রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ ও খামার বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) এর মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) ড. নার্গীস আক্তারের অপসারণ দাবি করে লাগানো ব্যানার ও পোষ্টার সরাতে কর্মকর্তা- কর্মচারিদের বাধ্য করায় তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সোমবার অফিসের কার্যক্রম বন্ধ রেখে কর্মচারিরা বিভিন্ন দেওয়াল থেকে পোষ্টার তোলার কাজ করেন। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) কর্মকর্তা- কর্মচারিদের নিয়ে ডিজির বৈঠক করার কথা থাকলেও তাকে প্রতিষ্ঠানে সারাদিনেও দেখা যায়নি। বিজেআরআই এক সিনিয়র একজন কর্মকর্তা জানান ডিজি'র বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে তার স্বৈরাচারী চিত্র ফুটে উঠার সংবাদ প্রচারের পর নিজের চেয়ার বহাল রাখতে বিভিন্ন জায়গায় তদবিরে সময় কাটাচ্ছেন।
একাধিক কর্মকর্তা জানান, সোমবার বেলা ১১টায় বিজেআরআই এর সম্মেলন কক্ষে পূর্ব নির্ধারিত একটি সেমিনার আয়োজনের কথা থাকলেও তা অনিবার্য কারণবশত দেখিয়ে বিকাল ১১ টার পরিবর্তে বিকেল ৩ টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়। কারণ হিসেবে সংস্লিস্টরা জানান, জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিপক্ষে অবস্থান নেয়া এই কর্মকর্তাকে এখনো মহাপরিচালক হিসেবে বহাল রাখার প্রতিবাদে একটি পক্ষ এই পোস্টারিং করেছে। ডিজি'র অপসারণের দাবিতে গত রোববার লাগানো ব্যানার ও পোষ্টার সরানোর জন্য সোমবার সকালে কর্মকর্তা কর্মচারিদের বাধ্য করা হয়। ঐদিন সকালে প্রতিষ্ঠানের সকল পরিচালক, মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (পিএসও) ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের জরুরি ভিত্তিতে ডাকেন মহাপরিচালক ড.নার্গীস আক্তার।
আলোচনার শুরুতেই কয়েক জন পিএসও বলেন যে, কোনো হত্যা মামলার আসামিকে ডিজি হিসেবে তারা দেখতে চান না। পরবর্তীতে ডিজি'র নির্দেশে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বাধ্য করা হয় রাজধানীর বিভিন্ন দেওয়ালে লাগালো সকল পোস্টার অপসারণের। সরেজমিনে খামারবাড়ি এলাকায় দেখা যায় মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.গোলাম মোস্তফা, ড. মো:নজরুল ইসলাম, ড.মোরশেদ আলমসহ কয়েকজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রায় ২০ থেকে ২৫জন কর্মচারি মিলে পোস্টার ছিড়তে থাকেন। মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত পোস্টার সরানোর জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ব্যবহার করাটা ভালভাবে নেননি পোস্টার ছিড়তে আসা কর্মকর্তা কর্মচারিরা। এসময় তাদেরকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
ডিজির বিরুদ্ধে লাগানো পোস্টারের ছবিতে বিগত দিনে পরিচালক ড. নার্গীস আক্তারের ‘শেখ হাসিনাতেই আস্থা’ ব্যানারের সামনে ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়াও বিগত সময়ে পতিত স্বৈরশাসকের কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সাথে বিভিন্ন ছবি রয়েছে তার। ব্যানারগুলোতে নার্গীস আক্তারকে জুলাই হত্যা মামলার আসামি এবং আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। জানা যায়, পতিত শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার আগের দিন আওয়ামী সরকারের পক্ষে রাজধানীর খামারবাড়ি সড়কে কৃষিবিদদের শান্তি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের ব্যানারের সামনে নার্গীস আক্তারকে ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
বিজেআরআই’র একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ‘কর্মজীবনে ড. নার্গীস আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে সিনিয়রদের ডিঙ্গিয়ে পদোন্নতি ভাগিয়ে নিয়েছেন। সর্বশেষ ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর আবারো পাঁচজন সিনিয়রকে ডিঙ্গিয়ে বিজেআরআই’র মহাপরিচালকের চেয়ারে তাকে বসায় কৃষি মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে তখনই ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইনস্টিটিউশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মহাপরিচালক হওয়ার পর গত কয়েক মাসে বিএনপিপন্থী একাধিক কর্মকর্তাকে আঞ্চলিক কেন্দ্রে এবং আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে আসার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সর্বরেশষ সোমবার পোশাক কেনাকাটার অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ৩ জন কর্মচারিকে গনমাধ্যমের সাথে কথা বলায় ৩ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এনিয়েও কর্মকর্তা কর্মচারিদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এবিষয়ে কথা বলার জন্য বাংলাদেশ পাট গবেষনা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) এর মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) ড. নার্গীস আক্তারের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।