শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবী জুড়েই প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস এখন পোল্ট্রি। জনসংখ্যা বাড়ছে, তাই উৎপাদন বাড়াতে হবে, টেকসই করতে হবে পোল্ট্রি শিল্প।
বিদ্যমান ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো কিভাবে মোকাবেলা করা যাবে সে বিষয়ে ৮৮টি দেশি-বিদেশি টেকনিক্যাল পেপার উপস্থাপনের মাধ্যমে মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে শুরু হয়েছে ১৩তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি সেমিনার।
ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন- বাংলাদেশ শাখা (ওয়াপসা-বিবি) ও বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) এ সেমিনারের আয়োজন করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ওয়াপসা-বিবি’র সভাপতি মসিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার প্রামাণিক।
প্রথম দিনের অনুষ্ঠিত সেশনগুলোতে চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ইউজিসি অধ্যাপক ড. এস.ডি চৌধুরি, বাকৃবি’র সাবেক উপাচার্য্য ড. এমদাদুল হক চৌধুরী, বিএলআরআই এর সাবেক চীফ সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো. গিয়াসউদ্দিন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সদস্য পরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, বাকৃবি’র অধ্যাপক ড. কে.এম. সাইফুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী।
কো-চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ.টি.এম মাহবুব-ই-এলাহী, অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্লা, বাকৃবি’র অধ্যাপক ড. সুকুমার সাহা, অধ্যাপক ড. মো. গোলজার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন ডা. বয়জার রহমান, পরিচালক উৎপাদন ড. এ.বি.এম খালেদুজ্জামান এবং প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওয়াপসা-বিবি’র সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশকে আমরা একটি পুষ্টি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে দেখতে চাই। তাই অভিধান থেকে ‘অপুষ্টি’ শব্দটি মুছে ফেলতে হবে। আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাগুলোই আগামীর বাংলাদেশ, আগামীর পৃথিবী গড়তে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, ভোক্তাদের ধারণা পোল্ট্রিতে প্রচুর পরিমাণে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয় অথচ বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশে এখন প্রচুর পরিমাণে প্রিবায়োটিক, প্রোবায়োটিক, ফাইটোজেনিক, ঊংংবহঃরধষ ঙরষ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে।
ওয়াপসা-বিবি’র সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার প্রামাণিক বলেন- পোল্ট্রি বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষকগণ পোল্ট্রি বিজ্ঞানকে প্রতিনিয়তই নিত্যনতুন সমাধান উপহার দিচ্ছেন। বিগত ২৮ বছর ধরে ওয়াপসা-বাংলাদেশ শাখা- ব্যবসা ও বিজ্ঞানের মাঝে সম্পর্কের সেতু বন্ধন তৈরি করেছে। বিজ্ঞানী-গবেষকদের কাজ কখনও শেষ হয়ে যায় না কারণ প্রতিটা দিনই এক একটা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়। জরাজীর্ণতাকে কাটিয়ে নতুন এক সম্ভাবনাময় দেশ গড়ার ডাক এসেছে আমাদের সবার জন্য। নতুন ও অজেয়কে জয় করার চেষ্টা আমাদের নিত্যদিনের কাজেরই অংশ।
সেমিনারের গবেষক ও বক্তারা বলেন- খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা না থাকলে কাউকেই পোল্ট্রি খামারের নিবন্ধন দেয়া ঠিক হবেনা। খামারিদের বাঝাতে হবে একের অসতর্কতা অন্যের ক্ষতির কারণ। এভাবেই পুরো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এন্টিবায়োটিক ও ওষুধের ব্যবহার বাড়ার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে, উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।
তারা বলেন- যেভাবে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বাড়ছে, জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে- তাতে নতুন নতুন রোগ-বালাই দেখা দিচ্ছে। আগামীতে পোল্ট্রি বিজ্ঞানীদের কাজ আরও অনেক বাড়বে। লবণাক্ততা সহিষ্ণু, খরা সহিষ্ণু ধানের মত সম্পন্ন মুরগির জাত উদ্ভাবন করতে হবে।
বক্তারা বলেন-পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়েই উৎপাদন বাড়াতে হবে, কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তারা আরও বলেন- ইন্ডাষ্ট্রি বড় হচ্ছে তাই রিসাইক্লিং-এর কথাও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সরকার এ ধরনের শিল্প স্থাপনে প্রণোদনা ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে পারেন।