তারিক সিদ্দিক-বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরসহ তিন বিমান বন্দরের চার প্রকল্প থেকে ৮১২ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে পৃথক চারটি মামালা দায়ের

2025-01-27T21:28:20+00:00
2025-01-27T21:28:20+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
তারিক সিদ্দিক-বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
৩ বিমানবন্দরের ৮১২ কোটি টাকা আত্মসাৎ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৫, ৯:২৮ পিএম 
তারিক সিদ্দিক-বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরসহ তিন বিমান বন্দরের চার প্রকল্প থেকে ৮১২ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে পৃথক চারটি মামালা দায়ের করেছ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ৮১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ- বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান(তৎকালীন সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার), এ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ও বিসিবির বোর্ড পরিচালক মাহবুবুল আনামসহ ১৯ জনকে আসামি করে ৪টি মামলা করেছে দুদক।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

তারিক–হাবিবুর-মাহবুবুল ছাড়াও চারটি মামলায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সাবেক সিনিয়র সচিব মো: মুহিবুল হক, বিমানের সাবেক যুগ্ম সচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক, এ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ও বিসিবির বোর্ড পরিচালক মাহবুবুল আনাম ও এ্যারোনেসের পরিচালক লুৎফুল্লাহ মাজেদেকে আসামি করা হয়েছ।

এছাড়া পৃথকভাবে শাহালালের রাডার স্থাপন প্রকল্পের ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের  মামলা প্রকল্পিটর প্রকল্প পরিচালক আফরোজা নাসরিন সুলতানা, সাবেক প্রকল্প পরিচালক এ কে এম মনজুর আহমেদ, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের মামলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম মাকসুদুল ইসলাম সাবেক প্রধান প্রকৌশলী সুবেন্দু বিকাশ গোস্বামীকে আসামী করা হয়েছে।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের মামলায় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী মইদুর রহমান মো. মওদুদ, প্রকল্প পরিচালক ও সাবেক যুগ্ম সচিব মো, আনিছুর রহমানকে আসামী করা হয়েছে।

অন্যদিকে কক্সবাজার বিমান বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব মো. শফিকুল ইসলাম ও কক্সবাজার বিমান বন্দর উন্নয়ন (প্রথম পর্যায়-৪র্থ সংশোধিত) প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো: ইউনুস ভূইয়া।

দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, এ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল আনাম এবং পরিচালক  লুৎফুল্লাহ মাজেদ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা  তারিক আহমেদ সিদ্দিকী'র প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তারা বর্ণিত বিমান বন্দরসমূহের চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ করছেন।

দুদক সূত্র জানা যায়, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, ঢাকায় "Installation of RADAR with CNS-ATM’ প্রকল্প থেকে ২০০ কোটি, শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প থেকে ২৫০ কোটি টাকা, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে ২১২ কোটি টাকা ও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের টার্মিনাল ও রানওয়ে নির্মান প্রকল্প থেকে ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা চারটি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, রাডার ইনস্টল ও সিএনএস–এটিএম প্রকল্পের ৭৩০ কোটি টাকার কাজ দেওয়া হয় Thales LAS France SAS নামীয় একটি ফ্রেঞ্চ কোম্পানীকে। উক্ত কোম্পানীর সাথে আ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনালকে কো-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজের সাথে সম্পৃক্ত করা হয় স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে।

দুদক জানায়,  Thales এর কোন সিভিল কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকেনা। নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার হীন উদ্দেশ্যে ইলেক্ট্রিক এন্ড ম্যাকানিক্যাল কাজের সাথে সিভিল কাজ একীভূত করে ১৫০ কোটি টাকার কাজ দেওয়া হয়। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মাহবুবুল আনামের প্রতিষ্ঠান অ্যারোনেসকে উক্ত কাজে সম্পৃক্ত করা হয়।

এছাড়া শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ কাজে ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করা হয়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা করার অভিযোগ আনা হয় অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের কাজের কার্যাদেশ দেয়া হয় এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) নামীয় একটি প্রতিষ্ঠানকে। উক্ত কাজের সাথেও সাব কন্ট্রাক্টর হিসাবে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট এ্যারেনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে সম্পৃক্ত করা হয়। বেআইনীভাবে স্থানীয় এজেন্ট এ্যারোনেস উক্ত কাজে সম্পৃক্ত করে পরস্পর যোগসাজশে বর্ণিত প্রকল্প হতে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা লুটপাটের মাধ্যমে আত্মত্মসাত করেন।

২১২ কোটি টাকার অগ্রিম বিল নিয়ে আত্মসাত

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর সম্প্রসারণ কাজে নতুন টার্মিনাল নির্মান প্রকল্প থেকে এ্যারেনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান ২১২ কোটি টাকার অগ্রিম বিল গ্রহণ করে তা আত্মসাৎ করার অভিযোগ দুদকের দায়ের কার মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এ্যারেনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি বিমান বন্দরসমূহের কোন প্রকল্পে সরাসরি আবার কোন প্রকল্পে বিদেশি কোম্পানীর লোকাল এজেন্ট হয়ে কাজ করেছেন। অর্থাৎ আইন ও চুক্তি লঙ্ঘন করে পরস্পর যোগসাজশে বর্ণিত প্রকল্পসমূহের সামগ্রীক কাজে এ্যারোনেস সম্পৃক্ত করা হয়।

একইভাবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের টার্মিনাল ও রানওয়ে নির্মান সংক্রান্ত প্রকল্পটি চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (সিসিইসিসি) নামীয় একটি চায়না কোম্পানীকে প্রকল্পের কাজে কার্যাদেশ দেওয়া মাধ্যমে ১৫০ কোটি টাকা আত্মাসাত করার অভিযোগ করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, অবৈধ পারিতোষিক প্রাপ্তির অবৈধ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান করে বেআইনীভাবে স্থানীয় এজেন্ট এ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে উক্ত কাজে সম্পৃক্ত করা হয়। পরস্পর যোগসাজশে প্রকল্প হতে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা লুটপাটের মাধ্যমে আত্মসাত করেন।


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: