
ট্রাভেল এজেন্টদের শীর্ষ সংগঠন এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সংগঠনের অভ্যন্তরে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, আটাবের বর্তমান কমিটি অবৈধ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে। একইসঙ্গে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নিষেধ থাকা সত্ত্বেও ‘আটাব অনলাইন’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ শেয়ারহোল্ডারদের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।
এতে আরও বলা হয়, অনিয়মের অভিযোগে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও মহাসচিবের বিরুদ্ধে এরইমধ্যে মানববন্ধন পর্যন্ত হয়েছে। ‘আটাব সংস্কার পরিষদ’ নামের একটি পক্ষ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসক নিয়োগের জন্য আবেদন করে।
এই প্রেক্ষিতে, বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ১৭ ধারা মোতাবেক আটাবের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোতাকাব্বীর আহমেদকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে মোতাকাব্বীর আহমেদ ১২০ দিনের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করবেন। পরবর্তীতে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবেন।
এই আদেশের অনুলিপি যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদফতর, জেলা প্রশাসক (ঢাকা), এফবিসিসিআই এবং আটাবের বর্তমান দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আটাবের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ সময়ের আলোকে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে আদেশ দিয়েছে, তা হাস্যকর, অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য। একটা ভুয়া অভিযোগের ভিত্তিতে যে অর্ডার দেওয়া হয়েছে, মন্ত্রণালয় তা দিতে পারে না। আইনত এটা দেওয়া এখতিয়ার তাদের নাই। যদি কোনো এসোসিয়েশন অকার্যকর থাকত, এজিএম ও অডিট না করতো তাহলে তারা আইন অনুয়ায়ী সেই প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারে। তারা প্রভাবিত হয়ে এমন আদেশ দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করব, আশা করব সরকার এই আদেশ পুর্নবিবেচনা করবে। না করলে তখন আইনগত ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আরআর