ছুটিতেও যত্নে থাকুক ঘরের পোষা প্রাণীটি

মুমিতুল মিম্মা

লাইফস্টাইল

ঈদ-পূজা-পার্বণ এলেই ঘরের পোষা কুকুর ডোরাকে নিয়ে চিন্তায় পড়েন মিম। ওকে যত্নশীল কারও কাছে রেখে যেতে না পারলে ছুটিটাই মাটি

2025-06-24T21:22:26+00:00
2025-06-24T21:26:17+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
লাইফস্টাইল
ছুটিতেও যত্নে থাকুক ঘরের পোষা প্রাণীটি
মুমিতুল মিম্মা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ জুন, ২০২৫, ৯:২২ পিএম  আপডেট: ২৪.০৬.২০২৫ ৯:২৬ পিএম
পোষ্য ডোরাকে কোলে নিয়ে মিম। ছবি: সময়ের আলো
ঈদ-পূজা-পার্বণ এলেই ঘরের পোষা কুকুর ডোরাকে নিয়ে চিন্তায় পড়েন মিম। ওকে যত্নশীল কারও কাছে রেখে যেতে না পারলে ছুটিটাই মাটি হয়ে যায়। ঘরে অন্য কোনো পোষা প্রাণী থাকলে ডোরা একটু ভীত হয়ে পড়ে। কাজেই যে বাসায় বা যার কাছে তাকে রাখা হবে সেই স্থানটি হওয়া চাই ওর জন্য নিরাপদ। অপেক্ষাকৃত শান্ত। তা ছাড়া নিজের ঘর ছেড়ে কয়েক দিনের জন্য ফস্টার হোমে রাখা হবে বলে মন খারাপ হলে উৎপাতও করতে পারে। কেয়ার গিভার যিনি থাকবেন সেসব মানিয়ে নিতে হবে তাকে। কিন্তু ছুটি অনুযায়ী সবসময় কী আর কেয়ার গিভার মেলে? ঘরের পোষ্য কুকুর-বিড়ালের এ সমস্যার সমাধানের জন্য ঢাকায় গড়ে উঠেছে প্রফেশনাল ফস্টার হোম ও পেট কেয়ার সেন্টার। সেখানে কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে কয়েক মাসের জন্যও পোষা প্রাণীটিকে রাখা যাবে। নিজের বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য মিলিয়ে খুঁজে নিতে পারেন আপনার স্বাচ্ছন্দ্যের ফস্টার হোমটি।

ফারিঘর
হিউমেন হোটেলের আদলে কুকুর-বিড়ালের জন্য তৈরি পেট হোটেল তৈরি করেছে ফারিঘর। ফারিঘরের দুটি শাখায় কুকুর ও বিড়াল রাখা যাবে। মিরপুর ও গুলশান শাখাগুলোয় কেউ চাইলে কয়েক ঘণ্টার জন্যও তার পোষ্যকে নিরাপদে রাখতে পারবেন। এখানে কেবিন সিস্টেমে বিড়াল ও কুকুর রাখা হয়। বিড়ালের জন্য সংরক্ষিত একেকটি কেবিনে সর্বোচ্চ ৩টি বিড়াল রাখা সম্ভব। মিরপুরে বিড়ালের জন্য কেবিন ১৮টি ও কুকুরের জন্য কেবিন ৭টি এবং গুলশানে বিড়ালের জন্য ২৬টি ও কুকুরের জন্য ৭টি কেবিন সংরক্ষিত। সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অবধি চেকিং টাইমিং কাউন্ট হয় এখানে। এখানে কুকুর-বেড়ালের জন্য রয়েছে আলাদা প্যাকেজ।

কয়েক দিন থেকে শুরু করে সপ্তাহ ও মাসব্যাপী প্যাকেজের আওতায় এখানে পোষ্য থাকতে পারে। তবে খাবারের বিষয়টি এখানে আলাদা। পোষ্যের প্রতিদিনের খাবার এখানে জমা দিয়ে যেতে হবে। কেউ চাইলে কাঁচা মাছ বা মাংস দিতে যেতে পারেন। ফারিঘর কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের দেওয়া নিয়মানুযায়ী পোষ্যকে খাইয়ে দেবে। পোষ্য যদি মাংস বা ক্যাট-ডগ ফুডে অভ্যস্ত হয় তা হলে অনেক দিন ধরে রাখা পোষ্যের ক্ষেত্রে খাবারের ব্যাপারে কিছুটা ছাড় পাওয়া যায়। হয়তো এক মাসের জন্য কেউ দেশের বাইরে যাচ্ছেন, সে ক্ষেত্রে মাসের খাবার দেওয়াটা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। সে ক্ষেত্রে পোষ্যের খাবার সরবরাহ করে ফারিঘর। সেখানে খাবারের খরচের সঙ্গে যুক্ত হয় সার্ভিস চার্জ। মাসখানেকের ভেতরে ফস্টার হোমের পাশাপাশি এখানে চালু হবে পেট কেয়ার সেন্টার। সেখানে পোষ্যের লোম ছাঁটাই, চোখ-কান-মলদ্বার পরিষ্কার, গোসল, নখ কাটার সুবিধা পাওয়া যাবে।

ফারিঘর। ছবি: সময়ের আলো

ফারিঘর। ছবি: সময়ের আলো


পেট ফস্টার কেয়ার সার্ভিস
প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা থেকে নব্বইয়ের দশকে প্রতিষ্ঠিত হয় গুলশান পেট কেয়ার সার্ভিস। কুকুর-বিড়াল তো বটেই, খরগোশ ও পাখির যত্মের কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। পোষ্যের নিয়মিত যত্মের পাশাপাশি এখানে চালু হয়েছে পেট ফস্টার কেয়ার সার্ভিস। গুলশান-২ ডিসিসি মার্কেটের পাশেই অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে একই ছাদের নিচে আপনি পাবেন ভেটের সঙ্গে পরামর্শ, ভ্যাক্সিনেশন, গ্রুমিং, বিহেভিয়ার ট্রেনিং, রোজ হাঁটতে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ভিনদেশে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পেট পাসপোর্ট সার্ভিসও। 

প্যাম্পারড প
করোনার লকডাউনে বসে অনেকেই ঘরে পোষ্য পালা শুরু করেন। কিন্তু দেশি কুকুর-বিড়ালের ক্ষেত্রে খাবার ও লোম ছাঁটাইয়ের সমস্যা না থাকলেও বিদেশি অনেক জাতের পোষ্যের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বেশ অসুবিধা হয়। নির্দিষ্ট খাবারের পাশাপাশি তাদের নিয়মিত লোম ছাঁটাইয়ের (গ্রুমিং) দরকার পড়ে। ঢাকায় ঠিকমতো গ্রুমিং সুবিধা না পেয়ে অহনা রহমান ও নাদিয়া হোসাইন মিলে বনানীতে চালু করেন প্যাম্পারড প। এখানে কুকুর-বিড়ালের লোম ছাঁটাই, দাঁত ব্রাশ করা, চোখ-কান-মলদ্বার পরিষ্কার, নখ কাটার মতো সার্ভিস তো আছেই, পাশাপাশি আছে ডগ-ওয়াকিং সার্ভিস। রয়েছে পেট হোটেল ও আশ্রয়কেন্দ্র। অহনা ও নাদিয়ার এ প্রতিষ্ঠানটি যেন পোষ্যের জন্য একের ভেতর সব। কেউ ঘুরতে গেলে তার পোষ্যকে রেখে যেতে পারেন এখানে। এখানে প্রতিবেলার খাবার হোটেল থেকেই দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাবেন পরিচ্ছন্নতার সেবাটিও।

/এমএইচআর



Loading...
Loading...
লাইফস্টাইল- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: