অভ্যুত্থানে ইসলামের প্রেরণা
ইসলাম ধর্ম পৃথিবীতে মানবতার শিক্ষা ছড়িয়েছে। এই শিক্ষার উত্তরাধিকার বহন করছে আলেম সমাজ। পৃথিবীর যখন যেখানে জুলুম ও অবিচার মাথা চাড়া দিয়েছে, সেখানেই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে আলেম সমাজ। বাংলাদেশের ইতিহাসেও আলেম সমাজ সবসময় মজলুমের পক্ষে ও জালেমের বিপক্ষে আন্দোলন করে আসছে।
বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়ও আলেম সমাজ দিয়েছে রক্তের নজরানা। ২০১৩ সালের শাপলা আন্দোলন, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন- সবসময়ই আলেম সমাজ ছিল সম্মুখসারিতে এবং রাজপথে রচনা করেছে রক্তদানের ইতিহাস। আলেমদের রক্ত ঝরানোর ইতিহাস নতুন নয়। বদর, উহুদ, কারবালা থেকে শুরু করে শাপলা-জুলাই পুরোটা সময় প্রেরণা জুগিয়েছে ইসলামের মানবতাবোধের শিক্ষা। জুলাই আন্দোলনেও মানুষ রাজপথে নামাজ আদায় করেছে, ঘরে ঘরে নারীরা রোজা রেখেছে, দোয়া-মোনাজাত করেছে। অনেক মানুষ শহিদ হওয়ার তামান্না নিয়ে রাজপথে অংশগ্রহণ করেছে।
বৈষম্যের বিরুদ্ধে আলেমদের সংগ্রাম
ইসলাম সব ধরনের জুলুম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং যৌক্তিক সংস্কারের পক্ষে। গত বছর জুলাই মাসে বৈষম্যের বিরুদ্ধে জুমার খুতবা দেওয়ায় চাকরি হারান অনেক আলেম। আন্দোলন ও আন্দোলনকারীদের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কারণে চাকরিচ্যুত করা হয় ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদের খতিব মুফতি সাইফুল ইসলাম, ধানমন্ডি সায়েন্স ল্যাবরেটরি মসজিদের খতিব মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফি, মিরপুর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মসজিদের খতিব মুফতি আরিফ বিন হাবিবদের মতো খ্যাতিমান আলেম-বক্তাসহ সারা দেশের অসংখ্য মসজিদের ইমাম ও খতিবদের। শারীরিকভাবেও নির্যাতন ও হেনস্থার শিকার হন অনেক ইমাম-খতিব। তবু তারা জুমার বয়ানে তুলে ধরেন ফেরাউনের জালেমের দাস্তান এবং বিশাল বাহিনীসহ লোহিত সাগরে ডুবে মৃত্যুবরণের করুণ পরিণতির শিক্ষা। আলেমগণ মসজিদ-মাদরাসায় যেভাবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান জানান দেন, জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তেমনি অনলাইনেও সর্বতোভাবে আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
হেফাজতে ইসলামের ঘোষণা
দেশের আলেম সমাজের সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’। ২৪-এর জুলাই-আগস্ট মাসে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়ায় হেফাজতে ইসলাম। তৎকালীন স্বৈরাচার সরকারের সব ধরনের ভয়-শঙ্কা উপেক্ষা করে আন্দোলনের সময় পাঁচটি সাহসী বিবৃতি প্রকাশ করে হেফাজতে ইসলাম। ১৮ জুলাই ২০২৪, বৃহস্পতিবার হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে প্রথম বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতির শিরোনাম ছিল ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে ছয় শিক্ষার্থী হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’।
একই দিনে আরেকটি বিবৃতি প্রকাশ করে হেফাজতে ইসলাম। এর শিরোনাম ছিল, ‘আন্দোলনে শহিদদের জন্য সারা দেশে দোয়ার আহ্বান হেফাজতের’। তারপর ১ আগস্ট ২০২৪, বৃহস্পতিবার প্রচারিত হেফাজতে ইসলামের বিবৃতির শিরোনাম ছিল, ‘আগামীকাল বাদ জুমা দেশব্যাপী দোয়ার আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম’। এতে বলা হয়, ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী দেশের চলমান উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে আগামীকাল বাদ জুমা দেশব্যাপী দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন।’ ২ আগস্ট ২০২৪, শুক্রবার আমিরে হেফাজত আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী স্বাক্ষরিত ও প্রচারিত বিবৃতির শিরোনাম ছিল, ‘শহিদদের রক্তের পথ বেয়েই এ দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে।’ ৪ আগস্ট ২০২৪, রোববার হেফাজতে ইসলামের বিবৃতির শিরোনাম ছিল, ‘ছাত্র-জনতার এক দফার ডাকে সবাই ঢাকা চলুন’। এই ঘোষণায় রাজপথে নেমে আসে দেশের আলেম সমাজ, মাদরাসা শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষ।
যাত্রাবাড়ীতে আলেমদের অবরোধ ও রক্তদান
জুলাই অভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা ছিল পুরোদস্তুর রণক্ষেত্র। সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার সঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছিল আলেম সমাজও। যাত্রাবাড়ী বড় মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা রিদওয়ান হাসান স্বৈরাচার সরকারের নির্মম গণহত্যা দেখে চুপ করে বসে থাকতে পারেননি। তিনি তার মুরুব্বি এবং অন্য আলেমদের সঙ্গে জরুরি পরামর্শ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে যাত্রাবাড়ীর রাজপথে সংহতি সমাবেশ আহ্বান করেন। ৩ আগস্ট সকালে কাজলা পেট্রোল পাম্পের সামনে ‘সাধারণ আলেম সমাজ’ ব্যানারে দেশের পরিচিত আলেমদের নিয়ে সংহতি সমাবেশ করেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সর্বাত্মক সংহতি প্রকাশ করেন। জুলাই মাসের মধ্যবর্তী সময় থেকেই তার নেতৃত্বে যাত্রাবাড়ীর রাজপথে আলেম এবং মাদরাসা শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছিলেন, তবে নির্দিষ্ট ব্যানার ছিল না। ৩ আগস্ট প্রকাশ্যে নিজস্ব ব্যানারে রাজপথে নামেন তারা। আন্দোলনের উত্তাল সময়ে যাত্রাবাড়ী বড় মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ছাড়াও আশপাশের অন্যান্য মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ব্যাপক অবরোধ গড়ে তোলে। জালেমের বুলেটের সামনে বুক পেতে দেয় অনেক আলেম ও মাদরাসা শিক্ষার্থী। এমন একজন বীর জুলাই যোদ্ধা শহিদ মাওলানা খুবাইব বিন আবদুর রহমান (রহ.)। ৫ আগস্ট মধ্যদুপুরে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে দলে দলে পুলিশবাহিনী বেরিয়ে আসে এবং প্রকাশ্যে নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। মাওলানা খুবাইবকে সেখানে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত অবস্থায় গুলি করে হত্যা করে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ। বুকের তাজা রক্ত ঢেলে রাজপথ রাঙিয়ে দেওয়া এই বীর শহিদ আলেম যাত্রাবাড়ী কাজলার পাড়ে অবস্থিত জামেয়া ইব্রাহিমিয়া ইসহাকিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা আবদুর রহমানের ছোট ছেলে। দাওরায়ে হাদিস শেষ করে এই মাদরাসাতেই ইফতা বিভাগে অধ্যয়ন করছিলেন।
বাইতুল মোকাররম থেকে শাহবাগে মিছিল
আওয়ামী লীগের শাসনামলে জুলুমের পক্ষে এবং ইসলামের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল শাহবাগ। অপরদিকে জুলুমের বিপক্ষে এবং ইসলামের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল শাপলা। তাই শাপলা এবং শাহবাগ শব্দ দুটো নির্দিষ্ট জায়গার নাম ছাপিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি প্রতীকী ও রূপক অর্থবোধক শব্দ হিসেবে। বিপরীতমুখী দুই অবস্থান বোঝাতে শব্দ দুটো বহুল আলোচিত। জুলাই বিপ্লবে বিপরীতমুখী দুই স্রোত মিলিত হয়েছিল একই মোহনায়। ২ আগস্ট জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম চত্বর থেকে গণমিছিল শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও আরেকটি মিছিল শুরু হয় এবং দুই মিছিল একই জায়গায় মিশে যায়। পুরো চার কিলোমিটার রাজপথ একাকার হয়ে যায়। তার আগের দিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আবদুল কাদের ঘোষণা করেন শুক্রবারের এই ‘প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল’ কর্মসূচি। ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘গণহত্যা ও গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শুক্রবার মসজিদে জুমার নামাজ শেষে দোয়া, শহিদদের কবর জিয়ারত, মন্দির, গির্জাসহ সব উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন এবং জুমার নামাজ শেষে ছাত্র-জনতার গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।’ ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ঘোষিত কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে রাজপথে নেমে আসেন দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ। বিপুলসংখ্যক মাদরাসা শিক্ষার্থী শামিল হয় প্রার্থনা মিছিলে। মিছিলে আরও যোগ দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, আইনজীবী, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক জগতের মানুষরাও। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী মুখোশ উদোম হয়ে যাওয়ায় সেদিন জুমার নামাজের পর মাথায় টুপি দিয়ে শাহবাগ অভিমুখী পদযাত্রায় অংশ নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান ব্যক্ত করে সুশীল সমাজের অনেক পরিচিত মুখ। গণমাধ্যমকে তাদের স্পষ্ট বার্তা জানাতেও দেখা যায়।
শাহবাগ চত্বরে অবরোধ ভেঙে চরমোনাই পীর
জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশের মানুষের বুকে প্রকাশ্যে গুলি চালানো শুরু হলে রাজপথে নেমে আসেন চরমোনাই পীর এবং তার ভক্ত-মুরিদান। তারা আগস্ট মাসের ৩ তারিখে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশ এবং বিক্ষোভ মিছিল করেন। সে সমাবেশ থেকে চরমোনাই পীর ‘এক দফা’ তথা সরকারের পদত্যাগের দাবি তোলেন এবং ৫ আগস্ট বেলা ১১টায় ‘ঢাকায় গণমিছিল’ কর্মসূচির ঘোষণা করেন। তারপর ৪ তারিখ ছাত্র-সমন্বয়কদের ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গেও সর্বাত্মক সংহতি ঘোষণা করে ভক্ত-মুরিদানের গণমিছিল নিয়ে শাহবাগ অভিমুখে যাত্রা করা হয়। মিছিলটি জাতীয় ঈদগাহ, সুপ্রিম কোর্টের সামনে দিয়ে মৎস্য ভবন মোড় হয়ে শাহবাগ যায় এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের অবস্থানে যোগ দেয়। শাহবাগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি ঘোষণা করেন মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম। যেকোনো কর্মসূচিতে সর্বাত্মক অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বে গণমিছিল শাহবাগ পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা তাদের অভ্যর্থনা জানায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা সৈয়দ ফয়জুল করীমকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে দেখা যায় উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনার তীব্র ঝলক। অনেকেই এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ শায়খে চরমোনাইর হাতে চুমু খেয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করেন। শাহবাগের অস্থায়ী মঞ্চে মাইক হাতে নিয়ে চরমোনাই পীর হাসিনা পতনের চূড়ান্ত ডাক দেন। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সর্বাত্মক সংহতি প্রকাশ করছি। আমরা শিক্ষার্থীদের ঘোষিত প্রতিদিনের কর্মসূচিতে সর্বাত্মক অংশগ্রহণের ঘোষণা দিচ্ছি। যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনার পদত্যাগ না হবে, আমরা রাজপথ ছাড়ব না। আগামীকাল গণভবন অভিমুখে মিছিল নিয়ে ঘেরাও করতে যাব সবাই। এক দফা এক দাবি, খুনি হাসিনা কবে যাবি।’
অভ্যুত্থানে শহিদ ৯২ আলেম ও মাদরাসা শিক্ষার্থী
রাজধানীর বিজয়নগরের কার্যালয় থেকে ‘তরুণ আলেম প্রজন্ম-২০২৪’ সংগঠন প্রকাশ করা হয় ‘জুলাই বিপ্লবে আলেম-শিক্ষার্থী শহিদের তালিকা’। সংগঠনের পক্ষ থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রকাশিত ৮ পৃষ্ঠার খসড়া প্রতিবেদনে প্রথমে স্থান পায় ৭৭ জন আলেম ও মাদরাসা শিক্ষার্থী শহিদের নাম। পরবর্তীতে আরও কিছু নাম যোগ হয়ে প্রায় ৯২ জন জুলাই শহিদ আলেম ও মাদরাসা শিক্ষার্থীর নাম উঠে আসে। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘তরুণ আলেম প্রজন্ম ২০২৪’ সংগঠনের উদ্যোগে ‘জুলাই বিপ্লবে আলেম-শিক্ষার্থীদের অবদান ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় জুলাই বিপ্লবে শহিদ হওয়া আলেম-শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক তালিকাটি প্রকাশ করা হয়। তালিকাটি তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্য মাওলানা অ্যাডভোকেট বিলাল আহমদ চৌধুরী।
৫ আগস্ট জনতার কাতারে আলেম সমাজ
প্রায় দুই হাজার শহিদ এবং ৩০ হাজার আহত ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ঘটে অভ্যুত্থান। স্বাধীন দেশে পরাধীনতার জাঁতাকলে নিষ্পেষিত জনগণ সে দিন দ্বিতীয়বার ফিরে পায় স্বাধীনতার স্বাদ। সমগ্র দেশের মানুষ সেদিন একযোগে রাজপথে নেমে আসে এবং উদযাপন করে কেয়ামত পেরিয়ে পাওয়া বিজয়ের নেয়ামত। সেদিনটি ছিল মহররম মাসের ২৯ তারিখ, যে মাসে পতন হয়েছিল অতীতের এক জালেম ফেরাউনের। জাতি-ধর্ম-শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ছিলেন আলেম-ওলামা এবং মাদরাসা শিক্ষার্থীরাও। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা পয়েন্টে এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় এদিনও শহিদ হন অনেক আলেম ও মাদরাসা শিক্ষার্থী, যা শহিদ আলেমদের তালিকায় স্থান পেয়েছে। সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজপথে যেভাবে আলেম সমাজ অংশগ্রহণ করে, ঠিক অন্যদিকে দেশকে নতুনভাবে গড়তে বঙ্গভবনে মুসলিম জনতার প্রতিনিধিত্ব করেন মাওলানা মামুনুল হক, পীর সাহেব চরমোনাই এবং এক দল শীর্ষস্থানীয় আলেম। জুলাই অভ্যুত্থানে আলেমদের বহুমুখী অংশগ্রহণ ও অবদান দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এএডি/