রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নানা আয়োজনে উদ্যাপন হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা।
রোববার (১১ মে) রাজধানীর বৌদ্ধ বিহারগুলোতে শান্তি শোভাযাত্রা, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, সমবেত প্রার্থনা ও ধর্মীয় আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে দিনটি।
বুদ্ধ পূজা, পিন্ডদান, পঞ্চশীল, অষ্টশীল গ্রহণ, ধর্মশ্রবণ ও দান দক্ষিণাসহ নানা আয়োজন ছিল ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহারে। ‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’ এই অহিংস বাণীর প্রচারক গৌতম বুদ্ধের শুভ জন্ম, বোধিজ্ঞান আর মহাপরিনির্বাণ—এই স্মৃতিবিজড়িত দিনটিকে বুদ্ধ পূর্ণিমা হিসেবে পালন করেন বুদ্ধভক্তরা।
বৌদ্ধধর্ম মতে, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে নেপালের কপিলাবস্তু রাজ্যের লুম্বিনি কাননে রাজা শুদ্ধধনের স্ত্রী মহামায়ার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন মহামতি গৌতম বুদ্ধ। এরপর বুদ্ধগয়ার বোধিবৃক্ষের নিচে দীর্ঘ ছয় বছর কঠোর সাধনার মধ্য দিয়ে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে বুদ্ধত্ব লাভ করেন তিনি। আশি বছর বয়সে একই দিনে শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতেই মহাপরিনির্বাণ বা দেহত্যাগ করেন গৌতম বুদ্ধ। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার পবিত্র দিন এটি। রাজধানীর বাসাবোতে ধর্মরাজিক মহাবিহারে সমবেত ভক্তরা সকল প্রাণীর কল্যাণ কামনায় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে গৌতম বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। গৌতম বুদ্ধের শুভ জন্ম, বোধিজ্ঞান ও মহাপরিনির্বাণ লাভ—এই তিন স্মৃতিবিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমা বিশ্বের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে বুদ্ধ পূর্ণিমা নামে পরিচিত। তাই দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ।
এ উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে দিনটি সরকারি ছুটি। এদিনের শুরুতে শান্তি শোভাযাত্রা, বৌদ্ধ মঠ এবং মন্দিরগুলোতে দিনব্যাপী প্রদীপ প্রজ্বলন, পূজা ও প্রার্থনার আয়োজন করে বুদ্ধের আদর্শ অনুসারী বৌদ্ধ সম্প্রদায়। এ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশজুড়ে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে বুদ্ধপূজা, প্রদীপ প্রজ্বলন, শান্তি শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা সভা, প্রভাতফেরি, সমবেত প্রার্থনা, আলোচনা সভা ও বুদ্ধপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, রাজধানীর বাসাবোর বুদ্ধ পূর্ণিমার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের যেকোনো উৎসবে পাশে থাকার কথা জানান ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ ও বিশৃঙ্খলার বিপক্ষে তার দেশ।
আরআর