হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারপূর্বক চাকরিচ্যুতদের স্বপদে চাকরিতে পুনর্বহাল, সংযুক্ত ও সাময়িক বরখাস্তদের স্বপদে বহালসহ বিশেষজ্ঞ কমিটির পল্লী বিদ্যুৎ সংস্কারের রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ করে অগ্রগতি প্রদর্শন করার দাবি জানিয়ে দেশের জেলা প্রশাসকদের স্মারকলিপি দিয়েছে পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
স্বারকলিপিতে সব চুক্তিভিত্তিক বা অনিয়মিতদের নিয়মিতকরণসহ বর্তমান ঝড়-বৃষ্টির মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা অক্ষুণ্ণ রাখা, লাইনক্রুদের মৃত্যু ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য লাইনক্রুদের বদলি আদেশ বাতিল করাসহ ইতিপূর্বে হয়রানিমূলক সব বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সুষ্ঠু ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের জন্য চেয়ারম্যান বোর্ড, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং বিদ্যুৎ উপদেষ্টাসহ সরকারের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) এর বিদ্যমান দীর্ঘদিনের সংকট সমাধানে সরকারের গ্রহণকৃত সংস্কার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ বা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সমিতি জনবলের ওপর আরইবির চলমান জুলুম, দমন-পীড়ন ও নির্যাতন ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মতো একটি অত্যাবশ্যকীয় জরুরী সেবা খাতের সংস্কারের পক্ষে গত বছরের জানুয়ারি হতে এক ও অভিন্ন সার্ভিস কোড বাস্তবায়ন করে একীভূত করন এবং সব অনিয়মিতদের নিয়মিত করণের দাবি করায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক বিনা নোটিশে ২৯ জনকে চাকরিচ্যুত, মামলা-রিমান্ড-গ্রেফতার, বরখাস্ত ও সংযুক্তির পাশাপাশি গত ৪ মাসে প্রায় ৪ হাজার সহকর্মীকে শাস্তিমূলকভাবে নিজ জেলা হতে কয়েকশত কিলোমিটার দূরত্বে বদলি করা হয়েছে।
হয়রানিমূলক বদলির শিকার লাইনক্রু প্রায় ৬৭৩ জন, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ৫৮৯ জন, ইসি ২৯০ জন, পিউসি ১২১ জন, বিলিং সুপারভাইজার ৩০৮ জন, এজিএম ৫৮০ জন, ডিজিএম ১৭৯ জন, সিনিয়র জিএম/জিএম ৩৬ জন, অন্যান্য ৯০৭ জনসহ সর্বমোট ৩৬৮৩ জন। সংস্কার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য আন্দোলনের অযুহাতে বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে শাস্তিমূলকভাবে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এই বদলি করা হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ব্যাপক জনবলের ঘাটতি রয়েছে, স্বল্প জনবল দিয়ে বর্তমানে কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টির মৌসুম ও তীব্র তাপদাহে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা চালু রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে এই ধরনের গণবদলির কারণে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও গ্রাহক সেবা চরমভাবে বিঘ্নিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। প্রহসনমূলক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত গণবদলির কারণে নতুন লাইনম্যানদের মৃত্যু ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লিখিত সম্ভাবনা সত্ত্বেও গত ১২ মে (সোমবার) পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক ৯০ জন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (আইটি) সহ আরও ৩৯৫ জন লাইনক্রুকে হয়রানি ও শাস্তিমূলক বদলি আদেশ জারি করা হয়েছে। বছরের মাঝামাঝি সময়ে এবং ঝড় বৃষ্টির মৌসুমে বিদ্যুৎ কর্মীদের এমন গণবদলি নজিরবিহীন এবং চরম অমানবিক। ফলে কর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের জানুয়ারি থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা আরইবির অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দুই দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আন্দোলনের যৌক্তিকতা উপলব্ধি করে সংকট সমাধানে উদ্যোগ নিলেও আরইবি সরকারের এই কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর প্রতিনিয়ত এক ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সম্পূর্ণ উস্কানিমূলক কার্যক্রম।
ইতিপূর্বে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে আরইবি'র এই ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতা চেয়ে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন, গণস্বাক্ষরসহ স্মারকলিপি, প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও দুঃখজনকভাবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ন্যুনতম কোন পরিবর্তন বা বিদ্যুৎ বিভাগের দৃশ্যমান কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় নাই। এমনকি সংস্কারের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হলেও দীর্ঘ প্রায় সাত মাসেও প্রতিবেদন দাখিল হয়নি। যা পল্লী বিদ্যুৎ সংস্কারে উদাসীনতা বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এসটিও