আশুলিয়ায় সংঘর্ষে নিহত শ্রমিক কাউসার হোসেন খাঁনের পরিবারকে তাৎক্ষনিক ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিল পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। একই সঙ্গে শ্রম আইন অনুযায়ী তার সকল পাওনাদি অতি দ্রুত পরিশোধ করা হবে বলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে পোশাক শিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতাও কামনা করা হয়।
বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বলা হয, সোমবার সকালে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের জিরাবো এলাকার মন্ডল গ্রুপের কারখানায় মন্ডল গ্রুপের শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মালিকপক্ষের আলোচনা চলছিলো। এ সময় কিছু বহিরাগত ব্যক্তি মন্ডল গ্রুপের ২জন শ্রমিকের মৃত্যুর মিথ্যা গুজব তুলে কারখানার বাইরে অবস্থান নেন। পরে অন্যান্য কারখানার শ্রমিকরাও সেখানে জড়ো হতে থাকেন। এসময় ২জন বহিরাগত ব্যক্তি কারখানার বাইরে থেকে কারখানা লক্ষ্য করে গুলি বর্ষন করেন। এতে করে কারখানা ভবনের কাঁচ ভেঙে যায় এবং আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কারখানার নীচে নেমে আসেন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ও শ্রমিকরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। বহিরাগতরা ও শ্রমিকরা মিলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরে শ্রমিকরা আরও উত্তেজিত হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয়।
এসময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য ও শ্রমিক গুরতর আহত হলে শ্রমিকদের স্থানীয় পিএমকে হাসপাতাল ও সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে এনাম মেডিকেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শ্রমিক কাউসার হোসেন খাঁনকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার ম্যাঙ্গো টেক্স লিমিটেড কারখানার শ্রমিক। শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে গভীর দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, সংঘর্ষের ঘটনায় আহত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ১১ জন সদস্য বর্তমানে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইতোমধ্যে নিহত শ্রমিক, কাউসার হোসেন খাঁনের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। শ্রম আইন অনুযায়ী তার সকল পাওনাদি অতি দ্রুত পরিশোধ করা হবে।
সময়ের আলো/জেডআই