জ্বর হলেই অবহেলা নয়

ফারাহ বিনতে ফারুক

চিকিৎসাপত্র

বর্ষার শুরুতেই ঘরে ঘরে বাড়ে রোগের ভোগান্তি। ঠান্ডা-জ্বর-হাঁচি-কাশি হয়ে ওঠে নিত্যদিনের ঘটনা। সেখানে যুক্ত হয় ব্যথা, বমি বমি ভাব, র‌্যাশ

2025-08-18T01:29:47+00:00
2025-08-18T01:29:47+00:00
 
  রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬,
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
চিকিৎসাপত্র
জ্বর হলেই অবহেলা নয়
ফারাহ বিনতে ফারুক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫, ১:২৯ এএম   (ভিজিট : ২০০)
প্রতীকী ছবি
বর্ষার শুরুতেই ঘরে ঘরে বাড়ে রোগের ভোগান্তি। ঠান্ডা-জ্বর-হাঁচি-কাশি হয়ে ওঠে নিত্যদিনের ঘটনা। সেখানে যুক্ত হয় ব্যথা, বমি বমি ভাব, র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি। জ্বর এলেই ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ছে সবাই। আছে অস্থিসন্ধিতে ব্যথাও। আবার অন্যান্য রোগজীবাণু ছাড়াও থাকতে পারে মশাবাহিত রোগ-জীবাণুর সংক্রমণ। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তা ধরা নাও পড়তে পারে। এ বছর ডেঙ্গু জ্বরের পাশাপাশি চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাবও বেড়েছে, একই সঙ্গে আছে ‘জিকা’র সংক্রমণও। এ ছাড়া সিজনাল ফ্লু, টাইফয়েড, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, প্রস্রাবে সংক্রমণের মতো সমস্যার কারণেও জ্বর হতে পারে। ঠিক কী কারণে জ্বর হচ্ছে তা জানতে উপসর্গকে অবহেলা না করে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা জরুরি। তবে কোনো বিশেষ কারণ ধরা না পড়লেও সাবধান থাকতে হবে। কারণ জ্বর কোনো রোগ নয়, রোগের লক্ষণ মাত্র। 

প্রাথমিকভাবে করণীয় 

করোনাভাইরাস, চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু জ্বর আর জিকা ভাইরাসের উপসর্গ প্রায় কাছাকাছি। করোনার ক্ষেত্রে অনেক সময় উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে। তবে কারণ যাই হোক না কেন, জ্বর এলেই যে বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, তা হলো পর্যাপ্ত পানি বা তরল গ্রহণ। এটিই সবচেয়ে জরুরি। কেবল জ্বরের কারণেই পানিশূন্যতায় ভোগে শরীর অবসন্ন হয়ে পড়তে পারে। 

জ্বর বেশি বেড়ে গেলে মাথায় পানি দিন। গোসল করলেও স্বস্তি পাবেন। উপসর্গকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক চিকিৎসা করতে হবে। জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল খাবেন। আলাদাভাবে কোনো ব্যথানাশক না খাওয়াই ভালো। কারণ ব্যথানাশক ওষুধ ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণের আশঙ্কা বাড়ায়। তাই রোগ নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যথানাশক না খেয়ে বরং ব্যথাযুক্ত স্থানে ২০ মিনিট পরপর দুই বেলা গরম সেক নিন। এতে আরাম পাবেন। আর বমি বা পাতলা পায়খানার ক্ষেত্রে ওরস্যালাইন খাবেন। শরীর যেন কোনোভাবেই পানিশূন্য না হয়ে পড়ে সে ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। তবে শুয়ে শুয়ে মোবাইল স্ক্রল করা যাবে না। শরীরের সঙ্গে চোখজোড়াকেও বিশ্রাম দেওয়া দরকার। জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।
 
চিকিৎসকের পরামর্শ 

শুরু থেকেই যদি জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গের তীব্রতা বেশি থাকে, তা হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করবেন না। মাঝারি তীব্রতার উপসর্গ থাকলে দিন তিনেক অপেক্ষা করতে পারেন। এর মধ্যে উন্নতি না হলে অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তবে কিছু বিপদচিহ্নের বিষয়ে খেয়াল রাখুন। মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, তীব্র পেট ব্যথা, শরীরে পানি আসা, বারবার বমি হওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা বা নিস্তেজ বোধ করার মতো উপসর্গ দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যান। শরীরের ভীষণ অস্বস্তি হলে, অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে আপনার প্রথম কাজটিই হবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া। নারীর ক্ষেত্রে জ্বরের সময় বা জ্বরের কিছুদিন পর মাসিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণও একটি বিপদচিহ্ন হয়ে উঠতে পারে। সতর্ক থাকুন সেটি নিয়েও।
 
সচেতন থাকুন 

ভাইরাসজনিত জ্বরের ক্ষেত্রে কখনো কখনো সব ধরনের পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসতে পারে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোন ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে তা বোঝা যায় না। জ্বরের কততম দিনে কোন পরীক্ষা করা হচ্ছে, তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমে ডেঙ্গু জ্বরের কথাই ধরা যাক। ডেঙ্গু জ্বর হয়ে থাকলেও জ্বরের কিছুদিন পেরিয়ে যাওয়ার পর ডেঙ্গু এনএসওয়ান অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসবে। আবার শুরুতেই যদি ডেঙ্গু অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়, তখন সেটি নেগেটিভ আসবে। জ্বরের কারণ খোঁজার পরীক্ষা নিজে নিজে না করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আবার ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া আর জিকা ভাইরাস শনাক্ত করার আধুনিক পরীক্ষা হলো আরটি-পিসিআর, যার মাধ্যমে রোগনির্ণয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে দেশের সব চিকিৎসাকেন্দ্রে এই পরীক্ষার সুযোগ নেই। এমনকি বিপদচিহ্ন থাকলেও পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সব ধরনের পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এলেও জ্বরকে অবহেলা করা যাবে না। পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও কিছু রক্ত পরীক্ষা থেকে চিকিৎসক ধারণা করতে পারেন কোন ধরনের সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। সে অনুযায়ী তিনি পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গতি নেই। 

লেখক : চিকিৎসক, মেডিসিন বিভাগ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড।

এমএইচ


Loading...
Loading...
চিকিৎসাপত্র- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: