প্রণোদনার বীজ আমদানিতে অমিত-বঙ্গ সিন্ডিকেট বহাল

অর্থনীতি

সরকার সারাদেশের কৃষকদের মৌসুম অনুযায়ী বিভিন্ন ফসলের প্রণোদনা দিয়ে থাকে। প্রণোদনার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় বিদেশ থেকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের

2025-08-26T18:04:32+00:00
2025-08-26T18:10:14+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
প্রণোদনার বীজ আমদানিতে অমিত-বঙ্গ সিন্ডিকেট বহাল
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫, ৬:০৪ পিএম  আপডেট: ২৬.০৮.২০২৫ ৬:১০ পিএম
প্রতীকী ছবি
সরকার সারাদেশের কৃষকদের মৌসুম অনুযায়ী বিভিন্ন ফসলের প্রণোদনা দিয়ে থাকে। প্রণোদনার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় বিদেশ থেকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে বীজ আমদানি করে। পরে তা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) মাধ্যমে কৃষকের হাতে পৌঁছে দেয়। এ বছর ডিএই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমেও সরাসরি বীজ কিনেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বীজ আমদানির এই লুটপাটের সঙ্গে সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও সাবেক সচিব ওয়াহিদা আক্তারের লোকজনের সিন্ডিকেট জড়িত ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও সেই সিন্ডিকেট বহাল রয়েছে। তাদের অনিয়মের কারণে চলতি মৌসুমে যথাসময়ে বীজ না পেয়ে মেহেরপুর ও উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এভাবে নিম্নমানের ভেজাল বীজ কৃষকের হাতে তুলে দিয়ে কোটি কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে।
 
বিগত আওয়ামী লীগের সময় সাবেক এমপি মাশরাফি বিন মর্তুজার আত্মীয় পরিচয়দানকারী কৃষিবিদ জিল্লুর রহমান সাবেক কৃষি মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে খামারবাড়ি এবং বিএডিসির বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করত। বিভিন্ন প্রকল্পে তার আত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান বঙ্গ এগ্রিটেকের মাধ্যমে করানো হয়। কৃষি মন্ত্রী ও বিএডিসির একজন কর্মকর্তার প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ভারত থেকে নিম্নমানের বীজ (ভুট্টা, সূর্যমুখী, পেঁয়াজ বীজ-এন-৫০) আমদানি করে কৃষকদের প্রদান করে। উক্ত বীজ কৃষকরা বপন করে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলতি বছরও বঙ্গ এগ্রিটেক প্রতিষ্ঠানটি সময়মতো কৃষকদের বীজ সরবরাহ করতে পারেনি। এতে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে মেহেরপুর ও মুজিবনগরে সাত টন বীজ চাষীদের হাতে এখনও পৌঁছায়নি। 

সংস্লিষ্টরা জানান, প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেট যথাসময়ে বীজ দিতে না পারার কারণে মেহেরপুরের কৃষকরা বিপদে পড়েছেন। মৌসুম শেষ হওয়ায় বর্তমানে এই বীজ দিয়ে চাষিদের আর কোনো কাজে আসবে না। ফলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। 

কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিএডিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, ভারতীয় কাবেরী সিড কোম্পানির প্রতিনিধি অমিত দাস এবং বঙ্গ এগ্রোটেকের একজন ব্যবসায়ীক পার্টনারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও বিএডিসি ও ডিএই’র বীজ সরবরাহসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে। বিগত কয়েক বছরে সাবেক কৃষি মন্ত্রীর ছাত্রছায়ায় উক্ত প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের বীজ সরবরাহ করে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। বর্তমানে জামাত ও বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অনিয়ম করে কাজ ভাগিয়ে নিচ্ছে। এদের আমদানিকৃত কীটনাশকের গুণগতমানও ঠিক নেই। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। 

সম্প্রতি মেহেরপুরে সময়মতো সরকারি পেঁয়াজ বীজ সরবরাহ না দেওয়াসহ নানান অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ মানহীন পেঁয়াজ বীজ দেয়ার পাঁয়তারা হয়েছে। মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সামসুল আলম বলেন, মান ভাল না থাকায় বীজ পরে ফেরত দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন করে সরবরাহ নেওয়া হচ্ছে। 

একজন কর্মকর্তা জানান, ডিএই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে সরাসরি বীজ সংগ্রহের কারণে নিম্নমানের বীজ দিচ্ছে এই সিন্ডিকেট। কারণ চারশ বা পাঁচশ কেজি বীজ কিনলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে আমদানি না করে স্থানীয় বাজার থেকে নিম্নমানের বীজ কিনে সরবরাহ দেয়। এতে সরবরাহকারি লাভবান হলেও কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কোনো প্রতিষ্ঠান ২০ থেকে ২৫ টনের নিচে আমদানি করার প্রয়োজন না হলে সাধারণত এলসি খুলতে আগ্রহী হন না। তাই ডিএই বা বিএডিসির প্রধান কার্যালয় থেকে দরপত্রের মাধ্যমে ক্রয় করা হলে ভালো মানের বীজ পাওয়া সম্ভব। 


বিএডিসির মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬০ টন এন-৫৩ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ আমদানি করা হয় ভারত থেকে। দাম প্রতি কেজি ২ হাজার ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। চারটি বীজ আমদানি কোম্পানির মাধ্যমে বিএডিসি এই বীজ আমদানি করে। এ জন্য মোট খরচ হয় ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। চলতি অর্থ বছরেও বিএডিসি ও ডিএই বীজ আমাদানী করছে। এখনো সেই পুরনো প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। 

বঙ্গ অ্যাগ্রিটেকের পরিচালক নাজমুল কবির রাসেল বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান কোনো সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নয়। বরং তারা বিগত সরকার আমলে বীজ সরবরাহ করে লোকসান গুনতে হয়েছে। কারণ ওই সময়ে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করত মন্ত্রিসচিবের কাছের লোক হিসেবে পরিচিত ফারুক নামের একজন। বিএনপির লোক বলে তাদের কোম্পানিকে দূরে সরিয়ে রাখত। 

এ ব্যাপারে কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, বিগত অর্থ বছরে ৯০০ কেজির মতো প্রণোদনার বীজে সমস্যা ছিল। তখন দ্রুত বীজ কোম্পানি লাল তীরের সঙ্গে কথা বলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উন্নত বীজ এনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছিল। পেঁয়াজের বীজ নিয়ে কোনো অনিয়মের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

আরআর


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: