বর্তমানে নারীদের একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা জরায়ু বা ডিম্বাশয়ে সিস্ট হওয়া। ওভারি বা ডিম্বাশয়ে পানিপূর্ণ থলেকে সিস্ট বলা হয়। অনেক সময় অবিবাহিত কিশোরীরাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যদিও অনেক ক্ষেত্রেই এটি ক্ষতিকর নয়, তবে উপেক্ষা করলে তা মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
নারীরা অনেক ধরনের সিস্টে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। যেমন– ফাংশনাল সিস্ট, পলিসিস্টিক (পিসিওএস) সিস্ট, অ্যান্ডমেট্রিওটিক সিস্ট, ডারময়েড সিস্ট এবং সিস্ট এডোনোমা। তবে একাধিক সিস্টকে একত্রে পলিসিস্ট বলা হয়।
ওভারি বা ডিম্বাশয় ফিমেল রিপ্রোডাক্টিভ অঙ্গগুলোর মধ্যে অন্যতম। ছোট ছোট সিস্ট পুঁতির মালার মতো ওভারি বা ডিম্বাশয়কে ঘিরে রাখে। এই সিস্টের জন্য ওভারির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
যেভাবে সিস্ট হয়
ওভারি বা ডিম্বাশয় হলো জরায়ুর পাশে অবস্থিত দুটি গ্রন্থি, যেখান থেকে নারীদের হরমোন নিঃসরণ হয় এবং ডিম্বাণু পরিপক্ব হয়। কখনো কখনো ওভারিতে ছোট ছোট পানিভর্তি থলে বা সিস্ট গঠিত হয়, যা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়। সবচেয়ে সাধারণ হচ্ছে ফাংশনাল সিস্ট, যা ডিম্বস্ফুটন ঠিকভাবে না হওয়ায় তৈরি হয়।
ওভারিয়ান সিস্ট রোগের কারণ
১. অনিয়মিত সেক্স লাইফ, হরমোনের সমস্যা, অল্পবয়সে ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার কারণে সিস্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ২. কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালে এ সমস্যা হতে পারে। ৩. এ ছাড়া দেরিতে বিয়ে, দেরিতে সন্তান নেওয়ার কারণেও এ সমস্যা হতে পারে। ৪. বংশগত।
কিছু সিস্ট আছে, যা ক্যান্সারিয়াস (ম্যালিগন্যান্ট) হয়। সাধারণ কিছু লক্ষণের মাধ্যমে এ রোগ প্রকাশ পায়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে যদি এ রোগের চিকিৎসা শুরু করা যায়, তবে তা সারিয়ে তোলা সম্ভব। তবে তার আগে আমাদের সিস্ট হওয়ার লক্ষণগুলো জানতে হবে।
এই রোগের লক্ষণ
এই রোগের কিছু লক্ষণ রয়েছে। যেমন- অনিয়মিত ঋতুস্রাব, মাসিকের সময় মারাত্মক ব্যথা, তলপেট ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবে সমস্যা, বমিভাব, তলপেটে ব্যথার সঙ্গে হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি পায়। তবে যদি ক্যান্সার দেখা দেয় তা হলে ওজন কমে যাবে।
ওভারিতে সিস্ট দেখা দিলে ডায়রিয়া অথবা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া ওভারিয়ান সিস্ট হলে পেট ফাঁপা, বুক জ্বালাপোড়াও হয়ে থাকে। এই রোগ হলে পিঠে চাপ পড়ে এবং তা থেকে ব্যথা সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ এ কারণে থাইয়ে ব্যথা অনুভব করে থাকেন।
চিকিৎসা
ওপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে বিয়ে করা এবং সন্তান নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
যদি বংশে কারও সিস্ট থাকে, তবে ঝুঁকি বেশি থাকে। সে ক্ষেত্রে সন্তান গ্রহণের পর ডিম্বাশয় ফেলে দেওয়া যেতে পারে।
ওভারিয়ান সিস্টের লক্ষণগুলো অবহেলা না করে নিয়মিত চেকআপ করানো ও সচেতনতা বাড়ানোই পারে সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে।
সময়ের আলো/এসটিও