তিন বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের বিদ্যুতের ঘাটতি বেড়েছে। এজন্য কিছু এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) এই ঘাটতি দেড় হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।
পিডিবি জানিয়েছে, কয়লা সংকটে বাগেরহাটের রামপালে অবস্থিত ১,৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। ভারতের আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া বিবিয়ানার একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ আছে। এ হিসেবে ১৭শ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি মেটাতে তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করার সম্ভবনা রয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা সংস্থানের চেষ্টা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোড শেডিং হয়। তবে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লোডশেডিং হাজারের নিচে নেমে আসে। পরিস্থিতি অনেকটা অনুকূল রয়েছে।
পিজিসিবির ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ৯টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে ১৪,৮৮০ মেগাওয়াট, এর বিপরীতে চাহিদা ছিল ১৬,২৫০ মেগাওয়াট। সে হিসেবে লোডশেডিং ছিল ১,৩০৮ মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ ১৬৬৪ মেগাওয়াট লোড শেডিং হয় রাত ১২ টায়। বুধবার ভোর ৫ টা থেকে চাহিদা ও লোডশেডিং কমতে থাকে, এসময় লোড শেডিং হয় মাত্র ১৭৭ মেগাওয়াট। দুপুর ২টায় চাহিদার সাথে লোডশেডিং বাড়তে থাকে, এসময় ১৪,৪৮৫ মেগাওয়াট আর লোডশেডিং হয়েছে ৮২৬ মেগাওয়াট। বিকেল ৫টায় লোড শেডিং হয় ১ হাজার মেগাওয়াট।
ঘাটতি মেটাতে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় ৩হাজার মেগাওয়াটের অধিক বিদ্যুৎ তরল জ্বালানি দিয়ে উৎপাদন করা হচ্ছে। একটি কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার আগে আদানী ১৪শ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিলো। এখন করছে মাত্র সাড়ে ৭শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক (জনসংযোগ) শামীম হোসেন সময়ের আলোকে জানান, এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আরও ১ থেকে ২ দিন সময় লাগবে। সাধারণত যান্ত্রিক ত্রুটি হলে ১ থেকে ৩ দিন সময় লাগে। বুধবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা কম রয়েছে। সেজন্য লোডশেডিংও কম হয়েছে।
সাময়িক এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরতে ও সহযোগিতা করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।
সময়ের আলো/জেডআই