স্বাদে ভিন্ন দামে চড়া

গোলাম মোস্তফা

জাতীয়

বৈচিত্র্যপূর্ণ ইফতারের সমাহার দেখা যায় রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার দোকানগুলোয়। এই বৈচিত্র্যের খোঁজেই ক্রেতারা ভিড় করেন আগ্রহ নিয়ে। বৈচিত্র্য ও পদে

2025-03-12T09:43:13+00:00
2025-03-12T09:43:13+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
স্বাদে ভিন্ন দামে চড়া
ধানমন্ডির ইফতার বাজার
গোলাম মোস্তফা
প্রকাশ: বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫, ৯:৪৩ এএম 
ছবি : সময়ের আলো
বৈচিত্র্যপূর্ণ ইফতারের সমাহার দেখা যায় রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার দোকানগুলোয়। এই বৈচিত্র্যের খোঁজেই ক্রেতারা ভিড় করেন আগ্রহ নিয়ে। বৈচিত্র্য ও পদে ভিন্ন খাবারের স্বাদ নিতে অনেকে ইফতার কিনতে এই এলাকায় ঢুঁ মারেন। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্তসহ মোটামুটি সচ্ছল ক্রেতাদের চাহিদা মাথায় রেখেই এখানে তৈরি হয় রকমারি ইফতার। এই এলাকায় ঘরোয়া আইটেমের সঙ্গে বাড়তি কিছু যোগ করতে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, রেস্টুরেন্টের বুফেতেও রোজাদারদের ভিড় চোখে পড়ে। ফুটপাথ থেকে শুরু করে ছোট ছোট টং দোকান এমনকি মোড়ে মোড়ে ইফতারের আয়োজনও মনে ধরার মতো।

ধানমন্ডির জিগাতলা, সাতমসজিদ রোড, রবীন্দ্র সরোবর, শুক্রাবাদ কলাবাগানসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হালিম, চাপ ও কাবাব আইটেম এবং জিলাপির বেশি চাহিদা এখানে। তবে দামও খুব বেশি। যদিও বিক্রেতারা বলছেন, কিছু কিছু ইফতার আইটেমের দাম গত বছরের চেয়ে সামান্য বেড়েছে। এ ছাড়া ক্রেতাদের কথা চিন্তা করে অনেক ইফতারির দাম বাড়ানো হয়নি। তবে খাবারের মান বিবেচনা করে দাম বেশি হলেও ফুটপাথের চেয়ে ভালো রেস্তোরাঁ থেকেই ইফতার কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন অনেকে।

এসব আইটেমের মধ্যে রয়েছে- ছোলা, মুড়ি, বুট, আলুর চপ, পেয়াজু, বেগুনি, চিকেন সমুচা, শিঙাড়া, ডিম চপ, শামি কাবাব, বুরিন্দার পাশাপাশি গরুর হালিম, মুরগির হালিম, খাসির হালিম, গরুর মাংসের চপ, কাশুনাট, কাবলি বুট, শামি কাবাব, চিকেন জালি কাবাব, চিকেন উইংস, চিকেন অনথন, চিকেন হানি, চিকেন রোল, চিকেন ফ্রাই, চিকেন লেগ কাবাব, চিকেন কেরাম কাটলেট, চিকেন সাসলিক, চিকেন রোস্ট, চিকেন ড্রাম স্টিক, আলু পরটা, দুধ নান, চাইনিজ সবজি, ব্রেন মাসালা, চিকেন ঝাল ফ্রাই, খাসির লেগ রোস্ট, মুরগির আস্ত রোস্ট, খাসির চাপ, রেশমি কাবাব, গরুর চপ, বিফ আচারি, গরুর কালো ভুনা, বিফ কড়াই, কার্লি চিকেন, খাসির কলিজা, গরুর মাংসের শিক কাবাব, সুতি কাবাব, চিংড়ি বল, চিকেন বটি কাবাব, চিকেন তান্দুরি, চিকেন তাওয়া চাপ, বিফ তাওয়া, চিকেন গ্রিল, দই বড়া, জাফরানি জিলাপি, ডাবলির ঘুগনি, নেহারি, স্যুপ, ডাল-সবজি, গিলাকলিজা কিংবা স্পেশাল হালুয়াসহ রকমারি খাবার থরে থরে সাজানো।

এই এলাকায় দুপুরের পর থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। ব্যস্ত সময় পার করেন বিক্রেতারাও। এর মধ্যে ধানমন্ডি বীর উত্তম এমএ রব সড়কে স্টার হোটেল অ্যান্ড কাবাব, জিগাতলায় কাচ্চি ভাবী, সেরা রাঁধুনি, ধানমন্ডি ৯/এ-তে টেস্ট ব্লাস্ট রেস্তোরাঁ, ধানমন্ডি ১০-এর আলতা প্লাজায় তেহারি ঘর, ধানমন্ডির ২৭-এ মুঘল কাবাব হাউস এবং কলাবাগানে মামা হালিমে ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি ও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ইফতারসামগ্রী কিনতে দেখা গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন হোটেল কিংবা রেস্তোরাঁর সামনে প্রচলিত ইফতারির পাশাপাশি নানা স্বাদের বাহারি ইফতার সাজিয়ে হাঁকডাক দিচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। আর এসব বাহারি পদের ইফতারি কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন রোজাদাররা। দুপুরের পর থেকেই ইফতার কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় এলাকাটিতে। তবে হোটেল ও দোকান ভেদে এসব ইফতারসামগ্রীর দামেও ভিন্নতা রয়েছে।

ধানমন্ডির স্টার হোটেল অ্যান্ড কাবাবে প্রচুর ভিড়ে মধ্যে ইফতারি কিনতে এসেছেন রায়হানুল ইসলাম। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, ইফতারে সবারই চাওয়া থাকে কম খরচের মধ্যে ভালো খাবার। তাই ভিড়ের মধ্যে এখানে ইফতার কিনতে এসেছি। তবে দাম গতবারের চেয়ে অনেক বেশি। চড়া দামের বিষয়টি অস্বীকার করেন স্টার হোটেল অ্যান্ড কাবাবের কর্মচারী জহিরুল ইসলাম। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, রোজাদার ও ভোজনপ্রিয় সবার কথা মাথায় রেখে ন্যায্যমূল্যে ইফতারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আটা, চিনি, তেল, ডাল এবং মাংসসহ ইফতারসামগ্রী বানাতে যেসব উপাদান প্রয়োজন হয়, সেসবের দাম বাড়ায় কয়েকটি আইটেমের দাম গতবারের চেয়ে কিছুটা বেশি। আর দাম সহনীয় আছে বলেই সবসময়ই এখানে অতিরিক্ত ভিড় থাকে। তবে শুক্র ও শনিবার ভিড় একটু বেশি থাকে। অনেকে এখানে ইফতারের জন্য আগে থেকে বুকিং দিয়ে রাখেন।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেগুনি, পেয়াজু, আলুর চপ, শাকের বড়া, সবজি পাকোড়া, ডিম চপ, চিকেন সমুচা, শিঙাড়া, শামি কাবাব, পনির সমুচা, শামি কাবাব, চিকেন জালি কাবাব, চিকেন উইংস, চিকেন অনথন ও চিকেন রোল প্রতি পিস ৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলা ও বুন্দিয়ার কেজি ২০০। সাধারণ জিলাপির কেজি ২০০ টাকা, চিকন জিলাপি ৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিকেন হানি ১০০ টাকা, চিকেন ফ্রাই ৮০ টাকা, কাশুনাট কেজি প্রতি ১ হাজার টাকা, কাবলি বুট ৫০০ টাকা কেজি, চিকেন লেগ কাবাব ১৫০ টাকা, চিকেন কেরাম কাটলেট ১৫০ টাকা, চিকেন সাসলিক ৮০ টাকা, চিকেন ড্রামস্টিক ৭০ টাকা, আলু পরটা ৫০ টাকা, দুধ নান ৬০ টাকা, স্পেশাল নান পরটা ৩৫ টাকা, চাইনিজ সবজি ৩০০ টাকা কেজি, ব্রেন মাসালা প্রতি কেজি ১১০০ টাকা, মাটন বঁটি কাবাব ২৫০ টাকা, সুতি কাবাব কেজি প্রতি ১৬০০ টাকা, জাম্বো রোস্ট ৫০০ টাকা, চিকেন ঝাল ফ্রাই কেজি প্রতি ৭০০ টাকা, খাসির লেগ রোস্ট প্রতি পিস ৭৫০, মুরগির রোস্ট প্রতি পিস ৩২০, খাসির চাপ কেজিপ্রতি ১৪০০ টাকা, মোরগ পোলাও ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, তেহারি হাফ ১৪০ টাকা, তেহারি ফুল ২৩০ টাকা, বিফ শিক কাবাব ২১০ টাকা, চিকেন বাট কাবাব ১৬০ টাকা, ফুল গ্রিল ৪৮০ টাকা, তেহারি ফুল ৪০০ টাকা, চিকেন বিরিয়ানি ফুল ৪০০ টাকা, খিচুরি ফুল ৪০০ টাকা, কাচ্চি বিরিয়ানি ফুল ৬০০ টাকা, বোরহানি হাফ লিটার ১২০ টাকা, জাফরান শরবত এক লিটার ৫০০ টাকা, মাঠা ৫০০ গ্রাম ১২০ টাকা, হালিম ছোট বাটি ১৫০ টাকা। আবার আকার অনুযায়ী গরুর হালিম ২৫০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা, খাসির হালিম ৩০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা এবং মুরগির হালিম হাজার থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

