
রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। যুদ্ধ কি শান্তি, সুস্থ কি অসুস্থ—সকল অবস্থায়—এমনকি মৃত্যুর আগে মৃত্যব্যাধিতে আক্রান্ত অবস্থায়ও তিনি নামাজ আদায়ে অবহেলা করেননি।
একা নামাজ পড়ার চেয়ে জামাতে নামাজ আদায়ে সওয়াব বেশি। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘জামাতে নামাজ আদায় করা একাকী নামাজ আদায় করার চেয়ে ২৭ গুণ বেশি সওয়াবের।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৫)। আল্লাহ বলেন, ‘নামাজ কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং নামাজে রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৪৩)
অনেক সময় জামাতের শুরুতে নামাজে অংশগ্রহণ করা যায় না কিংবা শুরু থেকে নামাজ পাওয়া যায় না। কোনো সময় রুকু, সেজদা অথবা বৈঠকে গিয়ে ইমামের সঙ্গে অংশগ্রহণ করতে হয়। যারা পূর্ণ নামাজ পায় না, তাদের মাসবুক বলা হয়। মাসবুক ব্যক্তিরা ইমামকে সেজদায় পেলে কী করবেন, অনেক সময় তা বুঝে উঠতে পারেন না। সেজদাতেই ইমামের সঙ্গে যুক্ত হবেন নাকি ইমাম সেজদা থেকে ওঠে দাঁড়ানো বা বসার অপেক্ষা করবেন, এখানে আলোচনা করা হলো—
ইমামকে সেজদায় পেলে ইমামের দাঁড়ানোর অপেক্ষা না করে তখনই ইমামের সঙ্গে সেজদায় অংশ নেওয়া প্রয়োজন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন নামাজে উপস্থিত হবে, তখন ইমামকে যে অবস্থায় পাবে, সে যেন সে অবস্থায়ই ইমামের সঙ্গে শরিক হয়ে যায়।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৫৯১)
আরেক হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যখন নামাজে এসে আমাদেরকে সেজদায় পাবে, তখন তোমরাও সেজদায় অংশ নেবে। তবে এই সেজদাকে নামাজের রাকাত হিসেবে গণ্য করবে না; বরং যে রুকু পাবে সেই নামাজ পেয়েছে। (অর্থাৎ ওই রাকাত পেয়েছে)।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৮৮৫)
হিশাম ইবনে উরওয়া তার পিতা উরওয়া (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন, ‘কেউ ইমামকে সেজদায় পেলে (তখনই নামাজে শরিক না হয়ে) ইমামের দাঁড়ানো পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকাকে তিনি অপছন্দ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা : ২৬২৮; উমদাতুল কারি, ৫/১৫২)
আরআর