জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের চ্যালেঞ্জ

ইমরান রহমান

জাতীয়

ভিন্ন আঙ্গিকে ২৯ এপ্রিল রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটরিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে এবারের ‘পুলিশ সপ্তাহ’। ৩ দিনব্যাপী হতে যাওয়া এ

2025-04-12T05:38:23+00:00
2025-04-12T05:38:23+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬,
১২ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের চ্যালেঞ্জ
ইমরান রহমান
প্রকাশ: শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৫, ৫:৩৮ এএম 
পুরোনো ছবি
ভিন্ন আঙ্গিকে ২৯ এপ্রিল রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটরিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে এবারের ‘পুলিশ সপ্তাহ’। ৩ দিনব্যাপী হতে যাওয়া এ পুলিশ সপ্তাহ ঘিরে বাহিনীটির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জনগণের আস্থা অর্জনে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে পুলিশ বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতির প্রতিই গুরুত্ব দিচ্ছেন বাহিনীর সব স্তরের সদস্যরা। 

ইতিমধ্যে জনআকাক্সক্ষা পূরণের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করেছে বিভিন্ন ইউনিট। পুলিশ সপ্তাহে বিভিন্ন ইউনিটের প্রেজেন্টেশনে নিজ নিজ ইউনিটের চ্যালেঞ্জগুলো উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি চলতি বছরের ডিসেম্বরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা থাকায়-নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা তুলবেন পুলিশ সদস্যরা। পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে নির্বাচন ঘিরে আসতে পারে একগুচ্ছ নির্দেশনাও।

এ ছাড়া জনমনে আস্থা ফেরাতে জনবান্ধব পুলিশ হতে লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানো, গবেষণা বৃদ্ধি ও ঔপনিবেশিক আইন বাতিলসহ একগুচ্ছ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পুলিশ বাহিনী। যেগুলো বাস্তবায়ন হলে- পুলিশ আবারও জনগণের ভরসার নাম হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতি বছর পুলিশ সপ্তাহ মানে যেন পদকের ছড়াছড়ি হয়ে আসছিল। কয়েক শতাধিক পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন পদকে ভ‚ষিত করা হতো। কিন্তু এবার আর পদকের ছড়াছড়ি থাকছে না। 

পুলিশ সদর দফতর সূত্র নিশ্চিত করেছে, ৫ আগস্টের পর ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মাত্র অর্ধশত পুলিশ সদস্যকে পদক দেওয়া হবে। এখনও তালিকা চ‚ড়ান্ত না হলেও এই সংখ্যা ১০০ ছাড়ানোর সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে। 

অন্যদিকে আগামীকাল রোববার পুলিশের মহাপরির্দশক (আইজিপি) বাহারুল আলমের সঙ্গে দাবি-দাওয়া নিয়ে বৈঠকে বসবেন পুলিশ সদস্যরা। এ বৈঠকে চূড়ান্ত হবে পুলিশ সপ্তাহে কী কী দাবি উপস্থাপিত হবে। ইতিমধ্যে সব ইউনিট ও মাঠ পর্যায়ের পুলিশের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ দাবি প্রস্তুত করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এবার কিছু ইভেন্ট কাটছাঁট করে যুক্ত করা হয়েছে নতুন কয়েকটি বিষয়। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মিলন থাকছে না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে থাকবে না আলাদা আলোচনার সেশনও। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েও পুলিশ সদস্যরা যাচ্ছেন না। প্রধান উপদেষ্টা রাজারবাগ এসে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন। প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও নেই কোনো সেশন। প্রতি বছর পুলিশ সপ্তাহে সরকারপ্রধানের কাছে কনস্টেবল থেকে শুরু করে আইজিপি পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেন। এবারও তেমন দাবি-দাওয়া উত্থাপন করা হবে। তবে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি উত্থাপন করবে পুলিশ। সেগুলো বাস্তবায়নের জন্যও সরকারপ্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন এ বাহিনীর সদস্যরা। 

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পুলিশ সপ্তাহের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো ধরনের প্যারেড রাখা হয়নি। শিল্ডপ্যারেড প্রতিযোগিতাসহ অন্য প্রতিযোগিতাও নেই আয়োজনে। বিষয়টি নিয়ে অনেক পুলিশ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সূত্র জানান, প্রথমবারের মতো এবার পুলিশ সপ্তাহে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে বাহিনীর নীতিনির্ধারকদের মতবিনিয়ম সভা হবে। সেখানে উঠে আসা মতামত গুরুত্ব পাবে। কেমন পুলিশ দেখতে চান- এমন বিষয় ওই সভায় উঠে আসবে। পুলিশ সপ্তাহের শেষ দিনে আগামী ১ মে দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা।

পুলিশের একটি সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ, স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন, যানবাহন ও আবাসন সংকট সমাধান, নির্দিষ্ট সময় ডিউটির বাইরে অতিরিক্ত কাজের জন্য ভাতা এবং থানায় পুলিশের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা ও অবসরে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্য অনুযায়ী রেশন পাওয়াসহ বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি উত্থাপন করা হবে। 

সূত্র আরও জানায়, বৈষম্য দূর করতে এএসপি পদ থেকে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পদ নন-ক্যাডারদের জন্য রাখা, কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টকর পদ পর্যন্ত নাজুক আবাসন ব্যবস্থা উন্নত করা, ইন্সপেক্টরদের প্রথম শ্রেণির সুফল নিশ্চিত করলে সরকারি অন্য দফতরের মতো সরাসরি ষষ্ঠ গ্রেডে বেতনভুক্ত হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি তোলা হবে। 

এ ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানো, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা বৃদ্ধি, ঔপনিবেশিক আইন বাতিল, পুলিশ ইউনিভার্সিটি স্থাপন, এনভায়রনমেন্টাল পুলিশ ইউনিট চালু, সাইবার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন, সেন্টার ফর পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি) গঠন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনি পরামর্শক নিয়োগের দাবি তোলা হতে পারে।

দাবিগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান সময়ের আলোকে বলেন, এখনও কোনো দাবি চূড়ান্ত হয়নি। আমরা দাবিগুলো নিয়ে কাজ করছি। তবে এবারের পুলিশ সপ্তাহে প্রধান এজেন্ডাগুলোর মধ্যে থাকবে-কীভাবে আইনশৃঙ্খলার আরও উন্নতি ঘটানো যায় এবং কীভাবে আরও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো যায়। কারণ একই পুলিশ গত ৭ মাসে কোনো গুম ও গুরুতর কোনো অপরাধ করেনি। জনগণের বিপক্ষে যায় এমন কোনো কার্যকলাপে জড়ায়নি। সুতরাং, সমস্যা পুলিশ বাহিনীতে নয়- সমস্যা ছিল কমান্ডিংয়ে। এ কমান্ডিং ব্যবস্থা কীভাবে জনআকাক্সক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করা যায়- সেটিও একটি অন্যতম এজেন্ডা হবে আমাদের। কারণ-পুলিশ কখনো দেশ ও দেশের মানুষের ক্ষতি চায় না। আমরা বিশ্বাস করি, দেশ ভালো থাকলে, দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হলে, ভালো থাকবে প্রতিটি পুলিশ সদস্য। এ জন্য রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পুলিশ বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতি ঘটানোর দাবি থাকবে আমাদের।
 
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর সময়ের আলোকে বলেন, ২৯ ও ৩০ এপ্রিল এবং ১ মে-এই তিন দিনব্যাপী হবে এবারের পুলিশ সপ্তাহ। এতে বাহিনীর সদস্যরা কী দাবি তুলে ধরবেন-সেটি আগেই বলা সম্ভব নয়। তবে আশা করা হচ্ছে-এবার জনআকাক্সক্ষার বিষয়গুলো তুলে ধরা হতে পারে।

বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার সময়ের আলোকে বলেন, আমরা পুলিশ সদস্যদের নানা সমস্যা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি প্রস্তুত করেছি। পুলিশ সপ্তাহে সেগুলো উপস্থাপন করা হবে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানিয়েছে, ২৯ এপ্রিল সকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন। দুপুর ১২টায় রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিশেষ দরবার হবে। প্রধান উপদেষ্টা পুলিশের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন। 

এ অনুষ্ঠানে ইউনিটপ্রধানরা ভার্চুয়ালি শুভেচ্ছা জানাবেন প্রধান উপদেষ্টাকে। দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে দরবার শেষ হবে। এরপর বেলা সাড়ে ৩টায় আইজিপি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। ৩০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টায় পুলিশ অডিটরিয়ামে এসবি, সকাল সোয়া ১০টায় সিআইডি, বেলা ১১টায় র‌্যাবের প্রেজেন্টেশন হবে। দুপুর ১২টায় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র সচিবের সম্মেলন হবে। দুপুর আড়াইটা থেকে বেলা সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ট্যুরিস্ট পুলিশ, পিবিআই ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) প্রেজেন্টেশন হবে। সন্ধ্যা ৭টায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাদের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে।

১ মে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা পৌনে ১২টা পর্যন্ত এপিবিএন, রেলওয়ে পুলিশ ও নৌ-পুলিশের প্রেজেন্টেশন থাকবে। এরই মধ্যে সকাল ১০টায় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির স্টল পরিদর্শন ও বার্ষিক পুনাক সমাবেশ হবে। দুপুর ১২টায় হবে বিভিন্ন শ্রেণির নাগরিকের সঙ্গে পুলিশের মতবিনিময় সভা। বেলা ৩টায় শিল্পাঞ্চল পুলিশের প্রেজেন্টেশন হবে। বিকাল পৌনে ৪টায় পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভা, সন্ধ্যা ৭টায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তাদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ও রাতে ডিনারের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের পুলিশ সপ্তাহ।



Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: