অমর একুশে আজ শুক্রবার। দিনটিতে ভাষার জন্য আত্মদানকারী শহিদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে জাতি। যার ফলে ভোর থেকেই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ঢল নেমেছে সর্বস্তরের মানুষের।
রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সর্বস্তরের শ্রেণি-পেশার মানুষ ছুটে আসছেন শহীদ মিনারে। ফুল হাতে নিয়ে শোকের আবেশে সাদা-কালো পোশাকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হচ্ছেন।
এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহরে ১২টা ২ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শহীদ মিনারে ফুল দেন। ফুল দেওয়া শেষে ১২টা ৩ মিনিটে তিনি শহিদ মিনার ত্যাগ করেন।
এর পর ১২টা ১২ মিনিটে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রধান উপদেষ্টা ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
সর্বস্তরের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাত ১২টা ৪০ থেকেই উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় শহীদ মিনার।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নির্দেশনা অনুযায়ী, বেলা ৩টা পর্যন্ত বকশিবাজার থেকে জগন্নাথ হল ক্রসিং, চাঁনখারপুল থেকে রমনা চত্বর ক্রসিং, টিএসসি থেকে শিববাড়ী ক্রসিং এবং উপাচার্য ভবন থেকে ভাস্কর্য ক্রসিং সড়কে প্রবেশ বন্ধ।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত কয়েক বছর ধরে এ দিবসটি পালিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের এই দিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে পূর্ববাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠীর চোখ-রাঙ্গানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শঙ্কিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।