ঝাঁজ বেড়েছে পেঁয়াজের, চাল-তেলের বাজারও চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

বেশ কয়েক মাস দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম ক্রেতারা নাগালে ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই ঝাঁজ বেড়েছে পেঁয়াজের। সপ্তাহ খানেকের ব্যবধানে দেশের

2025-04-18T19:28:18+00:00
2025-04-18T19:28:18+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
ঝাঁজ বেড়েছে পেঁয়াজের, চাল-তেলের বাজারও চড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:২৮ পিএম 
ছবি: সংগৃহীত।
বেশ কয়েক মাস দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম ক্রেতারা নাগালে ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই ঝাঁজ বেড়েছে পেঁয়াজের। সপ্তাহ খানেকের ব্যবধানে দেশের বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম দ্বিগুন হয়ে গেছে। ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজির পেঁয়াজ এখন ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

এছাড়া এ সপ্তাহে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে প্রতি লিটারে ১৪ টাকা। আর বেশ আগে থেকে চড়া রয়েছে চালের দাম। এদিকে হুট করে কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ায় তাদের সংসার খরচ বেড়েছে। 

শুক্রবার (১৮ এপ্রিল)  রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও ক্রেতা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটা জানা গেছে। তবে ঈদের আগে উত্তাপ ছড়ানো মুরগির বাজারে অনেকটা স্বস্তি ফিরেছে। সবজির বাজারও গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমতির দিকে রয়েছে। ডিমের দামও আগের মতো কম।

পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর বিষয়ে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এবার মৌসুমে বেশ কম দর ছিল পেঁয়াজের। ফলন ভালো হওয়ায় দেশি পেঁয়াজের কেজি সর্বনিম্ন ৩০ টাকায় নেমেছিল। এরপর কিছুটা বেড়ে ঈদের পরও ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে এখন দর উঠেছে ৬০-৬৫ টাকায়।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঈদের পর প্রায় প্রতিদিন পাইকারি বাজারে একটু একটু করে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। সব হিসাবে নিলে, গত দুই সপ্তাহে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ৩০ টাকা বেড়েছে। এখন পাইকারিতে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৮ টাকায়। আর খুচরাতে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়।

এ বাজারের এক ক্রেতা বলেন, পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩০-৩৫ টাকা ও তেলের দাম ১৪ টাকা বেড়েছে। এভাবে যদি একের পর এক পণ্যের দাম বাড়তেই থাকে তাহলে আমাদের মধ্য-মধ্যবিত্ত মানুষ কীভাবে খরচ সমন্বয় করবে?

এদিকে, গত মঙ্গলবার থেকে বাজারে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা ও পাম তেলের দাম ১২ টাকা বেড়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ১৮৯ টাকা, যা আগে ছিল ১৭৫ টাকা। পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২২ টাকা, যা ছিল ৮৫২ টাকা। বোতলজাত তেলের পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের নতুন দাম হবে প্রতি লিটার ১৬৯ টাকা, যা ছিল ১৫৭ টাকা।

কাঁকরোলের কেজি ১৪০, বেগুনের সেঞ্চুরি

এদিকে সবজির বাজারেও দাম বেড়েছে সব ধরণের সবজির। গত রমজান মাস জুড়ে সবজির দাম সবচেয়ে কম থাকায় ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে কিনতে পেরেছেন। তবে ঈদের পর থেকে বাজারে সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। বলতে গেলে বাজারে এখন সব সবজির দাম বাড়তি। সবচেয়ে দামি সবজির তালিকায় আছে কাঁকরোল, যার প্রতি কেজি ১৪০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি গোল বেগুনও সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে, পাশাপাশি লম্বা বেগুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা। বাজারে ৬০ থেকে ৮০ টাকার নিচে তেমন কোনো সবজি নেই।

বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা,  মুলা ৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, কাঁকরোল ১৪০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, উচ্ছে  ৮০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৭০টাকায়, ধুন্দুল ১০০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, বেগুন (গোল) ১০০ টাকা, বেগুন (লম্বা) ৮০ টাকা, পটল৭০ টাকা, কচুর লতি  ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, পেঁপে  ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, জালি প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা,  কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা, লেবু মানভেদে প্রতি হালি ২০ থেকে ৩০ টাকা, আলু প্রতি কেজি ৩৫ টাকা এবং গাজর প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।

মুরগির দামে স্বস্তি মিললেও মাছের বাজারে অস্থিরতা


অপরদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছের বাজারে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি দুইশ টাকার নিচে নামলেও মাছের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে দেশি জাতের মাছের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে চিংড়ি, শিং, টেংরা, শোল ও পুঁটির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। দেশি চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০০-৮৫০ টাকা। চাষের চিংড়ির দামও বেড়ে হয়েছে ৬৫০-৭৫০ টাকা। টেংরা ও শিং মাছ ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আগে যা ছিল ৫০০-৬০০ টাকার মধ্যে। শোল মাছের দাম বেড়ে ৮৫০ টাকায় পৌঁছেছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৭৫০-৮০০ টাকা। রুই ও কাতলা মাছেও বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে তেলাপিয়া ও পাঙাশের মতো সাধারণ মাছের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে ২০০-২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির বাজারে স্বস্তি


অন্যদিকে মুরগির বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৮০ টাকায় নেমে এসেছে। সোনালি মুরগি ২৫০-২৭০ টাকায় এবং দেশি মুরগি ৬৫০-৬৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের চেয়ে ২০-৩০ টাকা কম। এদিকে বেশ কয়েক সপ্তাহ নিম্নমুখী ডিমের দরে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দামে। মাসখানেক ধরেই এই দামের আশপাশে রয়েছে ডিমের দর। গরু ও খাসির মাংসের দাম স্থিতিশীল গরু ও খাসির মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন না থাকলেও সাধারণ ভোক্তাদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকা কেজিতে, খাসির মাংস ১,২৫০ টাকা ও ছাগলের মাংস ১,১০০ টাকা।


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: