বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেছেন, আমাদের নিজেদের যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আছে, তার মধ্য থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) আমাদের বাজার বড় করা উচিত। সেখানে আরও কয়েক বছর বাংলাদেশের জন্য শুল্কমুক্ত বাজারের সুবিধা আছে। সেই সঙ্গে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের বাজার অনুসন্ধান করতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত সংলাপে এসব কথা বলেন রেহমান সোবহান। বাংলাদেশে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কে প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে সিপিডি এ সংলাপের আয়োজন করে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন সংলাপ সঞ্চালনা করেন। সংলাপে রফতানির বিকল্প বাজার খোঁজার তাগিদ দিয়েছেন অন্য বক্তারাও।
রেহমান সোবহান বলেন, এশিয়ার বাজারও আছে; এই মহাদেশ আগামী দিনে বিশ্বের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধির মূল কেন্দ্র হবে। আগামী ২৫ বছরের মধ্যে এশিয়াই হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় জায়গা। সংলাপে সিপিডির চেয়ারম্যান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রধান লক্ষ্যবস্তু চীন। তাদের মধ্যকার সম্পর্ক কেমন হবে তা এখনও নির্ধারিত নয়। আরও সময় লাগবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় বিষয়। এই পরিস্থিতিতে আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের উচিত হবে রফতানির বিকল্প বাজার খোঁজা।
রেহমান সোবহান মনে করেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মোদ্দাকথা হলো, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রফতানির একক বৃহত্তম বাজার। সেখানে এত অনিশ্চয়তা থাকলে আমাদের বিকল্প খুঁজতে হবে।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিতে ১৮ কোটি ডলার আমদানি শুল্ক পাওয়া গেছে। তার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে রফতানি পণ্যে ১২৭ কোটি ডলার শুল্ক আদায় করেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হওয়া শীর্ষ তিন পণ্যে শুল্ক শূন্য করলে অন্য দেশকে সমান সুবিধা দিতে হবে। এতে বাংলাদেশের মোট শুল্ক লোকসান হবে ১৭ কোটি ডলার। ফলে নিছক শুল্ক হ্রাস করে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যাবে, বিষয়টি তেমন নয়।
সিপিডির সম্মানীয় এই ফেলো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর বাংলাদেশি পণ্যের ওপর এক বিলিয়ন ডলারের বেশি শুল্ক আদায় করে থাকে। অন্যদিকে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করে। এ সময় ট্রাম্পের শুল্কনীতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতায় জোর দেওয়ার আহ্বান জানান ড. মোস্তাফিজুর রহমান। পাশাপাশি কৌশলগত বিকল্প অন্বেষণেরও সুপারিশ করেন তিনি।
মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ মার্কিন আমদানিতে গড়ে ৬ দশমিক ২ শতাংশ শুল্ক এবং অন্যান্য শুল্ক আরোপ করে। তবে যখন রিবেট বিবেচনা করা হয়, তখন গড় শুল্ক ২ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসে। এর বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে মার্কিন আমদানিতে গড় শুল্ক ১৫ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ট্যারিফ অ্যান্ড ট্রেড কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান বলেন, প্রথমেই বুঝতে হবে, এটি পারস্পরিক শুল্ক নয়। ফলে আমরা যতই সাড়া দিই না কেন, লাভ নেই। আমাদের বুঝতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র কী চায়। সে জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। আবিদ খান আরও বলেন, কোনো পণ্যে শুল্ক কমালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আমদানি বাড়বে, তা নিশ্চিত নয়। আরেকটি উপায় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করা যায়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এফটিএ করা সহজ নয়। যতবারই আমরা এফটিএ করতে চেয়েছি, যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, বাংলাদেশ এখনও প্রস্তুত নয়।