রোজায় হালিমের চাহিদা অনেক বেশি বলেও জানান সেরা রাঁধুনির কর্মচারী হাসান মিয়া। তিনি বলেন, আমাদের এখানে হালিমসহ ইফতারির প্রতিটি আইটেম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। খেতেও অনেক ভালো। শুধু রোজায় নয়, সবসময় এখানকার হালিমের কদর থাকে। কিন্তু রোজার মধ্যে একটু বেশি চাহিদা।

কলাবাগানে মামা হালিমে ক্রেতাদের বেশ উপস্থিতি দেখা গেছে। গ্রিন রোড এলাকা থেকে এই দোকানে হালিম কিনতে আসা নূরুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, অনেক আগেই মামা হালিমের অনেক নাম-ডাক শুনেছি। অনলাইনেও অনেক ভিডিও দেখেছি। কিন্তু খাওয়া হয়নি কখনো। তাই আজ কিনতে এলাম।

মামা হালিমের এক কর্মচারী বলেন, এখন ইফতারির সময়। ভিড় অনেক বেশি, তাই কথা বলার সময় নেই। আশা করছি আগামী রোজাগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়বে। তিনি বলেন, আমাদের এখানে হালিমের দাম বাড়ানো হয়নি। গতবারের মতোই হালিমের পাতিলের দাম নির্ধারণ করা।

ধানমন্ডি লেকে রবীন্দ্র সরোবরের ১৫০ টাকায় প্যাকেজে ইফতার বিক্রি করতে দেখা গেছে। এই প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে এক মুঠো মুড়ি, সামান্য ছোলা, এক পিস পেয়াজু, এক পিস বেগুনি, দুই পিস আলুর চপ, একটি সমুচা, এক পিস সবজি বল এবং এক গ্লাস শরবত।

ধানমন্ডির আলতা প্লাজায় তেহারি ঘরে ইফতারি কিনতে আসা মাকসুদা নামের এক চাকরিজীবী সময়ের আলোকে বলেন, এই এলাকায় ইফতারির আলাদা একটা বৈশিষ্ট্য আছে। ভিন্ন আইটেমে বাজারে অনেক ইফতারি রয়েছে। কিন্তু দাম অনেক বেশি। তাই কেনার মতো সক্ষমতা সবার নেই। তবু ইফতারের জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই কেনার চেষ্টা করছি।


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: