গলিতে বাস আর প্রধান সড়কে রিকশা এখন রাজধানীর নিয়মিত দৃশ্য। মোটরসাইকেল চালক থেকে শুরু করে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান এমনকি বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়িচালক সবাই নিয়ম না মেনেই যত্রযত্র চলছে। দিন যত যাচ্ছে, রাজধানীর সড়কের বিশৃঙ্খলা যেন ততই বাড়ছে।
ফলে সড়কে তীব্র যানজটের সঙ্গে বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। ট্রাফিক আইনও মানছে না অনেকেই। বিশেষ করে বাইকার ও ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা। এদিকে প্রধান সড়কে দিনের বেশিরভাগ সময় যানবাহনের চাপ না থাকলেও বাসচালকদের বিশৃঙ্খল আচরণে স্টপেজগুলোতে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ জটলা।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি গত কয়েক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যাটারিচালিত রিকশার কথা বলে আসছে। শহরের প্রধান সড়কে ইজিবাইক চলাচল নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং এর যন্ত্রাংশ আমদানি বন্ধেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ বাহন নীতিমালা ও রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। তারপরও থামানো যাচ্ছে না এ বাহন। বেড়েই চলেছে বিশৃঙ্খলা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস চলাচল করে এমন সড়ককে ছোট বাহন বা ব্যাটারিচালিত রিকশা চললে কখনো শৃঙ্খলা ফিরবে না। বরং অনেকগুণ বেড়ে যাবে যানজট। তবে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ব্যাটারির রিকশা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার পতনের আগে গত ১৫ মে সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। চালকদের বিক্ষোভের মুখে সেই ঘোষণা থেকে সরকার সরে আসে। এরপর ঢাকায় ব্যাটারির রিকশা বেড়েছে হু হু করে। ব্যাটারির রিকশাচালক ও তাদের সংগঠনের সদস্যরা বলছেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সড়কে ব্যাটারির রিকশার সংখ্যা বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে পুলিশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তারা অলিগলি থেকে চলে আসে মহাসড়কে, উঠে যায় উড়ালসড়কে।
সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও ব্যাটারির এই রিকশা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত। কেউ বলছেন, বর্তমান সময়ে এসে পা দিয়ে রিকশা চালানো অমানবিক। তা ছাড়া পায়ে চালিত রিকশার গতি কম। সেই তুলনায় ব্যাটারির রিকশায় চালকের পরিশ্রম কম, গতিও বেশি, আয়ও বেশি। তবে ব্যাটারির রিকশা নিয়ে অন্যদের যুক্তি, সাধারণ রিকশার কাঠামোতে ব্যাটারি লাগিয়ে গতি বেড়েছে ঠিক, কিন্তু এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেশি। সেই সঙ্গে গত কয়েক বছরে এই রিকশা এত বেড়েছে যে, ঢাকার অলিগলিতে তাদের দাপটে চলা দায়। গতি বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় প্রায়শ নানা দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় এ বাহনটি। গত সপ্তাহে ডিএমপি কমিশনার ব্যাটারি চালিত মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি নির্দেশনা দিয়েছিলেন, মহানগরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে পারবে না। কিন্তু এবারও দিব্যি চলছে। তা হলে এই নির্দেশনা দেওয়ার যুক্তি কি?
কয়েক বছর ধরে ব্যাটারি রিকশার ঝুঁকিগুলো নিরসনে কী কী করা যায়, কীভাবে এই রিকশা আরও যাত্রীবান্ধব ও সড়কবান্ধব করা যায়, তার বহু তত্ত্বগত ও প্রযুক্তিগত আলাপ বিশেষজ্ঞরা করেছেন। পত্রপত্রিকায়ও সেগুলো প্রকাশ পেয়েছে। আমরা মনে করি, একেবারে এসব রিকশা উঠিয়ে দিলে চালকদের বড় একটি সংখ্যা পরিবার নিয়ে বিপদে পড়বেন। এর চেয়ে মূল সড়কে না দিয়ে নিয়ম-কানুন মেনে অলিগলিতেই রিকশাগুলো চলাচল করতে পারে। সেই সঙ্গে এসব রিকশা সংস্কার করে কীভাবে গতি নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা রোধ করা যায় এমন কিছু উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।