২০২৪ সালে নেপালে বাংলাদেশ থেকে ৫০ হাজার পর্যটক বেড়াতে গেছে। নেপালের তিন হাজার শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়াশোনা করছেন, যাদের বেশির ভাগই মেডিকেল শিক্ষার্থী। নেপালের প্রতিটি হাসপাতালে বাংলাদেশের মেডিকেল গ্রাজুয়েট রয়েছেন, তারাই বাংলাদেশের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করছেন। ‘বাংলাদেশ-নেপাল অর্থনৈতিক সহযোগিতা: নতুন দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী রবিবার এই তথ্য জানান। ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ ও নেপাল ইকোনমিক ফোরাম।
নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী গোলটেবিল বৈঠকে বলেন, নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশি টাকাকে রূপান্তরযোগ্য মুদ্রা হিসেবে বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের পর্যটক ও নেপালের শিক্ষার্থীরা লাভবান হবেন। বাংলাদেশ ও নেপাল বহুপক্ষীয় ফোরামে একযোগে কাজ করছে। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, কানেক্টিভিটিতে সহযোগিতা বাড়ানোর আরও সুযোগ রয়েছে।
গোলটেবিল বৈঠকে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ-নেপাল বাণিজ্য বাড়াতে নন ট্যারিফ বাধা দূর করতে হবে। একইসঙ্গে ট্রান্সপোর্ট কানেক্টিভিটি আরও সহজ করা প্রয়োজন। নেপাল থেকে ইতোমধ্যেই ভারতীয় গ্রিড হয়ে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছে। সেই কারণে ভারতের সহযোগিতা নিয়েই বিবিএনের আওতায় নেপালের সঙ্গে কানেক্টিভিটি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ-নেপাল বহুপক্ষীয় ফোরামে বাণিজ্য বাড়াতে একযোগে আরও কাজ করতে পারে। আঞ্চলিক ও উপ আঞ্চলিক সহযোগিতাও বাড়াতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি) ড. সৈয়দ মুনতাসীর মামুন বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে একযোগে কাজ করছে। এসব ফোরামের মধ্যে রয়েছে, সার্ক, বিমসটেক, বিবিআইএন ইত্যাদি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর অনেক সুযোগ আছে। এসব সুযোগ অনুসন্ধানে কাজ করতে হবে।
এছাড়াও গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, সিপিডির গবেষক আফরিন মাহবুব, নেপাল ইকোনমিক ফোরামের সিনিয়র ফেলো আমান পান্ত প্রমুখ।
সময়ের আলো/জেডআই