ড. ইউনূস সরকারের দায়িত্ব নেওয়ায় আস্থা বেড়েছে বিদেশি ক্রেতাদের

এসএম আলমগীর

অর্থনীতি

জুলাই মাসের ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং পলাতক শেখ হাসিনা সরকারের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সারা দেশে

2024-09-02T22:46:15+00:00
2024-09-02T22:46:15+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
ড. ইউনূস সরকারের দায়িত্ব নেওয়ায় আস্থা বেড়েছে বিদেশি ক্রেতাদের
সময়ের আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ হাতেম, সভাপতি-বিকেএমইএ
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১০:৪৬ পিএম 
ড. ইউনূস সরকারের দায়িত্ব নেওয়ায় আস্থা বেড়েছে বিদেশি ক্রেতাদের
জুলাই মাসের ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং পলাতক শেখ হাসিনা সরকারের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সারা দেশে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। শিল্প কল-কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয় গিয়েছিল। পণ্য রফতানি কার্যক্রম একেবারে থামকে গিয়েছিল। এই অবস্থায় দেশের শিল্প মালিকরা যেমন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন, তেমনি বিদেশি ক্রেতারাও শঙ্কায় পড়েছিলেন। এক পর্যায়ে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে নতুন করে রফতানি আদেশ কমিয়েও দিয়েছিল। যে কারণে দেশের শিল্প মালিকরাও দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। 

তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এবং নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্ঠার দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসলে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। ক্রমান্বয়ে দেশে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া, শিল্প কারখানা চালু হওয়ায় এবং রফতানিতে কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের মনে আস্থা ফিরতে শুরু করে।  প্রফেসর ইউনূসের কারণে বিদেশি ক্রেতারা আবারও বাংলাদেশের বাজারে রফতানি আদেশ বাড়াতে শুরু করেছেন। তারা এখন বাংলাদেশের বাজারের ওপর অস্থাশীল হয়ে উঠছেন।

সময়ের আলোকে দেওয়া একান্ত স্বাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন দেশের নিটওয়্যার পোশাক খাতের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। 

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সভাপতির পদ জবর-দখল করে রাখা নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি সেলিম ওসমান পদত্যাগ করায় সম্প্রতি মোহাম্মদ হাতেম বিকেএমইএ’র সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সংগঠনটি সভাপতি হবার পর সাম্প্রতিক অস্থিরতা, শিল্পের ক্ষয়-ক্ষতিসহ সার্বিক বিভিন্ন বিষয় তিনি সময়ের আলোর সঙ্গে কথা বলেন।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, কোটার দাবিকে ঘিরে তৈরি হওয়া ছাত্র আন্দালন, আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর বিদায়ী শেখ হাসিনা সরকারের নির্যাতন-নিপীড়ন এবং হত্যাযজ্ঞের কারণে ব্যবসায়ী হিসাবে আমরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ছিলাম। ওই সময় ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু থমকে গিয়েছিল। বিদেশি ক্রেতারা তখন বার বার ফোনে এবং ইমেইলে সার্বিক পরিস্থিতি আমাদের কাছে জানতে চাইছিল এবং তারা উদ্বেগ জানাচ্ছিল। শুধু তাই নয়, অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান, আমাদেরকে দেওয়া রফতানি আদেশ ভিয়েতনাম, শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তর শুরু করে। এভাবে গত দেড় মাসে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আদেশ ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য দেশে সরিয়ে নিয়েছিল। 

তিনি বলেন, এক দিকে যেমন বিদেশি ক্রেতারা রফতানি আদেশ সরিয়ে নেয়, অপরদিকে দেশের অভ্যন্তরে থমকে যায় শিল্প-কারখানার উৎপাদন। শিল্পে হামলা-ভাংচুরের ঘটনাও ঘটতে থাকে। এতে প্রায় এক সপ্তাহ কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকে। আগে উৎপাদিত যেসব পণ্য রফতানির জন্য প্রস্তুত করা ছিল, সেগুলোও রফতানি করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ পণ্যবাহী লরিগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো যাচ্ছিল না। ক্রেতা ধরে রাখতে এবং পণ্য যাতে স্টক লট না হয়ে যায় সে জন্য যাদের সামর্থ আছে তারা কার্গো বিমানে করে দুই-তিনগুন বেশি ভাড়া দিয়ে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে পণ্য পাঠিয়েছেন। তবে খুব কম শিল্প মালিকই এটা করতে পেরেছেন। অধিকাংশ শিল্প মালিকই তাদের পণ্য সময়  মতো রফতানি করতে পারেননি। এভাবে শিল্পের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সময় মতো পণ্য রফতানি করতে না পারায় গত এক-দেড় মাসে পোশাক শিল্পে ক্ষতি হয়েছে প্রায় আরো তিন বিলিয়ন ডলার। 

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এই রকম যখন পরিস্থিতি দাঁড়ায় তখন উদ্যোক্তা হিসাবে আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিন পর থেকে। ধীরে ধীরে যখন দেশের আইনশৃংখলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং শিল্প কারখানা সচল হতে শুরু করে তখন আমরা যেমন আশান্বিত হয়, তেমনি বিদেশি ক্রেতাদের মনেও আস্থা ফিরতে শুরু করে। বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কারণে বিদেশি ক্রেতারা বেশি ভরসা পান। কারণ তাকে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের সরকার, ব্যবসায়ী এবং নাগিরকরা চেনেন। বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকায় প্রফেসর ইউনূসের একটা ভালো গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই মাস খানেক আগে শেষ হওয়া ফ্রান্স অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসকে বিশেষ অতিথি হিসাবে সম্মানিত করা হয়। এগুলো বাংলাদেশের জন্য ইমেজ বৃদ্ধি করে। আমরা আশা করছি তার এই ইমেজকে কাজে লাগিয়ে রফতানি আয় বাড়াতে পারবো। 

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বাংলাদেশের ওপর আস্থা ফিরে আসায় বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো আবারো আমাদেরকে নতুন নতুন রফতানি আদেশ দেওয়া শুরু করেছেন। বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা যাতে আরও বাড়ে তার জন্য বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ’র সমন্বয়ে একটি নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি। ইউরোপ-আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আমরা বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানাবো। তাদেরকে নিয়ে আমরা কয়েকদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের আয়োজন করবো। আর তাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হবে সরকারি ভাবে। অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিদেশি ক্রেতাদের বাংলাদেশে আসার দাওয়াত দেওয়া হবে। আর অনুষ্ঠানের পুরো আয়োজনে ব্যয় বহণ করবো আমরা-অর্থাৎ  বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ। এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই আমাদের দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদষ্টোর সঙ্গে এবং অর্থ-বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে আমরা প্রাথমিক আলোচনা করেছি। পর্যায়ক্রমে আরো আলাপ-আলোচনা করে বিষয়টি আমরা চূড়ান্ত করবো। আমরা আশা করছি-এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে অনেক বড় একটা অর্জন হবে। শুধু তাই নয়, আমাদের রফতানি বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এবং ক্রেতারা দেশে এসে স্বচক্ষে সব দেখে কথা বলবে তাদের মাঝেও বাংলাদেশের বাজার সম্পর্কে আস্থাটা আরও বাড়বে। 

সময়ের আলো/এম 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: