নেপালে গত মঙ্গলবার জেনজিদের অভ্যুত্থানে দেশটির পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এমন অবস্থায় নেপালে কমবেশি ৩৫০ জন বাংলাদেশি আটকে পড়েছেন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের সদস্যরাও রয়েছেন। তবে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের সঙ্গে কাঠমান্ডুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। নেপালে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা নিরাপদে আছেন এবং পরিস্থিতি অনুকূলে আসলেই বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নেপালের পরিস্থিতির যতক্ষণ উন্নতি না হয়, আমরা কিছুই করতে পারব না। কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস সেখানে আটকে থাকা নাগরিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। বাংলাদেশিরা সেখানে লক্ষ্যবস্তু হননি। নেপালের জনগণের আমাদের প্রতি কোনো ক্ষোভ বা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নেই। তারা হোটেলে তাদের রাজনৈতিক নেতাদের খুঁজতে গিয়েছিল। যখন তারা দেখলো বাংলাদেশিরা হোটেলে আছে, তখনও তাদের কোনো ক্ষতি করেনি।’ বাংলাদেশিদের ভারত হয়ে দেশে ফেরার কোনো সুযোগ আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘তা সম্ভব নয়, কারণ তাদের কাছে ভারতীয় ভিসা নেই।’
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, নেপালে যে সকল বাংলাদেশি আটকে পড়েছেন তারা মূলত পর্যটক ভিসায় দেশটি বেড়াতে গেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সদস্যরা আটকে পড়েছেন। এই সব মিলিয়ে কমবেশি ৩৫০ জন বাংলাদেশি নেপালে আটকে পড়েছেন। তবে সকলেই সুস্থ এবং নিরাপদে আছেন। কাঠমান্ডুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস নেপালে বসবাসকারী/আটকে থাকা সকল বাংলাদেশি নাগরিককে বাইরে না যাওয়ার এবং নিজ নিজ স্থান/হোটেলে অবস্থান করার জন্য কঠোরভাবে পরামর্শ দিয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশিদের +৯৭৭৯৮০৩৮৭২৭৫৯ অথবা +৯৭৭ ৯৮৫১১২৮৩৮১ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। নেপালের অস্থিতিশীলতার কারণে দেশটির বিমানবন্দর গত মঙ্গলবার বন্ধ হওয়ার পর বুধবার বিকেলের পর আবার চালু হয়েছে। ঢাকার কূটনীতিকরা আকাশপথে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে নেপালের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। আজকালের মধ্যে আকাশপথে বাংলাদেশিদের দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নেপালে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নেপাল সরকার বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই প্রেক্ষিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বুধবারের ঢাকা–কাঠমুন্ডু–ঢাকা ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবারের (৯ সেপ্টেম্বর) ও বুধবারের স্থগিত হওয়া ফ্লাইটসমূহ পরিচালনার বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়া মাত্র যাত্রীদের জানানো হবে। নেপালগামী যাত্রীদের ফ্লাইটসংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যের জন্য বিমানের কল সেন্টার ১৩৬৩৬ বা +৮৮০৯৬১০৯১৩৬৩৬ নম্বরে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
নেপালে অবস্থানরত বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার, এমন তথ্য উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, নেপালে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের দেশে প্রত্যাবর্তন সাময়িকভাবে বিলম্বিত হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দলের দেশে ফেরার কথা থাকলেও পরিস্থিতির অবনতির কারণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সব ফ্লাইট বাতিল করে। ফলে দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাবৃন্দ বর্তমানে টিম হোটেলে অবস্থান করছেন। দলের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দলের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। এ বিষয়ে নেপালস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে, দলের নির্বিঘ্ন প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নেপালের সেনাবাহিনীর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
এছাড়া যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া এবং টিম ম্যানেজার আমের খানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে দলের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং দেশে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আশ্বাস প্রদান করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আরো জানিয়েছে, ৩৬ সদস্যের বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের পাশাপাশি, মিরপুরের ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) থেকে ৫১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল, যারা তাদের বিদেশ শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে নেপালে গিয়েছিল, তারা কাঠমান্ডুতে আটকে আছে। তাদের প্রতিদিনের কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে এবং ১২ সেপ্টেম্বর তাদের ঢাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের স্থানীয় সমন্বয়কারীর মাধ্যমে তাদের সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ রাখছে।
সময়ের আলো/জেডআই