আষাঢ় শুরু হলো। তীব্র গরমে ঋতুচক্রে স্বস্তি নিয়ে এলো বর্ষা। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আগামী এক সপ্তাহ টানা বৃষ্টি থাকবে। রোববার রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো বা হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমেছে।
আষাঢ় বাংলা বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস। আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল। কৃষি ও প্রকৃতির ক্ষেত্রে বর্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্ষা প্রকৃতিকে করে তোলে সুফলা। এই সময়ের বৃষ্টি কৃষিকাজের জন্য ভীষণ জরুরি। গ্রীষ্মে বৃষ্টির অভাবে মাঠ শুকিয়ে যায়। আষাঢ়ের বৃষ্টি সেই শুকনো মাঠগুলোকে সতেজ করে আর ফসল ফলানোর জন্য প্রস্তুত করে। প্রকৃতি তখন ফিরে পায় নবজীবন। চারপাশ সবুজ হয়ে উঠলে তার প্রভাবে উদাস হয়ে ওঠে মানুষের মন। এই ঋতুতে পদ্মফুল, শাপলা, কলমি ফুলের মতো জলজ ফুলগুলোও এ সময় প্রকৃতিকে করে তোলে আরও মনোমুগ্ধকর। সাহিত্যে বা গানে বর্ষা যেভাবে ধরা পড়ে তার প্রভাব পড়ে মানুষের মনেও। যেমন আকাশে মেঘ করলে নগরবাসী চুলায় খিচুড়ি চাপায়। যেন বর্ষা ও খিচুড়ি পরস্পরের পরিপূরক। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঝুম বৃষ্টিতে বেলকনিতে বসে চা খাওয়ার আনন্দও কম নয়। কাদামাটি মাখা শিশুদের উচ্ছ্বাস এই সময়ে এক অন্যরকম আবহ তৈরি করে চারপাশে। এত এত রোমান্টিকতার পরও বর্ষা নিয়ে আতঙ্কে থাকেন নগরবাসী। ঢাকা ও চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা রীতিমতো জনজীবনকে অচল করে দেয়। এমনকি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর মতো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়।
বলা হয়ে থাকে, বর্ষা যেমন আশীর্বাদ, তেমনি মাঝে মাঝে অভিশাপও হয়ে ওঠে। অতিবৃষ্টি নদীভাঙন, কখনও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করে। রোগ-জীবাণুর প্রাদুর্ভাব বাড়ে। তাই বর্ষা যেমন সৌন্দর্যের, তেমনি তা সচেতন থাকার কথাও মনে করিয়ে দেয়।
আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রাজশাহী, পাবনা, ফেনী এবং পটুয়াখালী জেলাসহ খুলনা বিভাগ ও রংপুর বিভাগের অবশিষ্টাংশের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু জায়গা থেকে প্রশমিত হতে পারে। বাতাসে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে বলা হয় মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির ওপরে উঠলে তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু এখন কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এতে ২২ জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি হয়ে এ তাপপ্রবাহ কমে আসবে।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ২২ জুন পর্যন্ত সারা দেশে প্রতিদিন বৃষ্টি হবে। টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি, কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। এ সময় দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে কখনো কখনো হতে পারে বজ্রপাত। তিনি বলেন, বজ্রপাতে অনেক প্রাণহানি হচ্ছে ইদানীং। তাই বজ্রধ্বনি শুনলেই ঘরে যেতে হবে, এ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশে জুন মাসের গড় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ৪৫৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার, জুলাইয়ে ৫২৩ মিলিমিটার, অগাস্টে ৪২০ দশমিক ৪ মিলিমিটার এবং সেপ্টেম্বর মাসের গড় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ৩১৮ দশমিক ২ মিলিমিটার।
সময়ের আলো/জেডআই