পোশাক রফতানির ৭০ লাখ ডলার দিচ্ছে না রাশিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

বাংলাদেশের ১৪টি নিটওয়্যার পণ্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের ৭০ লাখ ডলার দিচ্ছে না রাশিয়ার বেশ কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। গত এক বছর ধরে

2025-05-07T19:19:54+00:00
2025-05-07T19:19:54+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
পোশাক রফতানির ৭০ লাখ ডলার দিচ্ছে না রাশিয়া
জানালেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ মে, ২০২৫, ৭:১৯ পিএম 
বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ১৪টি নিটওয়্যার পণ্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের ৭০ লাখ ডলার দিচ্ছে না রাশিয়ার বেশ কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। গত এক বছর ধরে পোশাক রফতানির এই বিশাল অঙ্কের অর্থ আটকে রেখেছেন রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলো। 

বুধবার (৭ মে) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে আয়োজিত ‘মিট দা প্রেস’ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। 

তিনি আরও বলেন, ওই ১৪টি কারখানা মালিক রাশিয়ায় পাশাক রফতানি করে বিপাকে পড়েছেন। এক বছর হয়ে গেল ৭০ লাখ ডলারের পেমেন্ট দিচ্ছে না রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলো। এ নিয়ে এক বছর ধরে আমরা রাশিয়ান সরকার এবং বাংলাদেশ সরকারি পর্যায়ে অনেক দেন দরবার করেছি, কিন্তু আজ অবধি কোনো সুরাহা হয়নি। এখন আমরা আলোচনা চালাচ্ছি রুপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের বিলের সঙ্গে ওই অর্থ সমন্বয় করে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থ দেওয়া যায় কিনা। কারণ রূপপুরের জন্য তো বাংলাদেশ সরকার রাশিয়া সরকারকে অর্থ দিচ্ছেই। সেখান থেকে ওই ৭০ লাখ ডলার কেটে রেখে দিলেই হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে আমরা সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চালাচ্ছি। 

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে দেশের পোশাক খাতের নিটওয়্যার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাচনে মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বাধীন প্রগ্রেসিভ নিট অ্যালায়েন্স নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে আয়োজিত ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানে ১৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। কাস্টমস জটিলতা দূর, এইচএস কোডের জটিলতা নিরসন, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস নিশ্চিতকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণসহ ১৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছ এই প্যানেল।

প্রায় এক যুগ পর ভোটের মাধ্যমে আগামী ১০ মে বিকেএমইএ’র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবার ৩৫টি পরিচালক পদে প্রার্থী ৩৮ জন। এরমধ্যে হাতেমের নেতৃত্বে গঠিত প্রগ্রেসিভ নিট অ্যালায়েন্স প্যানেলের প্রার্থী ৩৫। এই নির্বাচনে মাত্র তিন জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। ফলে হাতেমের প্যানেলের জয় অনেকটাই অবধারিত। মোহাম্মদ হাতেম বর্তমানে সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। ব্যবসায়ীদের অন্যতম শীর্ষ এই সংগঠনটির ৯০০-এর মতো সদস্য থাকলেও এবার ভোটার হয়েছে ৫৮২টি। এর মধ্যে ঢাকায় ভোটার সংখ্যা ২২৪, নারায়ণগঞ্জে ২৭২ এবং চট্টগ্রামে ভোটার সংখ্যা ৭৬। 

সংবাদ সম্মেলনে প্রগ্রেসিভ নিট অ্যালায়েন্স যে ইশতেহার তুলে ধরে তার মধ্যে রয়েছে-কাস্টমস ও বন্ড জটিলতা নিরসনে জোরালো পদক্ষেপ-প্রগ্রেসিভ নিট অ্যালায়েন্সের ইশতেহারের প্রথমেই রয়েছে আমদানি ও রফতানিতে বিদ্যমান কাস্টমস জটিলতা দূরীকরণ। এইচ.এস. কোড নিরসন, এফওসি-তে কাঁচামাল আমদানি ও রফতানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, কম্পোজিট ইউনিটের ক্ষেত্রে আমদানি ও ব্যবহারের স্বচ্ছ নিয়ম প্রণয়ন, বন্ডেড থেকে নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানে কাঁচামাল সরবরাহের বাধা দূর করাসহ বন্ড কমিশনারেটের অনিয়ম-জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানগুলোকে জোর করে বন্ড লাইসেন্স করাতে গিয়ে যে রফতানি ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে, তার প্রতিবন্ধকতাও দূর করার অঙ্গীকার রয়েছে।

বর্তমানে শতভাগ রফতানি খাতের কারখানার জন্য ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে। কিন্তু রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে নানাভাবে ভ্যাট নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আইন করে রাখা মূসকের নানারকম ফরমের ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন রয়েছে। তদুপরি এই সকল ফরমের ব্যবহার না করায় রাস্তাঘাটে রফতানিমুখী শিল্পের মালামাল পরিবহনে নানা জটিলতা তৈরি করে রফতানিকে বাধাগ্রস্ত করে এবং অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

বর্তমানে ট্যাক্সেশন পদ্ধতিটি কোনভাবেই বিনিয়োগ ও ব্যবসা বান্ধব নয় এবং ট্যাক্সেশনের মূল চেতনা ও মৌলিক অধিকার পরিপন্থি দাবি করে এ পদ্ধতির সংস্কারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ট্যাক্স অ্যাসেসমেন্ট পদ্ধতি সহজ করা ও ট্যাক্সের হার দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থির রাখার জন্য এনবিআর -এর সাথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

গতিশীল উৎপাদন ব্যবস্থা ও লিড টাইম নিশ্চিত করণে স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় সুতা আমদানি চালু করার লক্ষ্যে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌক্তিক আলোচনার পরিবেশ তৈরি করবো।

ব্যাংকিং খাতের নানা প্রকার জটিলতা দূর করণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং রপ্তানিবান্ধব নীতি প্রণয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা অব্যাহত রাখা।

ইউরোপ-আমেরিকার উপর নির্ভরতা কমাতে বিশ্বের অপ্রচলিত বাজারে সম্ভবনা অনুসন্ধান ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাজার বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নেওয়া। প্রয়োজনে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পণ্য বিপণনে গতিশীলতা আনয়নে চুক্তি সই করা। বৈচিত্র্যময় ও উচ্চ মূল্যের পোশাক প্রস্তুত করতে সরকারের নীতিমালা প্রণয়নে অবদান রাখা।

আধুনিকায়নের মাধ্যমে কারখানাগুলোকে বিশ্বমানে উন্নীত করার ক্ষেত্রে আরএসসি’র প্রণীত জটিল নীতিমালাগুলো সহজ করতে সরকার ও আরএসসি বোর্ডের সাথে দর কষাকষির ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া।

ক্রেতা কর্তৃক অনৈতিক বায়িং প্র্যাকটিস তথা পণ্যের কম দাম দেওয়া, পণ্য বুঝে নিয়ে মূল্য পরিশোধ না করা, দামে ছাড় দিতে বাধ্য করা, বায়িং হাউস/ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার/শিপিং লাইনের যোগসাজশে মূল্য পরিশোধ না করে মাল ছাড়িয়ে নেওয়া এবং ক্রয়াদেশ বাতিল করার মতো ঘটনা যেন বায়াররা ঘটাতে না পারেন সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কালো তালিকাভুক্ত করে সর্বমহলে অবহিত করার ব্যবস্থা করা।
বৈদেশিক শুল্কব্যবস্থা, পরিবেশ বিপর্যয়, মহামারি, যুদ্ধাবস্থার মতো বিষয়গুলো প্রায়শই আমাদের রপ্তানি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে যেকোনো বৈদেশিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রপ্তানিখাতকে প্রস্তুত রাখতে দৃঢ় পদক্ষেপ রাখা।

বিকেএমইএ’র বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে শ্রম অসন্তোষ থেকে রক্ষা পেয়েছে নিটওয়্যার খাত। এ ধরনের সফলতাগুলো বহির্বিশ্বে প্রচারের মাধ্যমে খাতসংশ্লিষ্ট ভাবমূর্তি উন্নয়নে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাওয়া। শ্রমিক-কর্মচারী মালিক সরকার সকলে মিলে শ্রমিক ও শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি। শ্রমিকদের যেকোন ন্যায্য দাবির প্রতি বিকেএমইএ’র পূর্ণ সমর্থন এবং একইসাথে অন্যায্য দাবির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করা।

শিল্পখাতে জ্বালানি সংকট নিরসন করে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পের বিকাশে সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তি, প্রশিক্ষণ ও বিপণনে সরকারি নীতি নির্ধারণীতে কার্যকর ভূমিকা রাখা।

দেশের রফতানিখাতকে বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশে বিদেশে প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়নে পোশাক শিল্প পরিবার তথা দেশের বস্ত্রখাতসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে আমরা বিকেএমইএ সরকারের সাথে সহযোগীর ভূমিকা পালন করার প্রত্যয় ঘোষণা করছি। ঢাকাতে বিকেএমইএ’র একটি নিজস্ব ভবন নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

সময়ের আলো/জেডআই


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: