ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কে নতুন মাত্রা

এমএকে জিলানী

জাতীয়

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে ২৬ মার্চ চীন যাচ্ছেন। ২৮ মার্চ প্রধান

2025-03-16T02:02:36+00:00
2025-03-16T02:02:36+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬,
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
জাতীয়
ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কে নতুন মাত্রা
চীনে যাচ্ছেন ড. ইউনূস
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: রোববার, ১৬ মার্চ, ২০২৫, ২:০২ এএম   (ভিজিট : ৪৮৫)
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে ২৬ মার্চ চীন যাচ্ছেন। ২৮ মার্চ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্টের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তাৎপর্যপূর্ণ এই সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। আসন্ন সফরে দুই পক্ষের মধ্যে পানি সমঝোতার নবায়নসহ কমপক্ষে ১০ ইস্যুতে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের ক‚টনীতিকরা আসন্ন সফরের বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করতে এখনও কাজ করছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ২৬ মার্চ বিকালে প্রধান উপদেষ্টা চীনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। ২৭ মার্চ তিনি বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া অ্যানুয়াল কনফারেন্সের উদ্বোধনী প্লেনারিতে অংশ নেবেন। সেখানে বক্তৃতা দেবেন তিনি। ২৭ মার্চ বিকালে চীনের স্টেট কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে। ২৮ মার্চ চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ২৯ মার্চ সকালে পিকিং বিশ^বিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তার থাকার কথা রয়েছে। সেদিন রাতে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। এই সফরে দ্বিপক্ষীয় আর কী কী বিষয় থাকবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব অংশীদার কাজ করছেন। সফরের আগে এ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

বোয়াও ফোরাম একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা। ২৯টি দেশ এই ফোরামের সদস্য। এই ফোরাম এশিয়া এবং অন্যান্য মহাদেশের সরকার, ব্যবসায়ী এবং শিক্ষাবিদদের জন্য উচ্চ স্তরের সম্মেলনের আয়োজন করে যেন তারা এই অঞ্চল এবং বিশ্বে র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করতে পারে। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে এশিয়া : একটি অভিন্ন ভবিষ্যতের পথে’। এই ফোরামে উন্নয়ন, সংলাপকে উৎসাহ প্রদান, উদ্ভাবনী বিন্যাস অন্বেষণ এবং বাস্তব ফলাফল মূল্যায়নের মতো বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন এবং সহযোগিতার বিকাশ ঘটানোই এই ফোরামের মূল লক্ষ্য।


কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এবারের বোয়াও ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানান বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার মহাসচিব ঝ্যাং জুন। শুরুতে এই ফোরামে অংশ নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত চীনের কূটনীতিকদের তৎপরতায় প্রধান উপদেষ্টা আসন্ন সম্মেলনে যোগ দিতে সম্মতি দেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি আসন্ন সফরে ঢাকা-বেইজিং শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন সফরে দুই পক্ষের মধ্যে কম-বেশি ১০ ইস্যুতে সমঝোতা হতে পারে। যার মধ্যে পানি ইস্যুতে দুই পক্ষের সমঝোতা নবায়ন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সহায়তা, ষষ্ঠ চীন-মৈত্রী সেতুর সংস্কার, বাংলাদেশ হাইওয়ে নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, খেলাধুলা, প্রতি বছর দুই দেশের নির্বাচিত ৫০টি করে বই বাংলা-চাইনিজ ভাষায় অনুবাদ, রোবট ফিজিওথেরাপি পুনর্বাসন কেন্দ্র, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং দুর্যোগ সহযোগিতা বিষয়ক প্রকল্প সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। এ ছাড়া চীন চায় যে বাংলাদেশ তাদের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (জিডিআই), বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ (জিএসআই) এবং বৈশ্বিক সভ্যতা উদ্যোগে (জিসিআই) যোগ দিক। আসন্ন সফরে চীন এসব নিয়ে আলোচনা তুলতে পারে। তবে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা এখনই চীনের এসব উদ্যোগে যুক্ত হতে চায় না। এসব উদ্যোগের পেছনে ভূ-রাজনীতি জড়িত থাকায় ঢাকা আরও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চায়।

প্রধান উপদেষ্টার আসন্ন চীন সফর বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের পর আসন্ন সফরেই দুই দেশের প্রধানের মধ্যে প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্য দিয়ে সামনের দিনে দুই পক্ষের সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, কোন কোন বিষয় গুরুত্ব পাবে সেগুলোর পথ-পরিকল্পনা হবে। চীন চায় যে এশীয় অঞ্চলের কোনো দ্বন্দ্বে যেন পশ্চিমা দেশ নাক না গলায়। তাদের চাওয়া, এশীয় অঞ্চলের যেকোনো সংকট এই অঞ্চলের দেশগুলো মিলেই সমাধান করবে। এ বিষয়ে আসন্ন সফরে চীন বাংলাদেশের সমর্থন চাইতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ চীনের কাছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা চাইবে। এর বাইরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।


বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ও‌য়েন সাংবাদিকদের ব‌লেন, কোনো সুনির্দিষ্ট সরকার নয়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রাখাই চীনের নীতি। একইভাবে চীনের জনগণও বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়। বাংলাদেশ ও চীন পরীক্ষিত বন্ধু। ঐতিহ্যগতভাবে সব দেশের সরকারপ্রধানকে চীন সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।

চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফায়েজ দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার আসন্ন চীন সফরের তাৎপর্য হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হবে। গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়েছে। তাই চীন নতুন সরকারের সঙ্গে কীভাবে কাজ করবে আসন্ন সফরের মধ্য দিয়ে তা ঠিক হবে। বিশ্বের সব দেশই অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিয়েছে এবং সবার সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছে। এই বাস্তবতায় প্রধান উপদেষ্টা প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় সফরে চীন যাচ্ছেন। তাই এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ।


  বিষয়:   অন্তর্বর্তী সরকার  ড. ইউনূস  চীন সফর  ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: