অবশেষে অচলাবস্থা কাটিয়ে পুরোদমে সেবা কার্যক্রম চালু হয়েছে রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের। ১৮ দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার (১৪ জুন) সকাল থেকেই পুরোপুরি চালু হয় হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম।
এদিন সকাল থেকেই হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা কাজে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি সেবাপ্রার্থী ও তাদের স্বজনদের ভিড়ও দেখা গেছে। রোগীদের ভর্তি কার্যক্রম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা- নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। আর আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিতেও দেখা গেছে চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের।
হাসপাতালটির একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, সকাল থেকে আমরা হাসপাতালে এসেছি। রোগীরাও আসছেন। সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যাদের প্রয়োজন ভর্তিও দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ৪ জুন থেকে জরুরি বিভাগে সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। পরে গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু হয়। আবার ওইদিনই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও জুলাই আহতদের পুনর্বাসনসহ ৮ দফা দাবিতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, আমরা জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স , কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গত বছরের জুলাই মাসে সংঘটিত ‘জুলাই আন্দোলন’-এ আহত সব রোগীকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও মানবিক বিবেচনায় উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বর্তমানে আমাদের হাসপাতাল এক চরম নিরাপত্তা সংকট ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন। চিকিৎসার প্রয়োজন শেষ হওয়া সত্ত্বেও কিছু রোগী প্রায় ১০ মাস ধরে অপ্রয়োজনে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। তারা হাসপাতালের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে উশৃঙ্খল আচরণ, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের গালিগালাজ, শারীরিক আক্রমণ, এমনকি হাসপাতাল পরিচালকের ওপর হামলা ও আগুন লাগানোর হুমকিসহ নানাবিধ সহিংস কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন।
এছাড়া, তাদের দখলে থাকা সিটগুলো প্রকৃত দরিদ্র ও জরুরি রোগীদের জন্য ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে অনেকেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্মারকলিপির অনুলিপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অপথ্যালমোলজিক্যাল সোসাইটি অফ বাংলাদেশ (ওএসবি) এর আহ্বায়ক/সদস্য সচিবকেও দেওয়া হয়।
গত ২৮ মে হাসপাতালটির চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় জুলাই আন্দোলনের আহতদের। এরপর থেকে নিরাপত্তা শঙ্কায় হাসপাতালের সব সেবা বন্ধ ছিল। হাসপাতালটিতে কোনো ধরনের রোগী ভর্তি, পরিক্ষা-নিরিক্ষা কিংবা অপারেশন করা হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, শহীদ জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ অনেকে চেষ্টা করেও বিষয়টির সমাধানে নিয়ে আসতে পারেননি।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সেবা কার্যক্রম চালু হওয়ার পর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. জানে আলম বলেন, আমরা আগে থেকেই ধীরে ধীরে সব সেবা চালু করার কথা জানিয়েছিলাম। আজ থেকে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করা হয়েছে।
এনএইচ