রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর ৯০ দিনের জন্য বিদেশি সহায়তা স্থগিত করেছেন। সেখান থেকে রোহিঙ্গাদের পুষ্টি ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির অর্থায়ন এই নির্বাহী আদেশের অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। এ জন্য প্রধান উপদেষ্টা ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তারা প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন। তখন তাদের এই ধন্যবাদ বার্তা জানিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ইউএসএআইডির মূল সাহায্য আসে রোহিঙ্গা নিয়ে। সাত বছর ধরে রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে যে অবস্থান করছে তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি দিয়েছে। আমরা আশা করছি তাদের কন্ট্রিবিউশন চলমান থাকবে। এতে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না। এটা ৯০ দিনের জন্য করা হয়েছে। আর বাংলাদেশে ডোনেশন আগে থেকেই অনেক কমে গিয়েছে। বাংলাদেশে এর বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার এ বছরই বড় আকারে আন্তর্জাতিক সম্মেলন করবে। এতে ১৭০টি দেশ অংশ নেবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আয়োজিত সম্মেলনের সহ আয়োজক জাতিসংঘ।
প্রেস সচিব বলেন, পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনা একটা ‘স্লো প্রসেস’। গ্লোবালি যদি দেখেন এটি খুবই ‘সেøা প্রসেস’। এটার জন্য যত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যেকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাস্কফোর্স করে দেওয়া হয়েছে, সম্পদ পুনরুদ্ধার কমিটি করে দেওয়া হয়েছে, ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ১১টি টিম কাজ করছে, আমরা বিশ্বের বড় বড় এজেন্সির সঙ্গে কথা বলছি, যার মধ্যে কেপিএমজি অন্যতম। তাদের পরামর্শ নিচ্ছি। আমি বলব, আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব এখানে।
শফিকুল আলম বলেন, যেই টাকা চুরি হয়েছে সেটি বাংলাদেশের মানুষের খেটে-খাওয়া টাকা। তাদের টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে শেখ হাসিনার চোরতন্ত্রের লোকজন। সেই টাকা আমরা যেভাবে হোক ফিরিয়ে আনব। সে জন্য পুরো বিশ্বে আমরা সমর্থন চেয়েছিলাম এবং সবাই অকুণ্ঠ সমর্থন দিচ্ছে। আমাদের এখান থেকে টাকা কিছু কিছু উন্নত দেশেও গেছে। কোথায় কোথায় টাকা গেছে এই মানি ট্রেইল বের করা, কীভাবে গেল, কোন নামে নিয়ে গেছে, ওই টাকা দিয়ে সম্পদ কিনেছে কি না, কী কী কিনেছে, এই পুরো জিনিস বুঝতে হবে, ট্রেইল দেখতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এলএনজি চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিডার পক্ষ থেকে এ নিয়ে একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তিনি এসে প্রেস কনফারেন্স করে বিস্তারিত জানাবেন।
এ সময় শফিকুল আলম মাজারে হামলার বিষয়ে আবারও সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নরের ‘কতল করা’ বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার কথা জানান।
এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ বিষয়ে গণমাধ্যমে একটি বার্তাও পাঠিয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, রোববার বিকালে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলী সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ডা. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন। এ জন্য প্রধান উপদেষ্টা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
প্রেস সচিব বলেন, ‘সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বাংলাদেশের কসাই, বুচার অব বাংলাদেশ’। বাংলাদেশে ছোট ছোট বাচ্চা ছেলেমেয়ে, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও রিকশাচালকদের যেভাবে একদম নির্দয়ভাবে খুন করা হয়েছে, তার অন্যতম বুচার হচ্ছেন ওনি। তাকে যারা প্ল্যাটফর্ম দিচ্ছে, নিউজ যারা করছে, তাদের মান বোঝেন। এটা একটা ইন্টারন্যাশনাল বড় রকমের প্রপাগান্ডা ক্যাম্পেইন। পৃথিবীর কেউ এমন কাউকে তাদের প্ল্যাটফর্ম দেয় না ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য। আসাদুজ্জামান খান ‘ইজ দ্য বুচার অব বাংলাদেশ’।