণ্য চালের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক। নতুন সরকার দায়িত্ব নেবার পর অবশ্য চালের বাজার এখনো চড়া রয়েছে। এর মধ্যে আবার চলতি সপ্তাহে খুচরা বাজারে কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা দাম বেড়ে গেছে সব ধরণের চালের, আর পাইকারি পর্যায়ে চালের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজির) ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া আলুর কেজি এখনো ৫৫ থেকে ৬০, পেঁয়াজের দামও রয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা, প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম এখনো ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা রয়েছে। যদিও সবজির দাম কিছুটা কমেছিল, তবে বন্যার প্রভাবে আবার বাড়ছে। আর কাঁচা মরিচের কেজি এখনো ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে মুরগি ও ডিমের দাম কমেছে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে মোটা, সরু ও মাঝারি-সব ধরনের চাল কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৩টাকা। প্রতি কেজি মোটা চাল (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) ৫৪ থেকে ৫৬ এবং মাঝারি চাল যেমন বিআর-২৮ ও পাইজাম ৫৮ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মানভেদে সরু চালের কেজি (মিনিকেট ও নাজিরশাইল) বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। মাসখানেক আগেও মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৩ এবং মাঝারি চালের কেজি ছিল ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা। তখন সরু চালের কেজি ছিল ৬২ থেকে ৭৬ টাকা। সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য, এক মাসে চালের দর বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ।

নিত্যপণ্যের সরবরাহ বাড়ায় রাজধানীর বাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। একইসঙ্গে বাজারগুলোতে সোনালি কর্ক মুরগি, লাল লেয়ার ও দেশি মুরগির দাম কমেছে। রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ বাড়ায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। বাজারগুলোতে গ্রীষ্মকালীন সবজি কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, ধুন্দল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, কচুর লতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা ও শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস, পাকা টমেটো প্রকার ভেদে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ও গাজর ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচ এখনো ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়তি থাকার কারণে অনেক কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা কাঁচামরিচ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

এছাড়া বাজারগুলোতে লালশাক ১৫ টাকা আঁটি, লাউশাক ৪০ টাকা, মুলাশাক ১৫ টাকা, পালংশাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, কলমি শাক ১০টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। বাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা কমে ১১৫ টাকা দরে ও আলু কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।  

এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে সোনালি মুরগিও কেজিতে ২০ টাকা কমে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি হাইব্রিড ২০০ টাকা, দেশি মুরগি ৫০০ টাকা, লেয়ার লাল মুরগি ২৯০ টাকা ও সাদা লেয়ার ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকা, হাঁসের ডিম ১৮০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিমের হালি ৮৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, গরুর কলিজা ৭৮০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, খাসির মাংস  প্রতি কেজি ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  

বাজারে প্রচুর ইলিশ মাছের সরবরাহ থাকলেও দাম কমেনি। তবে অন্যান্য মাছ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারগুলোতে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের মাছ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, চাষের পাঙাস ১৯০ থেকে ২২০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায়, কাতল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়, পোয়া মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কই মাছ ২১০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৬০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায়, পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকায়, রূপচাঁদা ১ হাজার ২০০ টাকায়, বাইম মাছ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়, দেশি কই ১ হাজার ২০০ টাকা, সোল মাছ ৬০০ থেকে ৯০০ টাকায়, আইড় মাছ ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকায়, বেলে মাছ ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সময়ের আলো/জেডআই


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: