প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশে যতদিন না আওয়ামী লীগ ক্ষমা চাচ্ছে, তাদের নেতৃত্বকে ট্রায়ালের মধ্যে আনা হচ্ছে, যতক্ষণ না বিচার হচ্ছে, দায়বদ্ধতার মধ্যে আসছে ততদিন তাদের কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না। তাদেরকে আগে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। আমাদের স্পষ্ট অবস্থান এখানে।
বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাসহ অনেকেই জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে শেখ হাসিনা জোরপূর্বক গুম ও হত্যার সরাসরি নির্দেশদাতা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় একটা হত্যাকাণ্ড হলো, আপনার-আমার চোখের সামনে বাচ্চা ছেলেমেয়েদের খুন করা হলো, শত শত ছেলে অন্ধ হয়ে গেছে, অনেকে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছে। তারপরও তো আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। নেই অনুতপ্তও। তার ওপর তারা মিথ্যা কথা বলছে, ৩ হাজার পুলিশ সদস্য মারা গেছে। কত বড় জালিয়াতি, কত বড় মিথ্যা কথা।
এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, আওয়ামী লীগের যারা ক্লিন আছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না, তারা কি অনুতপ্ত হয়েছেন? তারা কি বলেছেন, আমরা অনুতপ্ত? অন্য নেতা যারা আছেন তারা কি বলেছেন যে পার্টি এই কাজ করেছে আমরা অনুতপ্ত, ক্ষমা চাই? ৭১টি শিশুকে তারা মেরেছেন। হেলিকপ্টার দিয়ে মেরেছেন। আওয়ামী লীগের কে এসে বলছে, শেখ হাসিনার লিডারশিপ মানি না, আমি একটা ক্লিন লিডারশিপ চাই। কে এসে অনুতপ্ত হচ্ছেন।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নীতিমালা চূড়ান্ত করা যাবে বলে আশা করছি। একটি কমিটির মাধ্যমে এই কার্ড দেওয়া হবে। দ্রুতই নতুন নীতিমালা অনুযায়ী কার্ড দেওয়া হবে। এর আগ পর্যন্ত বিদ্যমান কার্ড চালু থাকবে।
নতুন অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নীতিমালায় বিভিন্ন ধারা পরিবর্তন হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন নীতিমালায় স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো কার্ড হবে না। কার্ডের মেয়াদ হবে তিন বছর। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হলেই তার অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল হবে না, অভিযোগ প্রমাণিত হলেই বাতিল হবে।
আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, সরকার মনে করে নারীদের ফুটবল প্রমোট করা উচিত। তারা আমাদের সমাজের অংশ এবং তারা আমাদের গর্ব। নারীদের ফুটবল ব্যাহত হোক এটা সরকার চায় না। মেয়েদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে একটা ঘটনা ঘটেছে। যদিও সরকার আয়োজিত তারুণ্যের উৎসবের আওতায় পড়ে না খেলাটি। খেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে কিছু সমস্যা লক্ষ করেছি। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সিরিয়াসলি নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা স্থানীয় পর্যায়ে কথাবার্তা বলছেন। এই বিষয়ে কীভাবে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান তৈরি করা যায়, সেটি নিয়ে সবাই কাজ করছেন।
সময়ের আলো/আরএস/