দাম কমেনি আলু-পেঁয়াজের, ক্রেতার নাগালের বাহিরে ইলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

দেশে এখন ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। বাজারে ইলিশের জোগান বেড়েছে বেশ। তবে ইলিশের দাম এখনো ক্রেতার নাগালে আসেনি। ইলিশ মৌসুম,

2024-09-06T22:58:47+00:00
2024-09-06T22:58:47+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
দাম কমেনি আলু-পেঁয়াজের, ক্রেতার নাগালের বাহিরে ইলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১০:৫৮ পিএম 
দাম কমেনি আলু-পেঁয়াজের, ক্রেতার নাগালের বাহিরে ইলিশ
দেশে এখন ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। বাজারে ইলিশের জোগান বেড়েছে বেশ। তবে ইলিশের দাম এখনো ক্রেতার নাগালে আসেনি। ইলিশ মৌসুম, দাম তো কম থাকার কথা-এ ধরনের অঙ্ক কষে যারা বাজারে যাচ্ছেন, তারা ফিরছেন নিরাশ মুখে। এদিকে আমদানি শুল্ক কমানো হলেও এখনো দাম কমেনি আলু-পেঁয়াজের। এখনো প্রতি কেজি আলু ৬০ টাকায় এবং পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজিতেই। শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজির কিছুটা বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার  টাকায়। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি কিনতে লাগবে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। আর ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেনা যাবে ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়।

তবে ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় অন্য মাছের চাহিদা কমেছে। তাতে দামও খানিকটা কম দেখা গেছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ১৫ থেকে ২০ দিনের ব্যবধানে সব ধরনের মাছের কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা কমেছে। মাঝারি আকারের পাঙাশ মাছের কেজি ১৮০ থেকে ২২০, চাষের কইয়ের কেজি ২১০ থেকে ২৪০ ও তেলাপিয়ার কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মাঝারি আকারের রুই ও কাতলা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। তবে পাবদার কেজিতে খরচ করতে হবে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। চিংড়ির দামে হেরফের নেই। আগের মতোই মানভেদে মাঝারি আকারের চিংড়ির কেজি কেনা যাচ্ছে ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকায়।

গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দর। শুক্রবার ব্রয়লারের কেজি বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ১৭৫ টাকায়। অপরিবর্তিত সোনালি মুরগি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা দরে। গেল সপ্তাহের মতো ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। তবে কিছুটা কমেছে গরুর মাংসের দাম। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৩০ থেকে ৭৫০ টাকায়। সপ্তাহ দুয়েক আগে গরুর মাংসের কেজি ছিল ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা।

এদিকে পেঁয়াজ ও আলুতে শুল্ক কমিয়েছে সরকার। তবুও খুচরা বাজারে আগের সেই বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে এই পণ্য। দেশে আলু এবং পেঁয়াজের বিদ্যমান বাজারমূল্য ও সরবরাহ বিবেচনায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা ক্রমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আলু আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার পাশাপাশি ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক তুলে দিয়েছে। এছাড়া পেঁয়াজ আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ট্যারিফ কমিশনের প্রস্তাবনা মোতাবেক এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর।

এর একদিন পরে শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ আগের মতো ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি আলুও আগের মতো ৬০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজার থেকে পেঁয়াজ, আলু কিনে এনে মালিবাগের স্থানীয় মুদির দোকানে বিক্রি করেন খোরশেদ আলম নামের এক বিক্রেতা। আজকের বাজারে এসবের দাম বিষয়ে তিনি বলেন, বেশ কিছু দিন ধরেই খুচরা বাজারে পেঁয়াজ ১২০ টাকায় এবং আলু ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আজও সেই দামই চলছে। পেঁয়াজ ও আলুতে শুল্ক কমিয়েছে সরকার তা শুনেছি কিন্তু বাজারে এর প্রভাব পড়তে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। কারণ আমি বেশি দামেই পাইকারি বাজার থেকে কিনে এনেছি। যে পরিমাণ মাল এনেছি এটা আরও ৩-৪ দিন চলবে আমার দোকানে। এটা শেষ হলে ফের মাল আনবো, তখন যদি কম দামে পাই তাহলেই কম দামে বিক্রি করব।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলেন, পাল্লা হিসেবে (৫ কেজি) কিনে সব খরচ বাদে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পড়েছে ১১০ টাকা। এখন পরিবহন করে নিয়ে আসার পর খুচরা ১২০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। একই ভাবে আলুর পাল্লা পড়েছে ৫৫ টাকা এখন আমার দোকানে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায় প্রতি কেজি।

বৃহস্পতিবার পেঁয়াজ ও আলুতে শুল্ক কমিয়ে ট্যারিফ কমিশনের প্রস্তাবনা মোতাবেক এনবিআর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গত ১ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে পেঁয়াজ, আলু, সার ও কীটনাশকের ন্যায় নিত্যপণ্যের শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে এনবিআরকে নির্দেশ দেন।

প্রজ্ঞাপনে আলুর আমদানিতে বিদ্যমান ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে প্রযোজ্য ৩ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া পেঁয়াজের ওপর প্রযোজ্য ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই সুবিধা বহাল থাকবে। আশা করা যায়, এসব নিত্যপণ্যের আমদানি শুল্ক ও রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহারের ফলে আলু ও পেঁয়াজের দাম কমে যাবে এবং ভোক্তাদের স্বস্তি দেবে। তবে বাস্তবে বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

এদিকে সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পটোলের কেজি। পটোলের মতো বেশির ভাগ সবজির দাম নেমেছে অর্ধেকের কাছাকাছি। এক মাস আগের ১৫০ টাকার বেগুন ও উচ্ছের কেজি এখন কেনা যাচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। তবে মাসখানেক আগে এ দর ছিল ১০০ টাকার আশাপাশে। কাঁচামরিচ কেনা যাচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে।

সময়ের আলো/জেডআই


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: