জ্বালানি খাতে নারীদের শক্তিশালী স্টেকহোল্ডার হিসেবে অংশগ্রহণের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)-এর উইমেনস এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড এনার্জি (উই) প্রকল্পের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজন করা

2025-09-12T15:53:08+00:00
2025-09-12T15:53:08+00:00
 
  বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
জাতীয়
জ্বালানি খাতে নারীদের শক্তিশালী স্টেকহোল্ডার হিসেবে অংশগ্রহণের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:৫৩ পিএম   (ভিজিট : ২১৮)
সংগৃহীত ছবি
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)-এর উইমেনস এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড এনার্জি (উই) প্রকল্পের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজন করা হয় উইমেন অ্যান্ড এনার্জি কার্নিভাল ২০২৫। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানটিতে উদ্ভাবক, উন্নয়ন সহযোগী, নীতি প্রভাবক, যুবনেতা ও তৃণমূল নারীরা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন।

প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও নারীদের জীবনের গল্পের মাধ্যমে নারীর অবদানের স্বীকৃতি জানানো হয়। পাশাপাশি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও জেন্ডার-সংবেদনশীল করার উপায় নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এমজেএফ-এর পরিচালক, বনশ্রী মিত্র বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হচ্ছে কিনা তা দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের পাহাড়ি এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। নবায়নযোগ্য জ্বালানির অভাবে নারীদের কাজে অনেক সময় নষ্ট হয়। তাই এই খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।’

উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন এমজেএফ-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, যিনি বলেন, ‘উইমেন অ্যান্ড এনার্জি কার্নিভাল নারীর কণ্ঠস্বরকে আরও জোরালো করবে এবং নারীদেরকে বাংলাদেশের টেকসই ও সবুজ জ্বালানি রূপান্তরের কেন্দ্রে স্থাপন করবে। ধীরে ধীরে সব জীবাশ্ম জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে; তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানিই একমাত্র বিকল্প।’ তিনি নারীর অদৃশ্য শ্রমের স্বীকৃতির গুরুত্বকেও বিশেষভাবে তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথি নায়োকা মার্টিনেজ-ব্যাকস্ট্রম, সুইডেন দূতাবাস, বাংলাদেশ বলেন, ‘জলবায়ু ও জ্বালানি নীতি-নির্ধারণে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে জোরদারভাবে এগিয়ে নেওয়ার সময়।’

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) এর উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জলবায়ুর আলোচনায় নারীর ভূমিকা অপরিসীম। গ্রিন ফাইন্যান্সের মতো ক্ষেত্রে নারীর অবদান অনেক সময় পুরুষদের থেকেও বেশি। নারীদের স্টেকহোল্ডার হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ভবিষ্যৎ কেন্দ্রীয় থেকে স্থানিক উৎপাদনের দিকে যাবে। রক্ষণাবেক্ষণে নারীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি প্রণয়নে জেন্ডার সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক।’

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর সদস্য সচিব ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, ‘সামাজিক আন্দোলন শুধু প্রজেক্ট হিসেবে দেখলে হবে না। নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। নারীদেরকে কেবল স্টেকহোল্ডারই নয়, প্রকল্পের সমান অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।’

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশন এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার তানজিনা দিলশাদ বলেন, ‘নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ এখনো কম। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নারীর অংশগ্রহণ ইতিবাচক। ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিশ্চিত করবে, জ্বালানি রূপান্তরে নারী পিছিয়ে থাকবে না।’

উইমেন অ্যান্ড এনার্জি কার্নিভাল ২০২৫ প্রমাণ করে যে, নারীর ক্ষমতায়ন কেবল অধিকার নয়, বরং উদ্ভাবন, স্থিতিস্থাপকতা ও অগ্রগতির শক্তিশালী চালিকাশক্তি। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথে একটি মাইলফলক।

প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং উদ্ভাবনের স্বীকৃতি প্রদান করে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।

এএডি/


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: