সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন এস. মুরশিদ বলেছেন, বাংলাদেশ আর যাই হোক, একটি দরিদ্র দেশ নয় এটি একটি অব্যবস্থাপনার দেশ, দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। এদেশে রাষ্ট্রভাণ্ডার শূন্য করে দিলেও সেটাকে চুরি বলা হয় না। রাষ্ট্রপর্যায়ের দুর্নীতি দেশদ্রোহিতার শামিল, কারণ এটি রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেয়। আজ যে দেশ আমরা হাতে পেয়েছি, সেটাকে কয়েক মাসের মধ্যে ফেরেশতা এলেও ঠিক করতে পারবে না। তারপরও এটিকে একটা জায়গায় এনে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
শনিবার (৩ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘পিএফএস: পলিউশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিউবার্ট বোম, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সহ-আহ্বায়ক এমএস সিদ্দিকী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। আলোচায় অংশ নেন ওয়াটারকিপার অ্যালায়েন্সের অ্যাডভোকেসি পরিচালক জ্যাকি এসপোসিটো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা সাইপ্রেস সিসটেম আইএনসি’র চিফ টেকনোলজি অফিসার ড. জাকি ইউসুফ, ইএসডিও’র প্রোগ্রাম উপদেষ্টা অটল কুমার মজুমদার এবং থ্রি ফিফটি ডট অর্গ’র দক্ষিণ এশিয়া মোবিলাইজেশন সমন্বয়ক আমানুল্লাহ পরাগ। এসময় বাংলাদেশে পিএফএএস দূষণের উপর অবস্থানপত্র উত্থাপন করেন সিনিয়র ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্টিভিস্ট শাহিদ হাসান। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল।
সমাজকল্যান উপদেষ্টা বলেন, আমরা খুবই দূষিত পরিবেশের মধ্যে বসবাস করছি। পরিবেশ ধ্বংস হয়ে গেলে মানুষের সুরক্ষা থাকে না। রাজনৈতিক দলগুলো যদি আমাদের পাশে না আসে, আমরা একা সামাল দিতে পারবো না। আমরা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছি। চলুন সবাই মিলে নদী রক্ষা করি, পিএফএস দূষণ থেকে আমাদের নদী ও মানুষকে বাঁচাই। আমরা একসময় আর্সেনিক নিয়ে গবেষণা করেছি, আন্দোলন করেছি। আমাদের দেশের মানুষ এখনো আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে।
ভূ-পৃষ্ঠের পানি রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে এখনো নীতিমালা প্রতিপালনে অকার্যকারিতা ও দূরদৃষ্টির অভাব রয়েছে। যে পানি আমরা পান করছি সেটা দূষিত। আমরা যে কত সংকটের মধ্যে রয়েছি, তা আমরা বুঝতেই পারছি না।
সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা বলেন, বৈশ্বিক আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে দিয়ে পরিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংসের মাধ্যমেই এই সভ্যতা গড়ে উঠেছে। পরিবেশ ধ্বংস হলে মানুষ সুরক্ষিত থাকে না। পরিবেশ দূষণকে আমাদেরকে গুরুত্বের জায়গাতে নিয়ে আসতে হবে। সরকারকে নদী নিয়ে, পিএফএএস দূষণ নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।
সময়ের আলো/জেডআই