গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা না হলে খাদের কিনারে যাবে ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা না হলে ব্যাংক খাত খাদের কিনারায় চলে যাবে।

2024-12-30T00:30:49+00:00
2024-12-30T00:30:49+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
অর্থনীতি
গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা না হলে খাদের কিনারে যাবে ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১২:৩০ এএম   (ভিজিট : ৪৪২)
গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা না হলে খাদের কিনারে যাবে ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা না হলে ব্যাংক খাত খাদের কিনারায় চলে যাবে। আমরা অনেক দূর এগিয়েছি এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে, ব্যাংকিং তথা আর্থিক খাতে যতদূর আগানো সম্ভব ছিল, আমরা তা পারিনি। কিন্তু এই (ব্যর্থতার) আত্মবিশ্লেষণ আমাদের করতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন অর্জন সত্ত্বেও আমাদের অনেক ব্যর্থতা রয়েছে। আমাদের সবার আলাদা আলাদা দায়িত্ব ছিল। সবাই হয়তো সেই দায়িত্ব পালন করতে পারিনি। এই ব্যর্থতার মূলে কোনো একক গোষ্ঠী বা একক শক্তি যুক্ত নয়। হয়তো আমরা সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারতাম। হয়তো ব্যত্যয় হয়েছে, হয়তো হয়নি। গতকাল রোববার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আহসান এইচ মনসুর। 

বিআইবিএমের মহাপরিচালক মো. আক্তারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) ভাইস-চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবীব। গভর্নর বলেন, ব্যাংকসহ দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নৈতিকতার চর্চা বাড়ানো জরুরি। ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত ভালো করলেও, পুরোপুরি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।  তবে ব্যাংকিং খাত দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে জানিয়ে গভর্নর বলেন, ব্যাংকিং ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি নৈতিকতাবোধ বৃদ্ধির চর্চা চালু করতে হবে। তা না হলে অর্থই অনর্থের মূলে পরিণত হবে। কারণ ব্যাংক পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সৎ, মানবিক ও নৈতিক ব্যাংকারের প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান এককভাবে দাঁড়ায় না, অন্যের সহযোগিতা নিয়েই দাঁড়ায়। দেশের একটি আর্থিক খাতও ঠিক তেমনি। আর্থিক খাত ছোট খাত নয়। এর সঙ্গে ব্যাংকিংসহ আরও অনেক খাত জড়িত। আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে না পারলে এই খাতের অবস্থা কিনারায় চলে যাবে। আর ব্যাংক খাত বিকাশের জন্য বিআইবিএমের মতো প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের বিকল্প নেই। তবে টেকসই ও পরিবেশ অর্থায়নের মতো নতুন চ্যালেঞ্জিং বিষয়ে ব্যাংক খাতের আরও বেশি অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে বলে জানান গভর্নর। আহসান এইচ মনসুর বলেন, বিভিন্ন খাতে টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকে ঠিকই, কিন্তু কীভাবে এই অর্থ ব্যয় হবে তা ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তা জানেন না। সুতরাং, এসব বিষয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ধারণা বাড়াতে কাজ করতে পারে বিআইবিএম। এ ছাড়া গ্রিন বন্ডের মতো নতুন নতুন উদ্ভাবনী আইডিয়াও নিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাতের নতুন চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে কাজ করা দরকার। এরমধ্যে জলবায়ু ও গ্রিন ফাইন্যান্সিং নিয়েও বিআইবিএমকে কাজ করতে হবে। সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বাদ দিয়ে ব্যাংক খাত এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না। এ জন্য এসএমই ও গ্রিন ফাইন্যান্স নিয়ে ট্রেনিং দিতে হবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।  অনুষ্ঠানে এবিবির ভাইস-চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাংকিং খাতেও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং ও ব্লক চেইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা বাড়াতে হবে। 

মাসরুর আরেফিন আরও বলেন, দেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা এক ধরনের চলে এসেছে। কারণ প্রতিটি ব্যাংক এখন গ্রাহকদের ডিজিটালি সাপোর্ট দিচ্ছে। তবে হয়তো ব্যাংকগুলো ডিজিটাল লোন কম দিচ্ছে বা দিতে চাইছে না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নজর দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, বিআইবিএম থেকে ২০২৪ সালে সিটি ব্যাংকের কর্মকর্তারা ১৭ হাজার ২৮ ঘণ্টা ট্রেনিং পেয়েছেন। বিআইবিএম থিংক ট্যাঙ্ক থেমে নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাচ্ছে। বিআইবিএম ভালো প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তা গড়ার আধার। এখান থেকে করপোরেট সুশাসন, ঋণ বিতরণসহ আর্থিক খাতের সকল বিষয় শিখতে পারে। বিআইবিএমের মহাপরিচালক আক্তারুজ্জামান বলেন, ৫০ বছর আমাদের অঙ্গীকার সফলতার সঙ্গে বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। আইএফএসি ও বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে গবেষণা করেছি। অনেক ক্ষেত্রে বিআইএম নিজের সক্ষমতা দেখিয়েছে। একইদিন ওই অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিড) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ব্যাংক খাতে নতুনভাবে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। সব খাতে সুশাসন থাকবে আর ব্যাংক খাতে অপশাসন থাকবে তা হবে না। গত ৫ আগস্টের আগে ব্যাংক খাতে কতটা দুর্নীতি হয়েছে তা সবাই জানে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত ৫ আগস্ট থেকে যেসব সংস্কার করা হয়েছে তার সুফল নির্বাচিত সরকার এলেই মিলবে। ১৫ বছরে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১৭ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে চলে গেছে। এসব খাতে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে বিআইবিএমের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার।

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: