দেশের কৃষি জমির মাত্র ৪৪.৩৭ শতাংশ টেকসই ব্যবস্থাপনার আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে টেকসই কৃষির মাত্র ১.২০ শতাংশ জমি ‘প্রত্যাশিত’ স্তরে রয়েছে এবং ৪৩.১৭ শতাংশ গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দেশের কৃষি জমির ৫৫.৬৩ শতাংশ এখনও টেকসইতার বাইরে রয়েছে। যা একটি গভীর উদ্বেগের কারণ।
সোমবার (৩০ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস মিলনায়তনে কৃষিখাতের টেকসই উন্নয়ন পরিমাপে পরিচালিত ‘উৎপাদনশীল ও টেকসই কৃষি জরিপ ২০২৫’-এর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।
বিবিএস বলছে, প্রতি হেক্টরে কৃষি উৎপাদনের আর্থিক মান বিবেচনায় মাত্র ৪৪.৩৭ শতাংশ কৃষি জমি টেকসইভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে নেট ফার্ম ইনকাম সূচকে তুলনামূলক আশাব্যঞ্জক চিত্র উঠে এসেছে যা ৭৮.৭৯ শতাংশ কৃষিজমি বিগত তিন বছরে অন্তত একটি বছর লাভজনকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
জরিপটি বিবিএসের ‘টেকসই কৃষি পরিসংখ্যান (এসএএস)’ প্রকল্পের অধীনে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ২.৪.১ অনুযায়ী, উৎপাদনশীল ও টেকসই কৃষি জমির অনুপাত নিরূপণের লক্ষ্যে জরিপে সারা দেশের কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থা, পরিবেশগত টেকসইতা এবং জমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা হয়।
বিবিএস জানিয়েছে, এর মধ্যে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণকারী কৃষকের হার ৬৯.১৬ শতাংশ হলেও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কৃষক এখনও এই বলয়ের বাইরে, যা আর্থিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে।
বিবিএসের জরিপ বলছে, দেশের ৭২.৭৫ শতাংশ কৃষিজমিতে মাটির অবক্ষয় লক্ষণীয়, যা কৃষি উৎপাদনের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতায় বড় বাধা। পানির প্রাপ্যতায় ৮১.৬৬ শতাংশ জমি ভালো অবস্থানে থাকলেও সার ব্যবস্থাপনায় টেকসই পদ্ধতি অনুসরণের হার মাত্র ৫৬.৯৫ শতাংশ। আর কীটনাশক ব্যবস্থাপনায় তা আরও কমে ৫১.৩৭ শতাংশ।
তবে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক চাষাবাদ গ্রহণের হার ৭১.০৫ শতাংশ হওয়াটা পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক অগ্রগতি।
জরিপে দেখা যায়, ৬০.১২ শতাংশ কৃষিজমি এমন অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে শ্রমিকরা কৃষি মজুরি হারের চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। খাদ্য নিরাপত্তা সূচকে সবচেয়ে ইতিবাচক তথ্য এই, ৯৮.৮৩ শতাংশ কৃষক পরিবার গত বছরে কোনো খাদ্য সংকটে পড়েনি। এছাড়া জমির নিরাপদ মালিকানা অধিকার রয়েছে ৮৯.৩৫ শতাংশ কৃষক পরিবারের। যা কৃষি খাতের সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একটি বড় উপাদান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিজমির টেকসই ব্যবস্থাপনায় জোর দিতে হলে পরিবেশগত দিকগুলোর উন্নয়ন, কৃষকদের প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, নিরাপদ কীটনাশক ও সার ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি সহায়ক নীতিমালা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মিজ আলেয়া আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাঠোয়ারী, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী।
/এসটিও