রাজধানীতে অবরোধ যানজটের এক দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী

রাজধানীতে তীব্র যানজটের একটি দিন পার করল নগরবাসী। রোববার চাকরিচ্যুত ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জাহাঙ্গীর গেটের সামনে

2024-12-30T00:50:56+00:00
2024-12-30T00:50:56+00:00
 
  শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
রাজধানী
রাজধানীতে অবরোধ যানজটের এক দিন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১২:৫০ এএম   (ভিজিট : ৪৭৭)
রাজধানীতে অবরোধ যানজটের এক দিন
রাজধানীতে তীব্র যানজটের একটি দিন পার করল নগরবাসী। রোববার চাকরিচ্যুত ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জাহাঙ্গীর গেটের সামনে সড়কে বিক্ষোভ করেন। অন্যদিকে শাহবাগ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিএসএমএমইউ ও বিসিপিএসের অধিভুক্ত পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসকরা।

শহরের দুই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আটকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করায় দীর্ঘ যানজট পোহাতে হয় নগরবাসীকে। বাসা থেকে বের হয়ে যানবাহনে দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে নগরবাসীকে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এই যানজট লক্ষ্য করা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে। চিকিৎসকদের দিনব্যাপী অবরোধে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েন রোগীসহ সাধারণ পথচারীরা। তা ছাড়া বারবার অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনে মুখরিত হয়েছে শাহবাগ মোড়। অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে। একই দিনে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিপিএলের টিকেট নিয়ে তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। স্টেডিয়ামের সামনে বিক্ষোভ করেন টিকেটপ্রত্যাশীরা।

পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসকদের ভাতা ৩০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার করার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে অবস্থান নেন ট্রেইনি চিকিৎসকরা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে এ সমাবেশ শুরু হয়। এতে আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। একই দাবিতে গত ২২ ডিসেম্বরও তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন।

সরেজমিন দেখা যায়, রোববার সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা চত্বরে জড়ো হতে থাকেন প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। এ সময় তারা ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে শাহবাগে চিকিৎসকদের বিক্ষোভের ফলে শাহবাগ থেকে ফার্মগেট, এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট, সেগুনবাগিচা এবং গুলিস্তানসহ আশপাশের সব রাস্তাতেই তীব্র যানজট দেখা যায়। শুধু প্রধান সড়ক না অলিগলিতেও এই তীব্র যানজট দেখা গেছে।

দ্বিতীয় দফায় চিকিৎসকদের এই অবরোধকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শাহবাগ মোড়ে প্রস্তুত রাখা হয় সাঁজোয়া যান, এপিসি ও জলকামান। প্রথম দফায় আন্দোলনের সময়ের তুলনায় রোববার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।

তীব্র ভোগান্তির কথা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ পথচারীরা। মো. আরিফ নামে এক পথচারী বলেন, ‘গুলিস্তান যাব বলে ধানমন্ডি থেকে বাসে উঠেছি। এখানে আসার পর দেখি রাস্তা বন্ধ। দুদিন পরপর এখানে কোনো না কোনো আন্দোলন হয়। গুলিস্তানে বাড়ি থেকে ফিরে মা বসে আছে। এখনও যেতে পারলাম না। কি এক বিপদে আছি।’

ভোগান্তিতে পড়েছেন গণপরিবহনে চালক ও সহকারীরাও। রজনীগন্ধ্যা পরিবহনের চালক মো. আলতাফ বলেন, ‘রাস্তা বন্ধ দেখে যাত্রীরা নেমে গেছে। কিন্তু আমাদের তো যাওয়ার উপায় নেই। সকাল থেকে বাস নিয়ে বসে আছি। আগে জানলে গাড়ি নিয়ে বের হতাম না।’

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, এখনও রাস্তায় অবস্থান নিয়ে আছেন চিকিৎসকরা। তবে সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমরা ঘটনাস্থলে আছি।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘শৃঙ্খলাপরিপন্থী’ বিভিন্ন কাজে জড়ানোর অভিযোগে চাকরিচ্যুত ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাদের প্ল্যাটফর্ম ‘সহযোদ্ধা’-এর ব্যানারে রোববার বেলা সোয়া ১১টা থেকে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় ওই সড়ক ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, বিক্ষোভের ফলে জাহাঙ্গীর গেট, মহাখালী, বনানী, তেজগাঁও এবং বিজয় সরণিসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়া বিদেশগামী অনেক যাত্রীও এ সময় যানজটে আটকা পড়েন। অন্যদিকে রাজধানীর উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিণ প্রান্তে আসা মানুষরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে মহাখালী থেকে জাহাঙ্গীর গেট অভিমুখী সড়কে সীমিত পরিসরে যান চলাচল করতে দেওয়া হয়। দুপুর ১টা নাগাদ ওই এলাকায় যান চলাচল পুরোদমে শুরু হয়। এর আগে সকাল ৮টা থেকে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। বেলা সোয়া ১১টার দিকে তারা সড়কে বসে পড়ে বিক্ষোভ করেন।

বনানী থেকে ঢাকা মেডিকেল যাওয়ার সময় মহাখালীতে দীর্ঘ সময় বসে থেকে হাঁটা শুরু করেন অপূর্ব রায়। তিনি বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল যাব এক আত্মীয়কে দেখতে। তিনি অসুস্থ। গুগল ম্যাপে দেখলাম পুরা রাস্তা লাল (যানজট) হয়ে আছে। কি আর করা তেজগাঁও রাস্তা পুরাটা জ্যাম। বাধ্য হয়ে হেঁটে যাচ্ছি।’

চাকরিচ্যুত ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের তিন দফা দাবি হলো-চাকরিচ্যুতির সময় থেকে এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরি পুনর্বহাল করতে হবে। যদি কোনো সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের চাকরি পুনর্বহাল করা সম্ভব না হয়, তা হলে তাদের সরকারি সব সুযোগ-সুবিধাসহ সম্পূর্ণ পেনশনের আওতাভুক্ত করতে হবে এবং যেসব আইনি কাঠামো ও একতরফা বিচারব্যবস্থার প্রয়োগে সশস্ত্র বাহিনীর শত শত সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, সেই বিচারব্যবস্থা সংস্কার করতে হবে।

অন্যদিকে সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিক্ষোভকারী ব্যক্তিদের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে ‘সহযোদ্ধা’র প্রধান সমন্বয়ক মো. নাঈমুল ইসলাম বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে একটি পর্ষদ গঠন করে দাবিগুলোর বিষয়ে আলাপ-আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রোববার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিপিএলের টিকেট নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। টিকেট সংগ্রহের জন্য ভোর থেকেই স্টেডিয়ামের ১ ও ২ নম্বর ফটকের সামনে ভিড় জমিয়েছেন হাজারও দর্শক। কিন্তু টিকেট বুথ বন্ধ থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। সকাল থেকে অনিশ্চয়তায় অপেক্ষা করা দর্শকদের দাবি, টিকেট ছাড়া কেউ ফিরবেন না। ক্ষোভ বাড়তে থাকলে এক পর্যায়ে দুই নম্বর ফটকের সামনে জড়ো হন দর্শকরা। তারা স্লোগান ও গালাগাল শুরু করেন এবং প্রবল ধাক্কাধাক্কিতে ফটক খুলে ফেলেন। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দর্শকদের বের করে দিলেও দৌড়াদৌড়ির মধ্যে কয়েকজন দর্শক আহত হন। পরমুহূর্তেই দর্শকরা আবার সংগঠিত হয়ে জড়ো হন ফটকের সামনে। ততক্ষণে লোহার ফটক তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর অনেক ধাক্কাধাক্কি করেও আর ফটক খুলতে পারেননি দর্শকরা। তবে বিসিবির বিরুদ্ধে গালাগাল ও স্লোগান চলতে থাকে লম্বা সময় ধরে। এখানে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল সীমিত হয়ে গেলেও পরে স্বাভাবিক হয়।

মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার এসআই সৈয়দা রিনা সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সময়ের আলোকে বলেন, বিপিএলের টিকেট নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরে পুলিশ পরিবেশ স্বাভাবিক করে। ঘটনাস্থলে আমাদের টিম রয়েছে।


সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
রাজধানী- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: