ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা।
ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘৩৬ জুলাই: আমরা থামবো না’ শীর্ষক এক কর্মসূচিতে এই ছবিগুলো প্রদর্শন করা হয়।
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এটিকে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে দেখছেন।
বুধবার (৬ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ঢাবির ২৮ জন সাবেক শিক্ষার্থী এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি, টিএসসিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ৩৬ জুলাই: আমরা থামবো না’ শীর্ষক একটি কর্মসূচিতে বাঙালি জাতির মহানায়ক ৭ বীরশ্রেষ্ঠকে ব্যঙ্গ করে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ৭ শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর ছবি ও নাম প্রদর্শিত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আমাদের মুক্তিসংগ্রামের বীজ রোপিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা বর্ষণ, নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারী হত্যা করে। ১৪ ডিসেম্বর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের প্রায় ৩০০ জন শহীদ হন।
সাবেক শিক্ষার্থীরা মনে করেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের ছবি ও নাম প্রদর্শন জাতির আত্মত্যাগ এবং মুক্তিযুদ্ধের অবমাননার শামিল। এই ঘৃণ্য কাজের নিন্দা জানানোর ভাষা তাদের জানা নেই বলেও তারা উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যতে এ ধরনের তৎপরতা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেওয়ার জন্য তারা সকলের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব ও মর্যাদা এবং পূর্বপুরুষদের আত্মত্যাগকে সমুন্নত রাখার জন্য বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
সাবেক শিক্ষার্থীদের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন- সৈয়দ বদরুল আহসান, ড. নীরু কামরুন নাহার, ড. ওমর সেলিম শের, ড. এবিএম নাসির, ড. আবু নাসের রাজীব, ড. মোহাম্মদ মাহমুদ হাসান, ড. শামীম আহমেদ, সুলতানা রহমান, হারুন আল রশিদ, অপর্ণা পাল, শাকিলুর রহমান, সরদার ফারুক, আবদুল্লাহ আল ইমরান, কে এম মাসুদ আলী, ফকরুল ইসলাম চৌধুরী, খালেদ আহম্মেদ শামীম, আব্দুল কাদের মিলু, মোহাম্মদ চৌধুরী বিপ্লব, আহম্মেদ হোসেন, রিয়াজ আহমেদ, আসমা হক, সোহানা আমিন, মাসুদুল ইসলাম, আলী নুর, সাইদুল ইসলাম, দেবরাজ দেব, মেহেরুন নাহার মেঘলা, সানজিদা আনোয়ার প্রীতি প্রমুখ।