পে-কমিশন নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ জমা দেওয়ার সম্ভাব্য ডেডলাইন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী মধ্য জানুয়ারির মধ্যে কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেবে।
পে-কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, নবম পে-স্কেলের গ্রেড সংখ্যা, সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারণ ছাড়াও আরও কিছু বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি।
নবম পে-স্কেল নিয়ে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ এক সদস্য জানান, মধ্য জানুয়ারির মধ্যে কমিশনের সুপারিশ জমা দেওয়ার একটি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমরা এর আগেও রিপোর্ট জমা দিতে পারি। পূর্ণ কমিশনের আরেকটি সভা করতে পারলে সুপারিশ জমা দেওয়ার সম্ভাব্য দিনক্ষণ আরও নির্দিষ্ট করে বলা যাবে।
পে-কমিশনের একটি সূত্রমতে জানা গেছে, কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন গ্রেড নিয়ে তিন ধরনের চিন্তা করছে।
বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের ২০টি গ্রেড রয়েছে। কমিশনের অনেক সদস্য মনে করেন বিদ্যমান গ্রেড সংখ্যা একই রেখে যৌক্তিক হারে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করতে। তবে এখানে ঘোর আপত্তি রয়েছে কমিশনের আরেকটি অংশের। তারা মনে করেন, গ্রেড সংখ্যা ২০টি থেকে কমিয়ে ১৬টি করা উচিত।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
গত ২৭ জুলাই এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। কমিশনের প্রথম সভার দিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। গত ১৪ আগস্ট নবম পে কমিশনের প্রথম সভা হয় বলে জানা যায়। সেই হিসেবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য সময় পাওয়া কথা কমিশনের।
তবে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফ্রেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তাই কমিশন জানুয়ারির মধ্যেই নবম পে স্কেলের সুপারিশ জমা দেওয়ার পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নবম পে স্কেলের গ্রেড সংখ্যা, সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারণ ছাড়াও আরও কিছু বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। এজন্য আরও অন্তত দুটি পূর্ণ কমিশনের সভা আয়োজন করা হবে।
এ সভায় সদস্যরা অমীমাংসিত বিষয়গুলোর প্রতি একমত পোষণ করার পর কমিশন তাদের রিপোর্ট জমা দেবে। পূর্ণ কমিশনের পরবর্তী সভায় সুপারিশ জমা দেওয়ার সম্ভাব্য দিনক্ষণ নির্ধারণ হবে বলেও জানা গেছে।
/ইউএমএইচ