দেশে
করোনাভাইরাসের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট বা উপধরনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে জনমনে এক ধরনের আতঙ্ক ও শষ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের অনেকের প্রশ্ন আবার প্রাণঘাতী এই ভাইরাস কি সেই ভয়ালরূপে ফিরছে? এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর মহাখালীতে উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালসহ রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করানোর জন্য মানুষের প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে।
শনিবার (১৪ জুন) ডিএনসিসির হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই দুপুর পর্যন্ত করোনা টেস্ট করার জন্য হাসপাতালে নির্ধারিত বুথের সামনে প্রচণ্ড ভিড়। দীর্ঘক্ষণ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে তারা করোনা শনাক্তকরণের জন্য নমুনা দিতে আসা ব্যক্তিদের কিছুটা দুর্ভোগও পোহাতে হয়। ফলে হিমশিম খেতে হচ্ছে নমুনা সংগ্রকারীদের।
করোনার টেস্ট করতে একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই জ্বর, সর্দি, কাশিতে ভুগছেন। বিশেষ করে নারী ও বয়স্করা বেশি আতংকে রয়েছে। ফলে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন কি না তা জানার জন্য নমুনা জমা দিতে এসেছেন।
রাজধানীল নাখালপাড়া থেকে নমুনা দিতে আসা মনিরা বেগম বলেন, তিন দিন ধরে জ্বর, কাশিতে ভুগছি। ওষুধ খেয়েও জ্বর কমছে না। তাই নমুনা পরীক্ষা করাতে এসেছি।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে করোনা, ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, ভাইরাসজনিত জ্বর, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত জ্বর, টাইফয়েডের কারণে জ্বর ইত্যাদি চলমান আছে। ফলে বয়স্ক মানুষ, দীর্ঘমেয়াদী জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষ, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং নানা কারণে যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কম তারাই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তাই এই সময়ে কারও জ্বর হলে কোনোভাবেই সেটাকে অবহেলা করা যাবে না। একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা নিতে হবে। একইসঙ্গে করোনা ও ডেঙ্গু টেস্ট করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হয়েছে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে। এই অবস্থায় এতে নড়েচড়ে বসেছে দেশের প্রশাসন। জনসমাগম এড়িয়ে চলা, মাস্ক ব্যবহারসহ জারি করা হয়েছে নানা ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে এই ভাইরাস প্রতিরোধে দেশের সব স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়গুলো জোরদারের নিদর্শে দেওয়া হয়েছে।
করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় হাসপাতালগুলোতে সীমিত পরিসরে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা চালুর ব্যবস্থা করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। প্রাথমিকভাবে যেসব মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে আরটি–পিসিআর ল্যাব রয়েছে, সেখানেই এই পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এজন্য ঢাকার মহাখালীতে উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে সাধারণ ৫০ শয্যা ও আইসিইউর ১৫ শয্যা শুধু করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া রাজধানীর মুগদা ও কুর্মিটোলা হাসপাতালে পৃথক শয্যার পাশাপাশি খুলনা, ময়মনসিংহ এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৭ লাখ টিকা এবং রোগীদের পরীক্ষার জন্য ২৮ হাজার করোনা শনাক্তকরণ কিটের ব্যবস্থা করে বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।