পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারী

এসএম আলমগীর

জাতীয়

বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হয়েছিলেন সাধারণ বিনিয়োগকারী। পুঁজি হারিয়ে আত্মহত্যা করার মতো ঘটনাও ঘটেছিল তখন। গত

2025-05-11T04:19:01+00:00
2025-05-11T04:30:00+00:00
 
  রবিবার, ৭ জুন ২০২৬,
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
জাতীয়
পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারী
প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে বসছেন আজ
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: রোববার, ১১ মে, ২০২৫, ৪:১৯ এএম  আপডেট: ১১.০৫.২০২৫ ৪:৩০ এএম  (ভিজিট : ৭৮৬)
ছবি: সংগৃহীত
বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হয়েছিলেন সাধারণ বিনিয়োগকারী। পুঁজি হারিয়ে আত্মহত্যা করার মতো ঘটনাও ঘটেছিল তখন। গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আশায় ছিলেন- এবার হয়তো ঘুরে দাঁড়াবে দেশের শেয়ারবাজার। অথচ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ৯ মাসেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। এখনও ধুঁকছে শেয়ারবাজার।

সূচক ও লেনেদেন নামতে নামতে একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। লোকসান দিতে দিতে বিনিয়োগকারীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। কাফনের কাপড় পরে মিছিলও করেছেন তারা। তারপরও কোনো প্রতিকার মেলেনি। বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের দাবিও করেছেন বিনিয়োগকারীরা। কারণ তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাজারের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে মত তাদের। বিশেষ করে তিনি এখন পর্যন্ত যত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার সবগুলো বিনিয়োগকারীদের বিপক্ষে গেছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পুঁজিবাজার নিয়ে বৈঠকে বসছেন আজ রোববার। আজ দুপুর ১২টায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। বৈঠকের বিষয় ‘পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণ’।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়ার কাছে চিঠি পাঠিয়ে এ বৈঠক আয়োজনের কথা জানায়।

চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। চিঠিতে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (অর্থ মন্ত্রণালয়) আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেককে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।   

অবশ্য বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু অর্থ উপদেষ্টা, বিএসইসি চেয়ারম্যান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের সঙ্গে বৈঠক করে শেয়ারবাজারের উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণের কাজ সম্পর্কে ভালো ধারণা পাবেন না প্রধান উপদেষ্টা। আজকের বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), ডিএসই, সিএসই, মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন, ব্রোকাস অ্যাসোসিয়েশন ইত্যাদি সংস্থার প্রতিনিধিদের থাকা উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। 

তাদের মতে, সব পক্ষের প্রতিনিধি ছাড়া বৈঠক করলে বাজার উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণ নিয়ে একপেশে ও অসম্পূর্ণ ধারণা পাবেন প্রধান উপদেষ্টা।

পাঁচ সপ্তাহেই গায়েব ২১ হাজার কোটি টাকা:

দেশের শেয়ারবাজার টানা দরপতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, তার প্রায় দ্বিগুণ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হয়েছে। এতে সবকয়টি মূল্যসূচকের পতন হওয়ার পাশাপাশি বড় অঙ্কের বাজার মূলধন কমেছে। এর মাধ্যমে টানা পাঁচ সপ্তাহ পতনের মধ্যে থাকল দেশের শেয়ারবাজার।

পাঁচ সপ্তাহের এই টানা পতনে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ২১ হাজার কোটি টাকার ওপরে কমে গেছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে কমেছে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। শেয়ারবাজারে এমন দরপতন হওয়ায় মতিঝিলে কাফন পরে মিছিল করেছেন বিনিয়োগকারীদের একাংশ।

দুই সপ্তাহের টানা পতনের পর গত সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবস শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। তবে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে জড়ানোর আতঙ্কে গত বুধবার দেশের শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন হয়। এক দিনেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমে যায় ১৪৯ পয়েন্ট। এ ছাড়া বাজার মূলধন কমে ১০ হাজার কোটি টাকা। তবে বৃহস্পতিবার আবার বড় উত্থান হয়। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৯৯ পয়েন্ট বেড়ে যায়।

এতে সপ্তাহজুড়ে দরপতনের মাত্র কিছুটা কমে। অবশ্য এরপরও দাম কমার তালিকায় বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান থাকা অবস্থাতেই সপ্তাহ শেষ হয়। গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৪১টির স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। বিপরীতে দাম কমেছে ২৩০টির। এ ছাড়া ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

শেয়ারবাজারে এমন পতন হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার মতিঝিলের রাস্তায় কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ করেন বিনিয়োগকারীদের একাংশ। এই কাফন মিছিল থেকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদের অপসারণের দাবি জানানো হয়।

বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫২ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৪ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বা শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ। পাঁচ সপ্তাহের টানা পতনে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ২১ হাজার ৪২২ কোটি টাকা।

বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে কমেছে ১৫ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১৯ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৮২ শতাংশ। এ ছাড়া বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ২ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা ১৩ শতাংশ।

পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারী:

অন্যদিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ যোগ দেওয়ার পর শেয়ারবাজারের ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমআইএ)। এ জন্য দ্রুত বিএসইসি চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত জরিপে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের প্রতি অনাস্থা দাঁড়িয়েছে ৯৫ শতাংশেরও বেশি। তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেওয়ার পর বাজার মূলধন হারিয়েছে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। মার্কেট সূচক হারিয়েছে প্রায় ১ হাজার ১০০ পয়েন্ট। শনিবার ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) অডিটরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে এসব কথা বলেন বিসিএমআইএর নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বক্তব্য তুলে ধরেন সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন। এতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবদুল্লাহ আল ফয়সাল।

বিসিএমআইএ সভাপতি বলেন, পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে রোববার (আজ) অর্থ উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ও বিএসইসির চেয়ারম্যানকে নিয়ে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এখন পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে শেয়ারবাজার বুঝে এবং উন্নয়নে ভ‚মিকা রাখতে পারবে এমন কাউকে রাখা হয়নি।

বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যান যোগ দেওয়ার পর শেয়ারবাজারের একটি চিত্র তুলে ধরেন বিনিয়োগকারীদের এই নেতা। 

তিনি বলেন, বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যান যোগ দেওয়ার পর মার্কেট ক্যাপিটাল হারিয়েছে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। মার্কেট সূচক হারিয়েছে প্রায় ১ হাজার ১০০ পয়েন্ট। ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।




  বিষয়:   শেয়ারবাজার  বিনিয়োগ  বৈঠক  প্রধান উপদেষ্টা 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: